artk
৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৪:২২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

দুর্ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান কেন যুক্ত হবে না?

ফারুক আফিনদী | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১১৯ ঘণ্টা, শনিবার ০৪ আগস্ট ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৩১ ঘণ্টা, রোববার ০৫ আগস্ট ২০১৮


দুর্ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান কেন যুক্ত হবে না? - টুইট-ফেস

১.
প্রায় এক দশক আগে রাজধানীর মতিঝিলে বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত হন। মা তার সন্তানকে রিকশায় করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এক বাস চালক পেছন থেকে রিকশাটিতে ধাক্কা দেন। ধাক্কাটা একটু জোরেই লেগেছিল। একেবারে চাপা পড়ে মা-মেয়ে মারাই গেলেন। এ ঘটনায় ঘাতক বাসচালককে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, “আমি মনে করছিলাম পেছন দিয়ে ধাক্কা মারলে রিকশার ওই মহিলা আমার দিকে তাকাবে।” একজন মায়ের একঝলক ‘তাকানোর’ জন্য ধাক্কা দিতে গিয়ে দুটি প্রাণ মেরেই ফেললো। এটাকে কি করে দুর্ঘটনা বলি। আইনের ধারা অনুযায়ী এতো স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড।

২.
বছর চারেক আগে আমার স্ত্রী শিশু কন্যাকে নিয়ে কেনাকাটার জন্য বের হলেন। আমি ফকিরাপুলে দৈনিকবাংলা মোড়ের কাছে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। আমার স্ত্রী-কন্যা একটা রিকশায় করে সেখানে এলেন। রিকশাটা থামতে না থামতেই পেছন থেকে একটা বাস এসে ধাক্কা মারলো। বাসটা সেখানে স্টপেজ করার জন্য থেমেছিল। ধাক্কাটা না মারলেও হতো। কিন্তু মারলোই। ধাক্কায় আমার স্ত্রী রিকশা থেকে পড়ে গেলেন। ভাবি, এই ঘটনাটা যদি স্টপেজে না হতো তাহলে হয় তো মতিঝিলের ওই মা-মেয়ের পরিণতি হতো।

৩.

সম্ভবত ২০০৯ সাল। রাত ১০টায় বাংলামোটরে অফিস থেকে (দৈনিক বাংলাদেশ সময়) বের হয়ে মোড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমি ও আমার সেই সময়কার সহকর্মী আশিস কুমার সেন। অন্য রুটের একটা বাস ধীর গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল, যেভাবে চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ওঠা-নামা করানো হয়। গাড়িটা যেভাবে চলছিল আমরা নিরাপদেই উঠতে পারতাম। সেভাবেই চেষ্টা করি। দুজনেই গাড়ির রডে ধরে উঠছিলাম। ঠিক তখনি গাড়িটা জোরে টান দিলো। আমরা চিৎকার করছি আর রড ধরে দৌড়াচ্ছি। এমন একটা অবস্থা- গাড়িতে উঠতেও পারছি না, রড ছেড়ে দিলেও চলন্ত গাড়ির চাকায় চাপা পড়ার সমূহ আশঙ্কা। উপায় না পেয়ে দৌড়াচ্ছি আর চিৎকার করছি। ঠিক এমন সময় সামনে এসে পড়লেন একজন ট্রাফিক পুলিশ। গাড়িটার গতি সামান্য কমলো। আর আমরা রড ছেড়ে দিলাম। ছেড়ে আমি সামনের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে ধীরে ধীরে থামলাম। আশিস রাস্তায় পড়ে গেলো। একটুর জন্য চাকার নিচে পড়েনি।

আমার মতে, এই তিনটা ঘটনার কোনোটাই দুর্ঘটনা নয়। পরের দুটো ঘটনায় মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী হত্যা মামলার ধারায় পড়ার কথা।

গাড়ি চালকদের বক্তব্য, তারা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন মাথায় নিয়ে গাড়ি চালাবেন না। কিন্তু এই যে তিনটা ঘটনা- এগুলো ঘটনা মাত্র হলেও এর মধ্যে চালকদের যে চরিত্র প্রকাশ পায় তা তো হত্যাকারীর।

দেশে যেসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এর বেশিরভাগই হত্যার পর্যায়ে পড়ে। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান কেন যুক্ত হবে না?

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য