artk
৭ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২২ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ইবির ২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ইবি সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪১৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ১০ আগস্ট ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২০৩২ ঘণ্টা, শুক্রবার ১০ আগস্ট ২০১৮


ইবির ২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা - শিক্ষাঙ্গন

প্রেমে টানাপোড়নের কারণে ইসলামী বিশ্বদ্যিালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবারসন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ছাত্রী এবং অপরজন (ছাত্র) ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান।

রোকনুজ্জামান রোকন ও মুমতা হেনা আফরোজ নামের ওই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাস্টার্সের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, রোকনুজ্জামান রোকন ও মুমতা হেনা আফরোজের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কে টানাপোড়নের কারণে হেনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। প্রেমিকার এমন আত্মহত্যার কথা শুনে প্রেমিক রোকনও রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মতি মিয়া রেলগেইট নামক স্থানে শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুমতা হেনা আফরোজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়।

রোকনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায়। তিনি কুষ্টিয়ার পেয়ারাতলার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শেখ এমদাদুল হক এ বিষয়ে বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ঝিনুক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় শয়ন কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া ইবি ছাত্রীর উদ্ধার লাশ করা হয়েছে। এখনো আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি, তদন্ত চলছে।”

কুষ্টিয়া পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ বলেন, “পোড়াদাহ থেকে ছেড়ে যাওয়া গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “আমি গতকাল রাত ৮টার দিকে বিষয়টি জানতে পারি। আত্মহত্যাকারী দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে হঠাৎ দুজনই কি কারণে এমন আত্মহুতির সিদ্ধান্ত নিল সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।”

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ওই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় তারা এ শোক ও সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তারা বলেন, রোকনুজ্জামান এবং হেনার পরিবারের সাথে আজ আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা শোকাহত ও ব্যথিত। জীবনে চলার পথে ঘাত-প্রতিঘাত এবং যে কোনো সমস্যা আসতেই পারে। কিন্তু আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের অকাল মৃত্যু কারো কাম্য নয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য