artk
৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৯:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মা‌নিকগ‌ঞ্জে ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে

ম‌া‌নিকগঞ্জ সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯৪৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৪৯ ঘণ্টা, শনিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮


মা‌নিকগ‌ঞ্জে ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে - জাতীয়

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপ‌জেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব বিশেষ কর্মসূচির আওতায় গরিব‌দের মধ্যে ১০ টাকা দা‌মে চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে।

সুবিধা ভোগীদের নাম মূল তালিকায় থাকলেও তাদের মাঝে চাল বিতরণ না করে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে‌ছেন, এ প্রকল্পের চাল দেয়ার আগে চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে তাদের নাম বিবেচনা করে উঠে আসে মূল তালিকায়। এ সময় অনেকের হাতে পৌঁছায়নি এসব চাল সংগ্রহের কার্ড।

ডিলাররা খাদ্য বিভাগের যোগসাজসে এসব চাল হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কে‌জি‌তে বিক্রি না করে কালো বাজারে ৩০ থে‌কে ৩৫ টাকা কে‌জি‌তে বিক্রি করছে।

জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকার ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয়ের কার্য়ক্রম শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপ‌জেলায় ৫১৫৩ জনের নামের তালিকা তৈরি করে খাদ্য বিভাগ।

এ তা‌লিক‌ায় নাম অন্তর্ভুক্ত সুবিধাভোগীরা নিধারিত ডিলারদের কাছ থেকে বছরে পাঁচ মাস ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবে । এ জন্য স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের একটি তালিকা করে খাদ্য বিভাগ। তালিকাভুক্তদের উপকারভোগী হিসেবে তাদের হাতে একটি করে কার্ড দেয়ার কথা। কিন্তু তালিকায় নাম থাকলেও অনেকে সরকারের এ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি ডিলার প্রতিবার সুবিধাভোগীদের নামে চাল তুলছে। আবার তাদের নামে টিপসই ও স্বাক্ষরযুক্ত ক‌রে মাস্টাররোল ক‌রে জমা দিচ্ছে খাদ্য অফিসে।

অভিযোগ রয়েছে খাদ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে ডিলাররা কাগজ কলমে তালিকা ঠিক রেখে কালো বাজারে এ চাল বিক্রয় করে দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে শিবালয় উপজেলার সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা উঠলে উপজেলার অনেক এলাকার বেশকিছু সংখ্যক লোক তাদের হাতে সুবিধাভোগী কার্ড না থাকায় এ চাল পাচ্ছে না।

শিবালয় উপজেলার দুর্গম কানাইদিয়া চরের মোহন মণ্ডল জানায়, আমার নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও আমাকে একবার চাল দেওয়ার পর আর দিচ্ছে না। পরের মাসে আবার চাল আনতে গেলে শিবালয় ইউনিয়নের ডিলার আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। আর বলে তোদের আর চাল দেয়া হবে না, দুইশ টাকা নিয়ে চলে যা।

একই এলাকার আমজাদ মৃধা, খইমুদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছে, আমরা চরাঞ্চলের মানুষ। আমাদের এমনিতেই আয়ের তেমন উৎস নাই। অনেক কষ্টে দিনতিপাত করি। সরকারের বিশেষ বরাদ্দে চাল পাওয়ার তালিকায় আমাদের নাম রয়েছে। তবে ডিলারে কাছে চাল আনতে গেলে আমাদের তালিকায় নাম নেই বলে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়।

এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার মিলেনি বলে জানায় তারা।

অভিযোগের ব্যাপারে শিবালয় সদর ইউনিয়নের ডিলার মনোরঞ্চল শীল নকুল জানায়, তালিকায় যাদের নাম আছে এবং যারা কার্ডধারী সবাইকে চাল দেওয়া হচ্ছে। চাল না পাওযার অভিযোগটি সঠিক নয়। তবে কেউ চাল না নিতে আসেন তাহলে ধরে নিতে হবে তারা কার্ড পায়নি।

শিবালয় উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্য সচিব শাহ মো. হেদায়েতুল্লহ জানায়, তালিকায় নাম আছে তার পরও চাল পাচ্ছে না এমন অভিযোগ আমার জানা নাই। আর চাল বিতরণ না করে কালো বাজারে বিক্রির সঙ্গে আমার অফিসের কেউ জড়িত থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হতদরিদ্রদের চাল কেউ মেরে খেলে তা মেনে নেয়া হবে না।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতা (ইউএনও) ও খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান জানায়, মৌখিক বা লিখিতভাবে আমার কাছে সরকারের ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রিতে অনিয়ম এর কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ডিলারশিপ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত