artk
৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কর ফাঁকিবাজ বিত্তশালীদের ধরতে কমিশনারদের নির্দেশনা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪৪৯ ঘণ্টা, বুধবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৪২ ঘণ্টা, বুধবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮


কর ফাঁকিবাজ বিত্তশালীদের ধরতে কমিশনারদের নির্দেশনা - অর্থনীতি

কর ফাঁকিবাজ বিত্তশালীদের চিহ্নিত করতে কমিশনারেটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। একই সঙ্গে গ্রামের চেয়ারম্যান মেম্বাররা কর দিচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

বুধবার ঢাকার শান্তিনগরের বিসিএস (কর) একাডেমি ভবনে ৩৬তম নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী কর কমিশনারদের ছয় মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব বলেন চেয়ারম্যান। প্রশিক্ষণে ৪২ জন বিসিএস ক্যাডার অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬তম বিসিএসের ক্যাডার ৩৯ জন আর বাকি তিনজন ৩৪তম বিসিএস ক্যাডার।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশের যত বড় বড় ব্যবসায়ী রয়েছে, তাদের করের আওতায় আনতে অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের কমিশনাররা চিহ্নিত করছেন। বর্তমানে আমাদের যে ট্যাক্সেসেশন জোনগুলোর রয়েছে, সেগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ করদাতাদের ফাইলগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি কর ফাঁকিবাজ শহরে বাড়িওয়ালার ও ফ্লাট মালিকদের করের আওতায় এনে করের পরিধি বাড়াতে হবে।

নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন সহকারী কর কমিশনারদের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান বলেন, দেশে মেধাবী কয়েক লাখ কর কর্মকর্তা হবার জন্য পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু সবাই নিয়োগ পায় নাই। তাই নিয়োগপ্রাপ্তরা সাধারণ লোকের মত নয়। তার মানে এই নয় যে, ডাটফাট নিয়ে চলবে এটাও না। মনে রাখতে হবে আমাদের ওপরে রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব রয়েছে। আমাদের মেধা দিয়ে সেই কাজ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে যতটুকু সম্ভব কর আদায় করা যায় সেই ব্যাপারে জোর দিতে হবে। চাপ দিয়ে বেশি কর আদায় বাহাদুরী ব্যাপার না। এসময় করের আওতা আরো বাড়ানোর ওপরে জোর দিলেন তিনি।

আরও বলেন, তোমরা (নতুন সহকারী কর কমিশনার) ইটিআইএন ধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করো। তোমরা তাদের এভাবে আশ্বস্ত করো যে আমরা যতোদিন এখানে আছি ততোদিন আপনাদের সমস্যা নেই। করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানো গৌরবের কাজ। এখানে যারা যোগদান করেছেন, প্রথমে আগামী এক বছরের মধ্যে সবাই ইটিআইএন করে আয়কর ও রিটার্ন জমা দিয়ে দিবেন। পরে প্রতিজনে অন্তত ১০ জন করে ৪শ জনকে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এছাড়া আত্মীয় স্বজনসহ পরিচিত অপরিচিত সবাইকে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গ্রামের কর প্রদানে সক্ষম অনেক ব্যক্তি রয়েছে, যারা করের আওতার বাইরে রয়েছে। তাদের করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এদের করের আওতায় আনতে আমরা সেখানে দক্ষ কর্মকর্তা গ্রামে নিয়োগ দিয়েছি। তাদের কাজ হবে ওইসব কর প্রদানের সক্ষম ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে নয়, বুঝিয়ে করের আওতায় আনাতে হবে।

গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রচারণায় কোটি টাকার ব্যয় করে এমন মন্তব্যে করে তিনি বলেন, এরা নিয়ম অনুসারে কর দিচ্ছে কিনা সেটা আমাদের দেখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইটিআইএন নির্বাচন অফিসে জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের কোন রিটার্নপত্র জমা দেয় না।

সেই ক্ষেত্রে তাদের কর প্রদান বিষয়টি অপরিষ্কার রয়ে যায়। তাই আমাদের সেইসব চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের করের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে গ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কর দিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার ওপরে জোর দেন।

বিসিএস (কর) একাডেমির মহাপরিচালক মো. বজলুল কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কর-৮ এর কমিশনার সেলিম আফজাল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত