artk
২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

দেশভ্রমণে সেঞ্চুরির পথে কাজী আসমা আজমেরী

সমস্ত সরকার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩৫৯ ঘণ্টা, শুক্রবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৩৫ ঘণ্টা, শুক্রবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮


দেশভ্রমণে সেঞ্চুরির পথে কাজী আসমা আজমেরী - নারী

খুলনার মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। আসমা জন্মগ্রহণ করেন খুলনার বিখ্যাত কাজী পরিবারে। বড় হয়েছেন খুলনা শহরে। তার বাবার নাম কাজী গোলাম কিবরিয়া। মায়ের নাম কাজী সাহিদা আহমেদ। তাদের দম্পতির এক মাত্র মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। ভ্রমণপিয়াসী মুখ তার।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাভেলার্সদের মধ্য অন্যতম এক নাম কাজী আসমা আজমেরী। আসমা একজন রোটারিয়ান। পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশ থেকে দেশান্তরে। ইতোমধ্যে ৯৬টি দেশ ভ্রমণ করে ৯৭তম দেশ চেচনিয়ায় অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট হওয়ার কারণে তার ভিসা পেতে মাঝে মাঝে অনেক সমস্যা হয়। তবু বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকার বাহক হিসেবেই ঘুরবেন বিশ্বময়। আসমা একশত দেশ ঘুরে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিতে যাচ্ছেন। যিনি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সাংস্কৃতি, প্রকৃতি, দেশের মানুষ সম্পর্কে জানান দিচ্ছেন।

দেশভ্রমণে আর তিনটি দেশ ঘুরলেই আসমা সেঞ্চুরি করবেন। তার দুই চোখ ভরে উঠবে ১০০টি দেশ দেখার আলোয়।

আসমা ছোটবেলায় মায়ের সাথে স্কুলে আসা-যাওয়া করতেন। একদিন স্কুল ছুটির পর তার মা নিতে এলেন না। অবশেষে তিনি একাই সাহস করে বাসার উদ্দেশে হাঁটা শুরু করেন। হাঁটছেন আর তাকিয়ে দেখছেন আকাশটাকে। আকাশ দেখে তার মনে হলো, সে আকাশের শেষ সীমানা দেখবে। কিন্তু আকাশের শেষ সীমানা আর দেখা পায় না। সে দিন তিনি বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাঁটেছিলেন। পরে কাজী বাড়ি ছোট্ট মেয়েকে দেখে এলাকাবাসী আসমাকে ধরে নিয়ে বাসায় পৌঁচ্ছে দেন।

আসমা বলেন, ‘‘আমার বাবা কাজী গোলাম কিরবিয়া মাঝে মাঝে আমার সাহস পরীক্ষা করতেন। এবার বাবা খুলানায় তারের পুকুরের বৈশাখ মেলায় নিয়ে আমাকে একা একা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দূরে লুকিয়ে। আমি একা হয়ে ভয়ে কান্না করছিলাম। মেলার লোকজন মাকে নানা রকম প্রশ্ন করত। তোমার নাম কি? তোমার বাসা কোথায়? তোমার বাবার নাম বলো? আমি কান্না করতে করতে সঠিক উত্তর দিতাম। দূরে থেকে বাবা শুনে আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বলতেন, তুমি পারবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।”

আসমা বড় ইকবালনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর এবং খুলনা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভাসির্টি থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে (বিবিএ) মার্কেটিং-এ স্নাতক করেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভাসির্টির একই বিষয়ে এমবিএ করেন। আসমা এখন থাকেন নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে সারা দুনিয়া ঘুরে লাটাই সুতার টানে ফিরে যান বাংলাদেশে। আবার পাখির মতো উড়াল পরবর্তী না দেখার দেশে।

কাজী আসমা আজমারী বলেন, ‘‘আমি শৈল্পিকভাবে ইবন বেতুর, ঠাকুরমার ঝুলি, তেপান্তরের রাজ্যকন্যার গল্পে শুনে আমার শৈশবে কল্পনায় তাদের মনে মনে ভাবতাম। কিন্তু তারপর তাদের ছেড়ে দেওয়া যায় না। তাই আমি স্বাবলম্বী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। চাকরি করে স্বাবলম্বী হই। তারপর শুরু করি ভ্রমণ। স্বপ্ন নিয়ে আনন্দের সাথে দেশ ভ্রমণ করে চলছি।”

তিনি আরো বলেন, “আমি জনপ্রিয়তার জন্য দেশ ভ্রমণ করছি না। প্রথমে দেশ ভ্রমণ করে নিজের শখ থেকে। শখের বশত ভ্রমণ শুরু করলেও এখন অনুভব করি, ভ্রমণের মাধ্যমে নিজ দেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরা যায়। সেটা আমাকে বেশ আনন্দ দেয়।’’

খুলনাবাসীর জন্য কাজী আসমা আজমেরী বলেন, ‘‘আমি যেহেতু কাজী বাড়ির মেয়ে। তাই খুলনাবাসীর প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে। আমি ১০০টি দেশ ভ্রমণ শেষে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে খুলনায় এসে একটা চক্ষু হাসপাতাল, একটি ডেন্টাল হাসপাতাল ও একটি ট্রেনিং সেন্টর এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। এ জন্য আমি খুলনাবাসীর সহযোগীতা চাই।’’

কাজী আসমা আজমেরী ২০০৭ সালে প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ডে দিয়ে ভ্রমণ যাত্রা শুরু করেন। এর পর ২০০৯ সালে ভারত, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং।

২০১০ সালে কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই, চীন, ম্যাকাউ, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, তুরস্ক, মিশর, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১১ সালে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান।

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, কুক দ্বীপ, টঙ্গা। ২০১৩ সালে নিউ ক্যালেডোনিয়া, তাহিতি, সলোমন দ্বীপ, নিউ, কিরিবাটি তাইওয়ান, ভানুয়াতু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট। ২০১৪ সালে মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাডর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর। ২০১৫ সালে পোর্ট রিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতি, বেলিজ, জ্যামাইকা, বাহামা, আরুবা। ২০১৬ সালে ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো, কোসোভো, আবলানিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, মোল্দাভিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক, ইতালি, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, নরওয়ে, কুয়েত। ২০১৭ সালে কিউবা, সামোয়া, কাতার। ২০১৮ সালে ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, কানাডা, জর্জিয়া, বেলারুশ, আজারবাইজান।

কাজী আসমা আজমেরী এখন অবস্থান করছেন চেচনিয়া। সেখান থেকে তিনি ১০০টি দেশ পূর্ণ করার উদ্দেশে কাজাখস্তন, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তানে যাবেন।

কাজী আসমা আজমেরীর ১০০টি দেশ ভ্রমণ পূরণ করবেন খুব শিগগির। তার স্বপ্ন বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্বের বাকি সব দেশ ভ্রমণ করবেন! তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে পৃথিবীর বাকি দেশের পথে পথে! সেই সাথে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে চলবে তার বিশ্বভ্রমণ। ভ্রমণ বিশ্বে বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়বেন খুলনার মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত