artk
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৯:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চোর-চুরি বনাম দেশের অগ্রগতি!

মো. রেজাউল করিম | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০০৯ ঘণ্টা, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১৫২ ঘণ্টা, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮


চোর-চুরি বনাম দেশের অগ্রগতি! - অসম্পাদিত

চোর শব্দটি বিশেষ্য আর চুরি শব্দটি কর্ম। চোর আর চুরি নিয়েই লিখতে চাই। এ প্রসংগে ২টি বিষয়ে একটু আলোকপাত করছি। চুরি করা অন্যায় ও মহাপাপ। এটি বিশ্বের যে কোন ধর্মই মানছে। অন্যের সম্পদ বা তথ্য চুরি করা নিঃসন্দেহে অনৈতিক, অমর্যদাকর ও লজ্জাজনক একটি কাজ। তবে চুরি কম-বেশি শ্রম বা সময় সাপেক্ষ কাজ হলেও এটিকে কোন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না কেউই। কারণ অবৈধ কাজকে আইন অনুমোদন করে না।

চোরকে কয়েক রকমের হতে পারে। যেমন-
ক. ঘরের চোর
খ. সিদ কাটা চোর
গ. পকেটের টাকা চোর
ঘ. অন্যের লেখা বা তথ্য চোর

নিজ গৃহের চোর: নিজ গৃহের চোর সম্পর্কে আমজনতার ধারণা খুব একটা খারাপ নয়। সময় সময় আমরা একে সমর্থনও করে থাকি। যেমন ধরা যাক, বাবার মানিব্যাগ হতে সন্তানের টাকা চুরি বা ঘড়ে রাখা লোভনীয় খাদ্য মায়ের অজান্তে না বলে খেয়ে ফেলা।

খ. সিদ কাটা চোর: এরা রাতের অন্ধকারে মানুষের কাচা ঘরের সিদ কেটে, টিনের বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে সুযোগমতো কাজ সেরে পালিয়ে যায়। মানুষের জীবন-মানের উন্নতি হওয়ায় অনেকেই পাকা ঘড়বাড়ি করায় এ জাতীয় চোরদের এই পেশায় এখন সংকট চলছে।

গ. পকেটের টাকা চোর: এরা শহরে, বা গ্রামের হাট-বাজারে সাধু বেশে চলাফেরা করে। ভির বা জটলার মধ্যে নিরীহ লোকদের প্যান্টের পকেট হতে মানিব্যাগ হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

ঘ. লেখা চোর বা তথ্য চোর: এই প্রকার চোরদের প্রাতিষ্ঠানিক চোর বলা যেতে পারে। এরা সাধারণত শিক্ষিত, নম্রভদ্র, বিনয়ী, চতুর, সামাজিক মর্যদাসম্পন্ন, সদালাপী, ক্ষমতাধর, মিষ্টভাষী, কৌশলী হয়ে থাকে। পরিপাটি পোষাকে নিজেদের ভদ্রলোক হিসেবে উপস্থাপন করে। এরা নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল পদে থেকে চুরি করে আংগুল ফুলে কলাগাছ হতে দেখা যায়। তারা অনেকটাই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। এদেরকে না পারে নিয়োগকর্তা ধরতে আবার না পারে নৈতিকতা সম্পন্ন অন্য নিরীহ কর্মীরা ধরতে। কারণ তাতে চাকরি হারানোর ভয় থাকে। তাই তারা অতি স্বচ্ছন্দে ভদ্রবেশে নিরাপদে দিনের পর দিন চুরির কাজ চালিয়ে যান।

এছাড়াও দেশের প্রায় সব জায়গায় নানা ধরনের চোরের দেখা পাওয়া যায়। যেমন- গাড়ির তেল চুরি, ভূয়া ভ্রমণ দেখিয়ে ভ্রমণ বিলের টাকা চুরি, ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ চুরি প্রভৃতি। এ সকল চুরি রোধ করা সম্ভব যদি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের তদারকী বাড়ানো যায়। তবে সেখানেও ভয় থাকে- যদি নিয়ন্ত্রকারী নিজেই ওই কাজে অভিজ্ঞ হন!

সিদকাটা চোর আর লেখা বা তথ্য চোরের মধ্যে সিদকাটা চোর দেশ ও জাতির জন্য ততটা ক্ষতিকর নয়। তবে লেখা বা তথ্য চোর দেশ ও জাতির জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। বুঝে না বুঝে মনমতো অন্যের কষ্টসাধ্য লেখা ও তথ্য চুরি করে নিজেদের নামে ব্যবহার করে থাকে এরা। এতে প্রকৃত লেখক ও গবেষকরা সেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি ভুলভাল তথ্য ও লেখার মাধ্যমে তারা পুরো জাতির ক্ষাতি সাধন করছে।

সিদ কাটা চোর রাতে চুরি করে, এরা মূর্খ তাদের বিকল্প কর্মের ব্যবস্হা নেই, এরা গরীব ও অসহায় এবং সমাজের নীচু স্তরের মানুষ। তাই এদের দ্বারা দেশের বড় ক্ষতির আশংকা নেই। পক্ষান্তরে লেখা ও তথ্য চোরর দিনে চুরি করে আর রাতে স্লিপিং পিল খেয়ে নিরাপদে ঘুমায়। এরা শিক্ষিত, অনেকে বিত্তবান এবং সমাজের উচু স্তরের মানুষ। তাই এদের দ্বারা দেশের বড় ক্ষতির আশংকা থাকে।

দেশ ও জাতির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঘুষ দুর্নীতির পাশাপাশি এ সকল চুরির কারণে দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, তথ্য চুরির মাধ্যমে ভুল তথ্য পরিবেশনা ও প্রকাশনাসহ সত্য ইতিহাস বিকৃতির মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটে। এমন উদাহরণ বিস্তর রয়েছে।

সরকার ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এটি অনেকাংশে কমে আসলেও এর ব্যহার যে চলছে তা পত্রপত্রিকা খুললেই অনুমান করা যায়। এর পাশাপাশি সরকারকে লেখা চোর বা তথ্য চোরদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার অনুরোধ করি। এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি-সামাজিক উন্নয়নের গতি ফিরবে, মানুষের মনেও স্বস্তি মিলবে। কারণ, তখন সঠিক তথ্য ও লেখা পাঠের মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রকৃত ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে সাধারণ মানুষ।

লেখক: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য