artk
১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় থাকছেন যারা

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৪৯ ঘণ্টা, রোববার ১৯ আগস্ট ২০১৮


ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় থাকছেন যারা - বিদেশ

সদ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ২০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছেন ইমরান খান। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।

ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরীর বরাত দিয়ে জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ফাওয়াদ চৌধুরী এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। ওই টুইটে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের ১৫ জন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পাঁচজন উপদেষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইমরানের মন্ত্রিসভার ১৫ জন মন্ত্রীদের মধ্যে-

১. মোহাম্মদ ফারুক নাসিম পালন করবেন আইন ও বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব। ১৯৬৭ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে সিন্ধু প্রদেশের অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুত্তাহিদা কওমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফারুক। তিনি সিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের রাজনৈতিক প্রতারণাবিষয়ক মামলায় আইনবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন ফারুক।

২. প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পারভেজ খটক। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ মে থেকে চলতি বছরের ৬ জুন পর্যন্ত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সেচমন্ত্রী এবং শিল্প ও শ্রমমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। লাহোরের প্রখ্যাত অ্যাচিসন কলেজে পড়াশোনা করা খটক পাকিস্তান পিপলস পার্টির রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

৩. পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন শাহ মেহমুদ কোরেশি। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কোরেশি মুলতানের মেয়র ছিলেন তিনি। ১৯৫৬ সালের ২২ জুন জন্ম নেন কোরেশি। ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাবের সাধারণ পরিষদ ও মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাবের পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৪. পাকিস্তানের বাণিজ্য, রাজস্ব ও অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী হবেন আসাদ ওমর। সিন্ধু প্রদেশের ৩২তম গভর্নর পাকিস্তান মুসলিম লিগের মোহাম্মদ জুবায়েরের ছোট ভাই ওমর। ১৯৬১ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম নেন তিনি। এনগ্রো পলিমার এবং কেমিক্যালসের সাবেক প্রধান নির্বাহী ছিলেন আসাদ ওমর। ২০০৯ সালে বিশেষ সেবামূলক কাজের জন্য তাকে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কার দেয়া হয়।

৫. অভ্যন্তরীণ প্রাদেশিক সমন্বয়কবিষয়ক মন্ত্রী হবেন গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক জোটের ফাহমিদা মির্জা। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১৮তম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফাহমিদা। তিনি মুসলিম বিশ্বের পার্লামেন্টের প্রথম নারী স্পিকার।

৬. প্রতিরক্ষা উৎপাদনবিষয়ক মন্ত্রী হবেন জুবাইদা জালাল। শিক্ষা খাতে অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে তাকে প্রাইড অব পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। বেলুচিস্তান আওয়ামি পার্টির সদস্য তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজের মন্ত্রিসভায় জালাল শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৭. তথ্য ও সম্প্রচার ও জাতীয় ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী হবেন ফাওয়াদ চৌধুরী। পিটিআইয়ের মুখপাত্র তিনি। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভার তথ্য ও রাজনৈতিক বিষয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফের মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক ঘটনাবলিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ছিলেন তিনি।

৭. আওয়ামী মুসলিম লিগের প্রধান শেখ রশিদ আহমেদ রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শেখ রশিদ আহমেদ। পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদে ১৯৮৫ সালে তিনি প্রথম নির্বাচিত হন। আরও ছয়বার পুনর্নির্বাচিত হয়ে তিনি রেকর্ড করেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

৮. পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশনবিষয়ক মন্ত্রী হবেন খালিদ মকবুল সিদ্দিক। ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খালিদ মকবুল সিদ্দিক।

৯. জ্বালানিমন্ত্রী হবেন গুলাম সারওয়ার খান। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুলাম সারওয়ার খান।

১০. শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী হবেন শাফকাত মাহমুদ। ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১১. স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়বিষয়ক মন্ত্রী হবেন আমির মেহমুদ কায়ানি।

১২. স্টেট অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার রিজনবিষয়ক মন্ত্রী হবেন চৌধুরী তারিক বশির শিমা। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৩. ধর্ম এবং আন্তধর্মীয় ঐক্যবিষয়ক মন্ত্রী হবেন নূর-উল-হক কাদেরি।

১৪. মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী হবেন শিরিন মেহেরুননিসা মাজারি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দ্য নেশন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে সেখান থেকে সরে গিয়ে তিনি পিটিআইয়ে যোগ দেন শিরিন মেহেরুননিসা মাজারি।

এ ছাড়া মোহাম্মদ শেহবাজ আরবাব প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপনবিষয়ক, অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল রাজাক দাউদ বাণিজ্য, বস্ত্র, শিল্প, উৎপাদন ও বিনিয়োগবিষয়ক, ইশরাত হুসেন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নৈতিকতা, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ও জহির-উদ্দিন-বাবর আওয়ান পার্লামেন্টবিষয়ক উপদেষ্টা হবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত