artk
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৮:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লাগামহীন ভিএফএস থ্রেডের শেয়ার দর, পুঁজি হারানোর শঙ্কা

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯৪৫ ঘণ্টা, বুধবার ১০ অক্টোবর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৫৪৭ ঘণ্টা, বুধবার ১০ অক্টোবর ২০১৮


লাগামহীন ভিএফএস থ্রেডের শেয়ার দর, পুঁজি হারানোর শঙ্কা - অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে তালিকভুক্ত হয়ে অনেক কোম্পানির শেয়ারদর বিনা কারণেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে ওঠছে। লেনদেনের কয়েক মাসেই ফেসভ্যালুর বহুগুন বেশি দরে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করছে। যা কয়েক মাস না কাটতেই দেখা যায় ওইসব কোম্পানির আসল চরিত্র। তেমনি মাত্র এক মাসে তালিকাভুক্ত হয়েই ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের ১০ টাকার শেয়ার বর্তমানে ৪০ টাকার ওপরে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। এক মাসেই ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ারের দর বেড়েছে চারগুনের বেশি।

তবে কোম্পানিটির লেনদেনের শুরুর প্রথম ১৩ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর গড়ে ৩০ টাকা ঘরের নিচে থাকলেও বর্তমানে তা চলে এসেছে ৪০ টাকার ওপরে।

অপরদিক কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার দর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্যের (এনএভিপিএস) চেয়ে দ্বিগুণ বেশিতে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। বিনা কারণে শেয়ারের দর বাড়ার ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর আশঙ্কা বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, লেনদেন শুরু প্রথমদিনে (৯ সেপ্টেম্বর) ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের ১০ টাকার শেয়ার এক লাফে ৩০.৭০ টাকা উঠে যায়। কেন প্রথমদিনে শেয়ারটির দর এতটা বেড়েছে সেই বিষয়টি এখনও অজানা। কোম্পানিটির লেনদেনের ২য় কার্যদিবসে শেয়ারটির দর সামান্য বাড়ে। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে উল্টোগতিতে হাটে। এর পর কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়া কমার মধ্যে কাটিয়েছে আরও ১০ কার্ষদিবস। এর পরই লাগামহীনভাবে শেয়ার দর বেড়ে মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) ৪২.১০ টাকায় ওঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কারণ ছাড়াই যে কোনো কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে পারে। আবার কমতেও পারে। তবে তার একটা সীমা থাকে। সীমা অতিক্রম করলেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এক কথায় আলামতবিহীন শেয়ার দর বাড়া-কমা মানেই বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর লক্ষণ।

গত ১০ কার্সদিবস ধরে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ার দর লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে প্রায় ১৫.৯০ টাকা।

এর পর কোম্পানিটির শেষ নয় মাসে (জুলাই ১৭ থেকে মার্চ ১৮ পর্যন্ত) আইপিও শেয়ার হিসাব করে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮.৪৪ টাকা। যা বর্তমান চেয়ে ২.২৮ গুণ বেশি দরে শেয়ারটির কেনাবেচা হচ্ছে।

এতো উচ্চ দরে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে, যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অতিউচ্চ দর শেয়ার কেনাবেচা প্রসঙ্গে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ার বাজারের একটি চক্র এই কোম্পানির শেয়ার দর ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়াচ্ছে। এটি কোম্পানির কয়েকজন জড়িত বলেও জানান।

এর আগে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ার দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর পরই কোম্পানি শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার পেছনে কারণ জানতে চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ৭ নভেম্বর নোটিশ পাঠায় ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের কর্তৃপক্ষকে।

এর জবাবে কোম্পানি জানায়, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ার দর বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পিই রেশিও হিসাবে বিনিয়োগ নিরাপদ সংখ্যা এককের ঘরে। তবে ১৫ ঘর পর্যন্ত কিছুটা নিরাপদ ধরা যেতে পারে। পিই এর চেয়ে বেশি হলে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা বাড়ে। এই হিসাবে ৯ সেপ্টেম্বর ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের পিই দাঁড়িয়েছে ২১ পয়েন্ট ওপরে।

ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের পরিশোধিত মূলধন ৮৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ওই হিসাবে শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ৮০০টি। গত ৯ সেপ্টেম্বর লেনদেনে প্রথমদিনে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের ১০ টাকা প্রতি শেয়ারের দর বেড়ে হয়েছিল ৩০.৭০ টাকা। ওই হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ারের দর হয়েছিল ২৬০ কোটি ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬০ টাকা। এক মাসে ব্যবধানে কোম্পানির প্রতি শেয়ার দর বেড়ে ৯ অক্টোবর দাঁড়িয়েছে ৪২.১০ টাকা। এ হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮০ টাকা। এসময়ে কোম্পানিটি মোট শেয়ারের মাধ্যমে মূল্য বেড়েছে ৯৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭২০ টাকা।

এতো টাকা বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই কোম্পানিটির। এটা খুবই রহস্যজনক বলেও মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা আরও বলেন, এক মাসে এতো বাড়া স্বাভাবিক নয়। তাই শেয়ারবাজারের স্বার্থে অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানালেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি)।

শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাবেক পরিচালক রকিবুর রহমান বিনিয়োগকারীকে বেশি ঝুঁকিতে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এই বাজারে অনেক কোম্পানির শেয়ার দর সম্পদমূল্যের নিচে অবস্থান করছে। সেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। সম্পদমূল্যের অধিক দরে শেয়ার কেনাবেচা অপরিপক্ক বিনিয়োগ।”

শেয়ার দর বাড়ার প্রসঙ্গে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) মো. রাসেল বলেন, “কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদশীল তথ্য নেই। কেন দর বাড়ছে সেটা বলতে পারবো না। কারণ আমরা কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করি না এবং কোম্পানির কেউ শেয়ার দর বাড়ানোর কাজে জড়িত নই।”

এনএভিপিএসের দ্বিগুনের বেশি দরে ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে এই প্রসঙ্গে সিএফও বলেন, “এতো দরে কেন শেয়ার ক্রয়বিক্রয় হচ্ছে, সেটা কেবল বিনিয়োগকারীরাই বলতে পারবে। বিনিয়োগকারীরা যদি ঝুঁকিতে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে, তবে সেটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

জানা গেছে, ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে আসা ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০.৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১৬ শতাংশ, বিদেশি ১৮.৩০ শতাংশ ও বাকি ৩৪.৮০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ভিএফএস থ্রেড ডাইং শেয়ারবাজারে ২ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ২২ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি প্লান্ট ও মেশিনারিজ ক্রয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খাতে ব্যবহার করবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য