artk
৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

‘রাখাইনে রোহিঙ্গা শিশুহত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে’

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৪৪ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১৪২ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জুলাই ২০১৮


‘রাখাইনে রোহিঙ্গা শিশুহত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে’ - বিদেশ

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মিয়ানমারে নির্যাতনের যে বর্ণনা কক্সবাজারে গিয়ে তিনি শুনেছেন তার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। বাংলাদেশ সফরে কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেছেন, সেখানে ছোট ছোট শিশুদের হত্যা করা হয়েছে তাদের বাবা-মায়ের সামনে। মেয়ে শিশু ও নারীদের দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে; পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারের পর হত্যা করা হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশি তার নিবন্ধে আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড এবং সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে গত সপ্তাহে হাড় কাঁপানো বর্ণনা শুনেছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মানুষের মমত্ববোধ ও উদারতা দেখিয়ে দিয়েছে মানবতার সর্বোচ্চ রূপ এবং হাজারো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কিন্তু এই সংকটের অবশ্যই বৈশ্বিক সমাধান করতে হবে।

সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য তার বড় ছেলেকে নিজের সামনে গুলি করে হত্যা করার বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, ওই লোকের মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং তার বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়। তিনি মসজিদে আশ্রয় নিলেও মিয়ানমার সেনারা সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং কোরান পুড়িয়ে দেয় তারা।

তিনি জানান, সঠিকভাবেই পরিচিত ‘জাতিগত নিধনের’ শিকার এসব মানুষ এমন যন্ত্রণা ভোগ করছে যা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মধ্যে শুধুমাত্র বেদনা ও রাগই উসকে দিতে পারে। তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বোঝার অতীত, তবু এটাই ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর জন্য বাস্তবতা।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভেতরে ত্রাস ঢুকিয়ে দিতে গত বছর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ভয়ঙ্কর দুটি বিকল্প বাছাইয়ে রোহিঙ্গাদের ঠেলে দেয়া; মৃত্যুর ভয় নিয়ে অবস্থান কর নয়তো বেঁচে থাকার জন্য সবকিছু ছেড়ে চলে যাও।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে আমি বাংলাদেশ সফর করেছি। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের সহায়তায় ব্যাংক থেকে ৪৮০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। তারপরও আন্তর্জাতিক মহল থেকে অনেক অনেক সহায়তা দরকার। শুধুমাত্র সংহতি জানালেই হবে না রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বাস্তব সহায়তা।

মিয়ানমারে এতো নির্যাতন সহ্য করার পরও কক্সবাজারে আমার দেখা রোহিঙ্গারা আশা ছেড়ে দেয়নি। “আমরা চাই মিয়ানমারে আমাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। আমাদের বোন, কন্যা ও মায়েদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তার বিচার আমরা চাই,” ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া নিজ শিশুকে বুকে নিয়ে থাকা এক মাকে দেখিয়ে বললেন বিপর্যস্ত কিন্তু দৃঢ়চেতা এক নারী।

রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান হবে না। একইভাবে এই পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে দেয়াও যায় না।

মিয়ানমারকে অবশ্যই পূর্ণ অধিকার এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রতিশ্রুতিসহ শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার জন্য উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে।

১০০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার আহ্বানের বিপরীতে মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল জোগাড় হয়েছে। এই ঘাটতির অর্থ শরণার্থী শিবিরে অপুষ্টি বিদ্যমান। এর অর্থ হলো পানি ও স্যানিটশনের সুযোগ আদর্শ অবস্থা থেকে অনেক দূরে। এর অর্থ আমরা শরণার্থী শিশুদের মৌলিক শিক্ষা দিতে পারছি না। শুধু তাই নয়, বর্ষাকালের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবেলায় পদক্ষেপগুলোও অপর্যাপ্ত।

নিরাপত্তার সন্ধানে দুর্বিষহ যাত্রা শেষে এসব উদ্বাস্তুরা বাংলাদেশের কক্সবাজারে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এটা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট। সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তারপরও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সীমান্ত ও হৃদয় খুলে দিয়েছে, যেখানে বৃহত্তর ও সম্পদশালী দেশগুলো বাইরের মানুষের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।

দুর্যোগ এড়াতে আরও সম্পদ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শরণার্থী সংকটে বৈশ্বিকভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার যে নীতি তাকেও আরও গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য