artk
১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ২:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নানা অনিয়মের ফাঁদে শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১০০ ঘণ্টা, রোববার ১৫ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১১৮ ঘণ্টা, রোববার ১৫ জুলাই ২০১৮


নানা অনিয়মের ফাঁদে শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক - জাতীয়
ছবি: প্রতিনিধি

নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে (হাইটেক পার্কে)। তবে এ অনিয়মও অব্যবস্থাপনাকে পাল্টাপাল্টি দোষারপ করছে হাইটেক কর্তৃপক্ষও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেকসিটি প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান কোম্পানী (পিএমসি) একে অপারকে।

এসব অনিয়মও অব্যবস্থাপনার কারণে ইতোমধ্যে এ হাইটেক পার্ক থেকে অগ্নি সিসস্টেম লিমিটেড, ই-জেনারেশন লিমিটেড, দোহাটিক নিউ মিডিয়াসহ কয়েক আইটি ব্যবসায়ী তাদের অফিসও গুটিয়ে নিয়েছে। তাদের কাছে গত এক বছরের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-সফটওয়্যার সপ লিমিটেড, অগ্নি সিসস্টেম লিমিটেড, সাজ টেলিকম এন্ড ফ্যাশান, ওয়াটার স্পিড, ই-জেনারেশন লিমিটেড, আমরা হোল্ডিং লিমিটেড, আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেড, ওয়াই ত্রি ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, ডেসটেনি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ১২টি প্রতিষ্ঠানকে। মেট্রনেট, হাসনাত ইন্টারন্যাশনাল, ফা-আইটি সল্যুশন, মাল্টিমিডিয়া কনন্টেট এন্ড কমুনিকেশন লিমিটেড, এসএন্ড ইনফরমেটিকস, সেবা টেকনোলজিস, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোটিয়াম লিমিটেড, ইউনিক বিজনেস সিসটেম লিমিটেড, ডিএলএ কনসোলোটিং, দোহাটিক নিউ মিডিয়া, ইজি সল্যুশন২৪ ও অনএয়ার এন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

তৃতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয় আরো ১২টি প্রতিষ্ঠানকে। উৎসব টেকনোলজি লিমিটেড, বরর্ণো আইট, অংশু এন্টারন্যাশনাল, প্রাইমটেক সলুশন লিমিটেড, স্বাধীন ডটকম, চাকলাদার করপারেশন, ইনফিনিটি টেকনোলজী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জেএসআর আইটি, সিট্রেন্ড সফটওয়্যার সার্ভিস লিমিটেড, সেবা টেকনোলজী লিমিটেড, ই-জেনারেশন, অফিস অব দি কনট্রোল অব সারটিফায়িং অথরিটিজ

এছাড়া ডিজিকন, মার্স সোলুশন, কাজী আইটি, লির্ডস সফটওয়্যার, বিজিট, স্পেকট্যাম, ডাটা সফট, ব্যাসিস, বাক্কো, লিস্ট প্রজেক্ট নামে আরো দশটি প্রতিষ্ঠানকে পার্কে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে বর্তমানে এ হাইটেক পার্কে মাত্র ১৯টি প্রতিষ্ঠান যেনতেনভাবে চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উদ্বোধনের আগে হাইটেক পার্কে ৩৪টি প্রতিষ্ঠান অফিসের জন্য জায়গা বরাদ্দ নেন। উদ্বোধনের কয়েক দিনের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু অফিসগুলো পুরাদমে কার্যক্রম শুরুর আগে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হাইটেক পার্ক থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছে।

বর্তমানে হাইটেক পার্কে ১৯টি অফিস রয়েছে। যার অধিকাংশগুলোই এখান থেকে চলে যাওয়ার দিনক্ষণ গুনছে। যেখানে ডরমেটরিতে একটি রুম প্রতিরাতের জন্য ভাড়া ছিল ৫শ টাকা, সেই রুম বর্তমানে তারা ভাড়া নিচ্ছে এক বেডির রুম ৩ হাজার ৭শ টাকা, দুই বেড বিশিষ্ট রুম ৭ হাজার ৫শ টাকা, রেস্টুরেন্ট ক্যাপের ওপরে অডিটরিয়ামের এক দিনের ভাড়া ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। যার ভাড়া পূর্বে ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা।

অনুরূপভাবে বিজনেস মিটিং এর জন্য বড় রুম ১৮ হাজার টাকা এবং ছোট রুম ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। যাহার পূর্বের ভাড়া ছিল এক হাজার থেকে পাঁচশ টাকা। এছাড়া দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানী (পিএমসি) ফোলসিটি বিগ ডাটা সেন্টারের নামে ২৪ হাজার স্কায়ার ফিট জায়গা দখল করে রেখেছে। এসব অনিয়মের কারনে নতুন করে আইটি সেন্টারে রুম বরাদ্দ নিতে ভয় পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাদেশকে জানিয়েছেন, যশোর হাইটেক পার্কটি উদ্বোধনের পর পরই টেকসিটি প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানী (পিএমসি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান এখানকার সার্বিক দায়দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর পরই নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসে দেশের প্রথম নির্মিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি বা বাংলাদেশ হাইটেক পার্কটিতে। এখানকার বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রয়েছেও বড় ধরনের ঘাপলা। এ মাসে বিদ্যুৎ বিল পাঁচ হাজার টাকা হলে পরের মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। তারা এখানকার প্রতিষ্ঠান মালিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। যে কারণে দিন দিন ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক থেকে তাদের অফিস সরিয়ে নিচ্ছে।

টেকসিটি প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানীর (পিএমসি) সহকারী ম্যানেজার আব্দুল মুহিতের কাছে আইটি পার্ক থেকে কী পরিমাণ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “মিডিয়া কর্মীদের এখানকার তথ্য দেয়া নিষেধ আছে।”

ডরমেটরির রুম ভাড়া, অডিটরিয়ামের ভাড়ার অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করা ভাড়াই তারা নিয়ে থাকে। তবে যশোরবাসীর জন্য নির্ধারিত ভাড়া থেকে ৫০ শতাংশ কম নেয়া হয়।”

শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজনেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “উদ্বোধনের শুরু থেকে এ পার্কের নানাবিধ সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে আসছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। মন্ত্রী তখন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১। যশোর আইসিটি পার্কে ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান করা হবে। ২১ সালের মধ্যে দেশে ৫০ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখানে বিদ্যুৎ, রুমভাড়া, অডিটোরিয়াম ও স্পেস ভাড়াসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে এখনো পর্যন্ত সরকারের রুপরেখার বাস্তবায়ন ঘটেনি।”

তবে এভাবে চলতে থাকলে এখানকার সব ব্যবসায়ীরা চলে যাবেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগের দশটি জেলায় প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের যুগ উপযোগী করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নামে সফটওয়্যার টেকনোলোজি পার্ক তৈরির ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে ১২ দশমিক ১৩ একর জমির ওপর ৩শ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা ও ১৫ তলার দু’টি ভবনের নির্মাণ করেন। এর পর পরই সফটাওয়্যার পার্কটির ১ লাখ ৮০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে যশোর নবনির্মিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত