artk
৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৫৮ ঘণ্টা, শুক্রবার ২০ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯২৫ ঘণ্টা, শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হবে না: ফখরুল - রাজনীতি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করতে হলে এক নম্বর শর্ত– খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

শুক্রবার বিকেলে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সমস্ত দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন যেভাবে বুকে চেপে আছে, তার থেকে মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।”

ফখরুল বলেন, “২০১৫ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র, মানুষের কথা বলার অধিকার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সরকার এ দেশের ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকও শেষ। সেখানে রাখা সোনাগুলো না-কি ধাতু হয়ে গেছে।”

খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে মানুষটি দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাকে আজ অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। তিনি এতোটাই অসুস্থ যে তার আত্মীয়রা দেখা করতে গেলে তিনি নিচে আসতে পারেন না। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, আমরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছি। রাজনীতিতো করছেন আপনারা। কারণ খালেদা জিয়াকে আপনারা ভয় পান, সেজন্য একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রেখেছেন। যে মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই সে মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়েছেন। কারণ একটাই, রাজনীতি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আগে বিএনপি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম করা হতো। এখন নতুন নাটক শুরু হয়েছে, মাদকের নামে নিরপরাধ মানুষকে বিনা বিচারে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। সরকার আজ দেশে একটা ভয়াবহ ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে। এ দেশে আজ প্রতিটি মানুষ অনিরাপদ। তাদের কখন কোথায় মৃত্যু হবে কেউ জানে না।”

কোটা নিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, “যখন আন্দোলন তুঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রী রেগে সংসদে বললেন, কোনো কোটা থাকবে না। আর এখন কি করছেন, যারা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের গুম-রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের ভূমিকা পাকিস্তান আমলের ইয়াহিয়া খানের ছাত্র সংগঠনের মতো। আজ দেশে কেউ নিরাপদ নয়। কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমাদের এমপি-মন্ত্রী বানানোর জন্য নয়। আমরা আন্দোলন করছি কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে। কিন্তু এটি সরকার দেবে না। কারণ তারা জানে যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ২০টি আসনও পাবে না। তাই এ সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। আন্দোলন, আন্দোলন আর আন্দোলনের মাধ্যমে এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এই সরকার খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এমনকি এই দেশের জনগণকে বাইরে রেখে আর একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। সেজন্য একটি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রেখেছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে।”

তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশের জনগণ আর কোনো নির্বাচন হতে দেবে না। জনগণ আর বসে থাকবে না।”

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সেক্রেটারি কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত