artk
৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রোজ গার্ডেন কিনে কী করবে সরকার?

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০২৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৯ আগস্ট ২০১৮


রোজ গার্ডেন কিনে কী করবে সরকার? - জাতীয়

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘রোজ গার্ডেন’ কিনে নিচ্ছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা।

১৯৪৯ সালে এ বাড়িতেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল, যেটি নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমানের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়েছে।

গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ভবনটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকায় সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবেই রয়েছে, যদিও এটি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি।

জানা যায়, ১৯৩০ সালে হৃষিকেশ দাস নামের এক ধনী ব্যবসায়ী সাত একর জমিতে এ বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
বাংলাপিডিয়ার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সাত হাজার ফুট আয়তনের এ বাড়ির সামনে নানা ভাস্কর্য রয়েছে।

বাড়িটি যখন তৈরি করা হয়েছিল, তখন সেখানে নানা প্রজাতির বিরল গোলাপ গাছ ছিল। আর সে কারণেই এর নামকরণ করা হয় ‘রোজ গার্ডেন’।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, হৃষিকেষ দাসের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে ১৯৩৭ সাল থেকে সেখানে বসবাস শুরু করেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী খান বাহাদুর কাজী আবদুর রশীদ। এরপর ভবনটি রশীদ মঞ্জিল নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে তার বংশধরেরাই এই সম্পত্তির মালিক।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে একটি বৈঠকে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। ওই বৈঠকটি হয়েছিল বর্তমানে পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের কে এম বশির হুমায়ুনের এই বাড়িতেই।

প্রথম বৈঠকে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেকদিন ধরেই বাড়ির মালিক এটি বিক্রি করতে আগ্রহী ছিলেন। সেজন্য তার সাথে সরকারের তরফ থেকে যোগাযোগও করা হয়।

বাড়িটি কেনার পর সরকার এটিকে নিয়ে কী করবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

তবে বাড়িটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তবে এখানে একটি জাদুঘরও হতে পারে বলে তিনি ধারণা দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল কবির বলেন, যদিও 'রোজ গার্ডেন' ভবনটিকে রাজনৈতিক দলের পটভূমি থেকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তবে এর বাইরেও এর স্থাপনা শৈলীর গুরুত্ব আছে।

তিনি বলেন, এটি উনবিংশ থেকে বিংশ শতাব্দীর নিউ-ক্লাসিক্যাল স্থাপত্য স্টাইলের উদাহরণ। ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে সেখানে ভারতীয় স্থাপত্য শৈলীর সাথে ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রণ ঘটে।

এ ধরনের স্থাপনা বাংলাদেশে কয়েকটি রয়েছে বলে কবির উল্লেখ করেন।

সবমিলিয়ে, ‘রোজ গার্ডেন’ স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য