artk
৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

‘আন্দোলন ঠেকাতে গোরস্থানেও পুলিশ মোতায়েন করা উচিত’

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২০০ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮


‘আন্দোলন ঠেকাতে গোরস্থানেও পুলিশ মোতায়েন করা উচিত’ - রাজনীতি

আন্দোলন ঠেকাতে গোরস্থানেও পুলিশ মোতায়েন করা উচিত মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গোরস্থানেও সরকারের পুলিশ মোতায়েন করা উচিত।কারণ যদি মৃতরা এসে আন্দোলন করে, সেটাকে প্রতিহিত করবে কে?

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেড় বছর আগে যিনি মারা গেছেন তিনি নাকি পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছেন। যিনি আগস্ট মাসে মারা গেছেন তিনি নাকি সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশকে আক্রমণ করেছেন। যারা জীবিত আছে তারাই শুধু এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে না। যারা মারা গেছে তারাও আ'লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে!

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যখন মিটিং মিছিল করি তখন বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ দেয়া হয়। যাতে কোনও ঝামেলা না হয়। এখন মৃতদের নামে মামলা হচ্ছে। যারা মারা গেছে তারাও নাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এ জন্য গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা দরকার, যদি মৃতরা এসে ঝামেলা করে!

বিএনপির এই নেতা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাশে দরকার। তিনি বের না হয়ে আসলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে যাবে। কাজেই আমরা বলব, তাকে মুক্তি দিন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আলোচনা করে ২০ দলীয় জোট নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, আমরা তো নির্বাচন করতেই চাই। নির্বাচন করতে না চাইলে সংসদ বাতিলের কথা বলব কেন?। নির্দলীয় সরকারের কথা বলব কেন?, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কথা বলব কেন?, ইভিএম না ব্যবহারের কথা বলব কেন?। সেনা মোতায়েনের কথা বলব কেনো? নির্বাচনে যেতে চাই বলেই বলছি। সেই চাওয়া বাস্তবায়নের জন্য আমাদের নেত্রীকে আমাদের পাশে দরকার।

দলটির একাংশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সাবেক নেতা অ্যালবার্ট পি কস্তা প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান প্রশ্ন রেখে বলেন, অনেক বেশি সাজাপ্রাপ্ত আসামি বের হয়ে সরকারের মন্ত্রিত্ব করছেন। আর খালেদা জিয়া বের হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না- এটা অযৌক্তিক কথা। আমরা চাই, সরকার যৌক্তিক আচরণ করুক, মানবিক আচরণ করুক।

অ্যাটর্নি জেনারেল শুধু রাষ্ট্রের প্রধান উকিল নয়, আওয়ামী লীগের প্রধান উকিল বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দারুণভাবে অসুস্থ। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এতই অস্থির যে তিনি বলেছেন, ‘অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি জীবনে আর দেখি নাই। এই প্রথম দেখলাম।’

অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে নজরুল ইসলাম বলেন, কী দেখলেন? আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড যে সুপারিশ করেছে- এটা রাজনৈতিক সুপারিশ। বোর্ড কী বলেছে- খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়নি। অথচ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আমার প্রশ্ন স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি না হলে হাসপাতালে চিকিৎসার দরকার কী?

বৃহত্তর ঐক্যে প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ডানপন্থি, বামপন্থি, মধ্যমপন্থি দল ঐক্য করছেন। সেখানে যে দাবি আসছে সেটার সঙ্গে আমাদের মূল দাবির কোনো তফাত নেই। এতে আমরা আনন্দিত। যে দাবি আমাদের নেত্রী বহুদিন আগে করেছেন সেই একই দাবিতে আজ নতুন নতুন জোট গঠিত হচ্ছে। জনগণের স্বার্থেই তারা এই দাবিগুলো পেশ করছেন। এই দাবিগুলো আদায়ের জন্য আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমি বিশ্বাস করি জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা তার সঙ্গে যারা ভিন্নতা পোষণ করবে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

কারো নাম উল্লেখ না করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দু-একজন ব্যক্তি কি বলে এবং কেন বলে তা বোঝা কঠিন কিছু না। বাংলাদেশ অত্যন্ত ছোট দেশ। এখানে কে কার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত আছেন, কে কোথায় থেকে কী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, কে কার সঙ্গে পরামর্শ করে কী বক্তব্য রাখেন এটা কি বোঝা এত কঠিন? এ রকম ব্যক্তি বা সংগঠন যদি রিস্ক নিতে চায় তাহলে নিজের দায়িত্বে নেবেন। আমরা চাইব, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত