artk
১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শোক দিবস
কাঙালি ভোজে এমপি-ওসির পাশে ‘পলাতক’ আসামি

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৩৯ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৩৫ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮


কাঙালি ভোজে এমপি-ওসির পাশে ‘পলাতক’ আসামি - জাতীয়

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে কাঙালি ভোজের খাবার টেবিলে খিচুড়ি খাচ্ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন।

তার পাশে বসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইনুদ্দিন। খাবার টেবিলের একপাশে বসা পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ওসি আজহার আলী সরকার। সংসদ সদস্য ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে কালো গেঞ্জি পরিহিত অপহরণ মামলার পলাতক আসামি কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন মিয়া। অথচ পুলিশের খাতায় সুমন মিয়া পলাতক আসামি।

শোক দিবসে দলীয় সাংসদের সঙ্গে কাঙালি ভোজে বিতর্কিত এই যুবলীগ নেতার যোগ দেয়া নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। সুমন একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার আসামি। পুলিশের কাছে তিনি ওই মামলার পলাতক আসামি। পুলিশ ও দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যের পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ঘটনা প্রকাশ পেলে অবাক হন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন মিয়া গত ৯ আগস্ট কটিয়াদী মডেল থানায় দায়েরকৃত ব্যবসায়ী জুনায়েদ অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক নারীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম আনন্দ কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে কলেজ মিলনায়তনে দুপুরের খাবার খান সাংসদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

পুলিশ জানায়, মুক্তিপণের জন্য এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে গত ৮ আগস্ট রাতে যুবলীগ নেতা সুমন, তার ছোটভাই রাজন ও খালাতো ভাই বাবুসহ সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। এদের মধ্যে রাজন ও বাবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদলাত তাদের জেলহাজতে পাঠান।

অপরদিকে, অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি যুবলীগ নেতা সুমনকে পলাতক দেখালেও তিনি প্রকাশ্যে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশেল ওসি জাকির রাব্বানী বলেন, ১৫ আগস্টে বনগ্রাম আনন্দ কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুষ্ঠানে এমপির সঙ্গে আমি ছিলাম না। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সুমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন বলেন, শোক দিবসের কাঙালি ভোজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমিও অংশ নিয়েছি। আমার পেছনে কোনো মামলার আসামি দাঁড়িয়ে ছিল কিনা সেটি আমার জানা নেই। আমি সুমনকে দেখলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলতাম।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত