artk
৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নড়াইল-১ আসন
আ. লীগে আসতে পারে নতুন মুখ : হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে বিএনপি

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩০০ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩০১ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮


আ. লীগে আসতে পারে নতুন মুখ : হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে বিএনপি - রাজনীতি

এম শিমুল খান, কালিয়া নড়াইল থেকে ফিরে : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে দেশের রাজনৈতিক সংকট ততই ঘনীভূত হয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এর পরও দেশের অন্যান্য জেলার মতো ৯৩, নড়াইল-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বেশ জোরে শোরেই বইতে শুরু করেছে।

প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল বা জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি শোভাযাত্রা সহকারে ঝটিকা জনসংযোগ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।

নড়াইল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং কালিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নড়াইল-১ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৬ জন।

এ আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কবিরুল হক মুক্তি স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। অবশ্য জয়লাভ করার পরই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে।

গত নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় এমপি হওয়ার পরই এলাকা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এমপি কবিরুল হক মুক্তির বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে রেখেছেন।

নড়াইল-১ আসনে এমপির সরাসরি আশ্রয়-প্রশয়ে হাইব্রিড তথা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে বর্তমান রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় এখানে রাজনীতি বিমুখ হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন আওয়ামী লীগের পুরনো ত্যাগী নেতারা। যে কারণে আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন যোগ্য নতুন প্রার্থীর সন্ধানে রয়েছে দলটি। ফলে আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নড়াইল-১ আসনে এবার প্রার্থীর পরিবর্তন আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
অপরদিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে ২০০১ সালের মতো। নড়াইল-১ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বয়ং আওয়ামী লীগ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বা তার পরিবারে যেকোনো সদস্য এবার প্রার্থী হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সংসদীয় আসন এলাকায়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঝে মধ্যে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, বিভিন্ন উৎসব-পার্বণসহ নানাবিধ সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারের কাছে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে যারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা হলেন- বহুল আলোচিত বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, নড়াইল-১ ও ২ আসনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের নিকট সমান জনপ্রিয় নিজামউদ্দিন খান নিলু, প্রবীণ রাজনীতিক জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক, সৎ যোগ্য মেধাবী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আপোষহীন জনপ্রিয় নেতা মো. শাহীদুল ইসলাম, যুব সমাজের অহংকার জননেতা কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক কাজী সারোয়ার হোসেন, নড়াইলের দানবীর নামে খ্যাত লে. কমান্ডার (অব.) ওমর আলী, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা রুহুল আমীন।

নড়াগাতী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জননেতা হাফেজ হাজি মফিজুল হক, ঢাকা গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতা সাবেক কালিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শাহীন ও কালিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বিএম ইকরামুল হক টুকু।

এছাড়াও ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস। তিনি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। এছাড়া এ আসনটিতে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) অ্যাড. অশোক কুমার ঘোষ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বেশ পদচারণা দেখা যাচ্ছে। ১৪ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। অন্যান্য দলের প্রার্থীদের তেমন কোন তৎপরতা নেই বললে চলে।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপি মুক্তির কোনো সুসম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরে সৎ, যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতাকর্মীদের নানাভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য আর চরম অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্য দিয়ে চলছে এমপির কর্মকাণ্ড। ফলে বেশিরভাগ নেতাকর্মীর মাঝে এখন ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটররা বর্তমান এমপির পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন চায় মনোনয়নের।

এ প্রসঙ্গে নড়াইল-১ আসনের বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি বলেন, “আমি তো চলমান এমপি। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল এখানে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাওয়া স্বাভাবিক। তবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।”

তার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগ রয়েছে এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, “কিছু মুষ্টিমেয় লোক তারা মনে করে মূল আওয়ামী লীগ আর আমরা হাইব্রিড আওয়ামী লীগ। কিন্তু যে অন্যায়গুলো তারা করে তা আয়নায় দেখে না। তাই হাইব্রিডরাই এখন মুল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাইব্রিড বলছেন। আওয়ামী লীগের জন্য তাদের কি ত্যাগ আছে?
কাজেই নড়াইল-১ আসনে আমার কোন বিকল্প নেই ও কোন প্রতিদ্বন্দিও নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেটা মনে করে বলে আমি বিশ্বাস করি।

দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে লে. কমান্ডার (অব.) ওমর আলী বলেন, “ব্যবসায়িক কাজে দূরে অবস্থান করলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে রয়েছে আমার নিবিড় সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকায় দলের স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। দল আমাকে সুযোগ দিলে নৌকার এ আসনটিতে এমপি মুক্তির নিজস্ব বলয় থেকে মুক্ত করে আওয়ামী লীগের প্রকৃত ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এদিকে নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি অটল থাকলেও দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কিন্তু বসে নেই। তারা নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তথা দলের হাইকমান্ড থেকে কী নির্দেশনা আসে নির্বাচন না-কি আন্দোলন? সেদিকেও তাকিয়ে আছেন দলের নেতাকর্মীরা।

দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানায়, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের টানাপোড়েন রয়েছে। এর পরও সরকারি দমন-পীড়নের কারণে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নাজুক বলে মনে করছে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজপথের জনপ্রিয় নেতা সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, ভদ্র ও মার্জিত ডা. হায়দার পারভেজ ও নড়াইল জেলা কৃষকদলের সভাপতি হেমায়েত হোসাইন ফারুক। তবে হামলা-মামলাসহ বিভিন্ন চাপে থাকা বিএনপি তাদের বিপদের নতুন কাণ্ডারীকে খুঁজছেন। এ সুযোগে দলের বাইরের কেউ উড়ে এসে মনোনয়ন নিলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তুজা বলেন, “আমরা কোনভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জেলখানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কী নির্দেশনা দেয় নির্বাচন নাকি আন্দোলন সেদিকে আমরা তাকিয়ে আছি। তবুও আমরা ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি দীর্ঘ দিন সরকারবিরোধী আন্দোলনে খুলনা মহানগরের পাশাপাশি নড়াইল জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত করে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছি। বিধায় দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি অনেকটা আশাবাদী।”

একই প্রসঙ্গে নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দল যদি নির্বাচনে যায় সে ক্ষেত্রে আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত আশাবাদী। আমাদের দলের ভেতরে কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই। বিভিন্ন মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে সরকারি চাপ আছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।”

কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

পাওয়া না পাওয়া আর অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ নিয়ে জেলার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই নানামুখী সমস্যায় রয়েছে।

নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঢাকায় বসে দল পরিচালনা করেন। এছাড়া নিজের লোকদের দিয়ে জেলার বিভিন্ন ইউনিটে পকেট কমিটি গঠন করে একক আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন। যে কারণে দলের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ। ফলে সাংগঠনিকভাবে বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে। এভাবে দুই দলেই রয়েছে সমন্বয়হীনতা।

এমপি মুক্তির বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু গ্রুপ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি, পৌর ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমপি মুক্তি দলের বিরোধিতা করেছেন। ওই নির্বাচনের পর থেকে নড়াইল-১ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিশীল যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় ক্ষোভও রয়েছে দলে। প্রার্থী বাছাই সঠিক হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই এ আসনে বিজয়ী হবে এটা নিশ্চত করে বলা যায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএসকে/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত