artk
৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ভারতে ঘূর্ণিঝড় তিতলি
দুজনের মৃত্যু, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখের বেশি মানুষ

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪৫৮ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৬৫৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮


দুজনের মৃত্যু, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩ লাখের বেশি মানুষ - বিদেশ

ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতের ওদিশার দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানার পর ঝড়ে প্রতিবেশী অন্ধ্র প্রদেশে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি মৃত্যুর তথ্যসহ জানিয়েছে, এসময় ঝড়ো বাসাত উঁপড়ে ফেলেছে গাছ আর বিদ্যুতের খুঁটি। ওদিশার উপকূলীয় অঞ্চলের তিন লাখের বেশি সংখ্যক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এসময় এর বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড হয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতেই অন্ধ্র প্রদেশের উত্তরাঞ্চল ও উড়িষ্যার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অন্ধ্র-উড়িষ্যা উপকূলে ‘তিতলি’র আঘাতের খবর দেয় স্থানীয় ও কলকাতাভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

মুখ্য মন্ত্রী নাভিন পাটনায়েক বিপদগ্রস্তদের সহায়তা দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলামে আঘাত হানার সময় ‘তিতলি’র গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। উত্তরের দিকে এসে উড়িষ্যায় আছড়ে পড়ার সময় এর তীব্রতা কিছুটা কমে, সেসময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০২ কিলোমিটার পর্যন্ত।

এদিকে ‘তিতলি’র কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

বুধবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

দেশটির কর্তপক্ষ বলছে, সাইক্লোন তিতলির কারণে ওদিশা থেকে অন্ধ্র প্রদেশের মধ্যকার সকল বিমান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওদিশার আটটি ডিস্ট্রিক্ট- গাঞ্জাম, গজপতি, কুদ্রা, পুরি, জাগাস্টসিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভাদ্রাক এবং বারাসোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। এতে বিদ্যুতব্যবস্থা এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া মাটির তৈরির ঘরগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওদিশার ৫টি উপকূলীয় শহর থেকে কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মারাত্মক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাড়িছাড়া মানুষগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান দেয়া হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের রাখা হয়েছে হাসপাতালে।

আবহাওয়া দপ্তর জানায়, এই সাইক্লোনের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা শেষ হয়েছে। স্থলভাগে রয়েছে এর 'সেন্টার অব আই অব সাইক্লোন'। এখন তিতলি পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তীব্র শক্তির এই ঝড়ের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে গোপালপুর এবং পারাদিপের আবহাওয়া রাডারের মাধ্যমে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

 

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত