artk
৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১:২১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮০৯ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯০১ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জুলাই ২০১৮


অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা - জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পাবার পর অনশন ভেঙ্গেছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এর আগে, তাদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর কথা জানান সংসদে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বগ্রহণের পরই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশে এক হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।”

অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসের কথা শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে আমরা আপনাদের যে সমস্যা- তার সমাধানের আশা দেখতে পাই। আপনারা যে দাবি-দাওয়া জানিয়েছেন, সেটা সামনে রেখে আশা করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন একটা উপায় বের করবে, যাতে এই অবস্থার উপযুক্ত সমাধান পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের একজন সহকর্মী হিসেবে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আপনারা অনশন-ধর্মঘট আর প্রলম্বিত না করে অনশন ভঙ্গ করবেন। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভাবুন, তাদের লেখাপড়ার যে ক্ষতি হয়েছে, তা ভাবুন।”

এরপর নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার অনশন ভাঙাতে আসা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের উদ্দেশ্যে মাহমুদুন্নবী বলেন, “আপনি আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষক। আপনি এসেছেন, অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা আশা করি তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।

“আজকে জাতীয় অধ্যাপক এসেছেন। উনি যা বলবেন, আমরা তাই পালন করব।”

এরপরই পানি পান করে অনশন ভাঙেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এর আগে, অবশিষ্ট নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করতে ইতোমধ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০১৮’ জারির কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর পর বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্র্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী ও ড. সারওয়ার আলী পানি পান করিয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৩২ দিন বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। এর মধ্যে শেষ ১৭ দিন ধরে ছিলেন ‘আমরণ অনশনে’।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের মূল বেতন সরকার দিয়ে থাকে। নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে সংসদ সদস্যদেরও সুপারিশ থাকে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি শর্ত দিয়ে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে বাজেটের আগে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু বাজেটে এমপিও নিয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় ফের আন্দোলনে নামেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত