artk
৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৬:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

এত বড় আন্দোলনের পরও সচেতনতা তৈরি হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২০০ ঘণ্টা, বুধবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৪৪ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮


এত বড় আন্দোলনের পরও সচেতনতা তৈরি হয়নি: প্রধানমন্ত্রী - জাতীয়

পথচারীদের রাস্তায় চলাচলে সচেতন হতে ও আইন মানার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আক্ষেপের সুরে বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা এত বড় একটি আন্দোলনের পরও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়নি।

বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক-সংক্রান্ত ৯ দফা দাবির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপিত ও বিবেচিত হবে। এ আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘাতক বাস দুটি চালক, হেলপার, মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি আমি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া চার বছরমেয়াদি ন্যাশনাল রোড সেফটি অ্যাকশন প্লান ২০১৭-২০ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে দুজন চালক রাখার জন্য মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন না দেয়া, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন না করা এবং স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত বাস ও ট্রাকের বডি নির্মাণের কারখানাগুলো পরিদর্শন করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির স্পিড কন্ট্রোলের বিষয়ে দূরপাল্লার বিভিন্ন বাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং ট্রাকের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য যতই ব্যবস্থা নেই না কেন, দেশের মানুষের মানষিকতা পরিবর্তন না হলে কিছুই হবে না। অনেকেই ফুটওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহার না করে ছোট শিশুকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির মধ্যে দিয়েই রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুত যানবাহন কীভাবে হঠাৎ করে থামবে? সে বিষয়টিও দেখতে হবে। এ কারণেই দুর্ঘটনা হয়। এখানে ড্রাইভারের দোষ কতটুকু আর ট্রাফিক আইন না মেনে যিনি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন তার দোষ কতটুকু-তাও বিবেচনায় আনা দরকার।

তিনি বলেন, কোথাও দুর্ঘটনা না হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা উচিত। অনেক সময় ড্রাইভার প্রাণের ভয়ে গাড়ি না থামিয়ে প্রাণের ভয়ে দ্রুত গাড়ি টেনে চলে যান। এতে অনেকের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এ ঘটনায় থাকে না। কারণ ড্রাইভারকে অনেক সময় মারতে মারতে মেরেই ফেলা হয়। তাই আইন কারোর হাতে তুলে নেয়া উচিত নয়। আর অনেকেরই রাস্তা পারাপারে জনসচেতনার বড়ই অভাব দেখা যায়। তাই সবার প্রতি অনুরোধ ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত