artk
৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

বিএনপি ভীতিতে আওয়ামী লীগ ঘুমাতে পারে না: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪৪২ ঘণ্টা, শুক্রবার ১০ আগস্ট ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৩৫ ঘণ্টা, শুক্রবার ১০ আগস্ট ২০১৮


বিএনপি ভীতিতে আওয়ামী লীগ ঘুমাতে পারে না: ফখরুল - রাজনীতি

সরকার বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে বলে মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “কোনো কিছু হলেই সরকার এর সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে দেয়।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের মাঝে বিএনপি ভীতি আছে। তারা যা কিছু হয়, সেখানে বিএনপি দেখতে পায়। মনে হয় বিএনপি ভীতিতে প্রত্যেক রাতে ঘুমাতে পারে না।”

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “পুলিশের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মারপিট করবে, সাংবাদিকদের কোপাবে, আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে আর তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না—এ কথা বিশ্বাস করবে এমন কোনো পাগলও নেই।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, এসব আক্রমণ নাকি বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা করেছে। হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল, এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্রছাত্রীরা বলার পরও তিনি তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন, কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়।”

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগই পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেই পুলিশ তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোশধারীদের মানুষ কোপানোর পর নির্বিঘ্নে সরে যেতে দিয়েছে। এর পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।”

তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিক ও টিভি চ্যানেলগুলোর ওপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখার পরও এই সত্যগুলো টিভি ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে যায়নি এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়ে গেছে।”

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই সরকারি দল ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে অগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের মারপিট করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেলে ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারপিট করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এ সবকিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগিতায়।”

সড়ক আইন নিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে সরকার মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে, তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সংশোধিত এই আইনে ছাত্রছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ, এই আইনে সড়ক পরিবহন খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। আইনে বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনের কোনো বিধান রাখেনি। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কি না, এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ, যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। আর তাই আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত