artk
৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

বিস্ফোরক মামলার আবেদন খারিজ, মুক্তি পেলেন মোজাম্মেল

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬২৪ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৫৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮


বিস্ফোরক মামলার আবেদন খারিজ, মুক্তি পেলেন মোজাম্মেল - কোর্ট-কাচারি

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এর পরেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম আবেদন নাকচ করে দেন।

এর পরেই দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোজাম্মেলকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রনপ কুমার ভক্ত।

নিবন্ধন কর্মকর্তা আরো জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিবকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম আজ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “আজ তাকে মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থিত করে পুলিশের পক্ষে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের উপর শুনানী হয়। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মামলা কবে দায়ের করা হয় তা জিজ্ঞেস করলে তিনি তা বলতে পারেননি। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলা সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কোন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান তা-ও নেই। তখন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারাী কর্মকর্তার কাছে জানতে চান- তাহলে কিসের ভিত্তিতে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন দিলেন?” 

“পরে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেলের কাছে জানতে চান তার কোন বক্তব্য আছে কিনা, এর উত্তরে মোজাম্মেল জানান তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে অথচ তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করেন। এই বক্তব্য শোনার পর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দেন। মোজাম্মেল হকের আইনজীবি হিসেবে আমরা চারজন উপস্থিত ছিলাম কিন্তু কোন বক্তব্য রাখার প্রয়োজন হয়নি।”

গত ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বাসা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৬ অক্টোবর ঢাকার মহানগর হাকিম তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠান।

এরপর রিমান্ড শেষে গত ৮ অক্টোবর মিরপুর থানার চাঁদাবাজির মামলায় ফের মোজাম্মেলকে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। অপরদিকে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। শুনানি শেষে দুটি আবেদনই নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। সেটি শুনানির জন্য আজকে দিন ধার্য করেন আদালত।

এর মধ্যে গত ১১ অক্টোবর চাঁদাবাজির মামলায় ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক মোজাম্মেলের জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি না হওয়ায় তিনি সেদিন কারাগার থেকে বের হতে পারেননি। আজ আদালত আবেদন নামঞ্জুর করলে মুক্তির বাধা কেটে যায় মোজাম্মেলের।

মিরপুর মডেল থানায় দুলাল নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মিরপুর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজুল ইসলাম জানান, দুলাল নামের এক ব্যক্তি মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেন।

গত ৩১ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে 'ঈদুল আজহায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৮' প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোজাম্মেল।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর পর থেকে ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে মোট ২৩৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৫৯ জনের। এ তথ্য তুলে ধরে সড়কে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কমিয়ে আনতে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত