artk
৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮, ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

‘রোহিঙ্গাদের উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন জঙ্গি ইসহাক’

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১৪২ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০১১ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮


‘রোহিঙ্গাদের উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন জঙ্গি ইসহাক’ - জাতীয়

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩-৪ বার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আনসার আল ইসলামের অন্যতম সদস্য ইসহাক খান। এ কয়েকবার পরিদর্শনে রোহিঙ্গাদেরকে অন্তত লক্ষাধিক টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। সহায়তার আড়ালে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

প্রচলিত গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী ইসহাক ভৌগলিকভাবে এক দেশ এবং শরীয়ত আইনে বিশ্বাস করতেন। আর এজন্য লেখনির মাধ্যমে যুব সমাজকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসহাককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের মিডিয়া উইংয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ইসহাক খানকে (৩২) আটক করে র‌্যাব-৩। এ সময় তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও বিপুল সংখ্যক উগ্রবাদী বই জব্দ করা হয়।

এমরানুল হাসান বলেন, “২০০৬ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করেন ইসহাক খান। তখন থেকেই আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা জসীম উদ্দিন রাহমানীর ছাত্র ছিলেন। একপর্যায়ে ইসহাক জসীম উদ্দিন রাহমানীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী প্রচারণা ও দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। খান প্রকাশনী নামে নিজস্ব প্রকাশনী সংস্থার আড়ালে জসীম উদ্দিন রাহমানীর বিভিন্ন বক্তব্য ও মতাদর্শ বই আকারে প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি।”

তিনি জানান, ২০১৩ সালে জসীম উদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর ইসহাক আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর নিজের খান প্রকাশনী ও মাকবুল প্রকাশনী থেকে রাহমানী ও আনওয়ার আল আওলাকীসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতার উগ্রবাদী বইয়ের সংকলন প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি রাহমানী ও আওলাকীর মতবাদে উদ্বুদ্ধ।

এমরানুল হাসান আরও জানান, তার সংকলিত বইয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ অনলাইনে প্রচার করে যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এসব বই সরবরাহ করতেন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজের প্রতিষ্ঠিত মারকাজুল কোরআন ওয়াল হিকমাহ নামের মাদ্রাসার ছাত্রদের সেসব বই পড়তে বাধ্য করতেন। ইসহাকের ভাই আশরাফ আলী খান আনসার আল ইসলামের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও আরেক ভাই রাকিব হিজবুত তাহরীরের সদস্য। এদের মধ্যে রাকিব জেলে রয়েছেন আর আশরাফকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এমরানুল হাসান।

আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে ইসহাক জড়িত কি-না জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, “কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি-না, তার অর্থের উৎস আরো কিছু বিষয় তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত