artk
৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

বিশ্বস্ত আর জনপ্রিয় কিশোর দলের কোচ আকি

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১৪৬ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১০ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৫৭ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জুলাই ২০১৮


বিশ্বস্ত আর জনপ্রিয় কিশোর দলের কোচ আকি - বিদেশ

একটা যুবক সারাদিন শহরময় বাইসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ান। শিশু কিশোরদের সঙ্গে তার খুব ভাব। শহরের সবাই তাকে এক নামে চেনে। কারো সঙ্গে কোনোদিনই খারাপ আচরণ করেননি। যখন যার সাহায্য প্রয়োজন তিনি সেখানে ছুটে যান, সাধ্যমতো সাহায্য করেন। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই সচেতন। আর বড়দের সম্মান দিয়ে চলেন।

এমন সব মানবিক গুণ যার মধ্যে আছে, তাকে কি সবাই হঠাৎ করে কোনো কারণে দোষ দিতে পারেন। না পারেন না। থাইল্যান্ডের মানুষও তাকে কোনো দোষ দিচ্ছেন না।

হ্যাঁ, থাইল্যান্ডে গুহায় আটকা পড়া কিশোর ফুটবল দলের সেই কোচের কথাই আমরা বলছি। নাম একাপোল আকি চানতাওং। বয়স ২৫।

১২টি অল্পবয়সী ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বিপৎজনক গুহায় কেন প্রবেশ করলেন তা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করছেন। তবে তার শহরের মানুষ বলছেন, আকির মধ্যে এমন কোনো আচরণ তারা দেখেননি, যাতে ওই কিশোরদের নিয়ে খারাপ কিছু করার চিন্তা করতে পারেন। তারা বলছেন, তিনি তিনি খুবই ভালো একজন মানুষ। আমরা তাকে কোনো দোষ দিতে চাই না। আমরা তার পাশে আছি।

মঙ্গলবার ১২তম কিশোরকে গুহা থেকে বের করার পর আকিকে উদ্ধার করা হয়। তাকেও কিশোরদের সঙ্গে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

থাম্মা কানতাওং নামে আকির এক স্বজন জানিয়েছেন, তার বাবা মা ভাই কেউ বেঁচে নেই। স্বজন বলতে তিনি আর আকির দাদি বেঁচে আছেন।

থাম্মা জানান, আকির মা মারা যান জন্মের কিছুদিন পরই। আর দশ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। তার ছোট ভাইটাও অল্প বয়সে মারা যায়। এরপর তিনি ভিক্ষু হওয়ার জন্য লাম ফুন প্রদেশের একটি বৌদ্ধ আশ্রমে শিক্ষা নিতে থাকেন। মাঝে মধ্যে তিনি দাদিকে দেখতে বাড়ি আসতেন। তিনি খুবই ভালো মনের মানুষ।

২০ বছর বয়সে তিনি আশ্রম ছেড়ে নিজের শহরে ফেরেন ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।

খেলা পাগল ছেলেটি স্থানীয় ক্লাবে ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন। একসময় জুনিয়র টিমের কোচের দায়িত্ব পেয়ে যান।

থাম্মা বলেন, তিনি ফুটবল টিমকে খুবই ভালোবাসেন। যেখানেই যান না কেন, টিমের বেশ কয়েকজন তার সঙ্গেই থাকে। ছেলেদের মা বাবাও তাকে বিশ্বাস করে। ছেলেদের ফুটবল কোচ হিসেবে তিনি বেশি টাকাও নেন না। তিনি টাকার লোভ করেন না। ফুটবল আর শিশুদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি কোচিং করান। শিশুদের সঙ্গে তিনি খারাপ কিছু করবেন এ কথা ভাবাই অসম্ভব।

ওয়াইল্ড বারোস ক্লাবের বড়দের টিমের কোচ জানান, আকির প্রতি তাদের কোনো অভিযোগ নেই। কারণ তিনি শিশুদের প্রতি খুবই যত্নশীল আর দায়িত্ববান। ব্যক্তিগত সময় খরচ করে তিনি শিশুদের জন্য কাজ করেন।

ওই ক্লাবের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ফুটবলার জানায়, ফুটবলের চর্চা শেষে হলে কোচ আকি নিজেই ছোট ছেলেদের বাসায় পৌঁছে দেন। এজন্য সব ছেলেরা তাকে ভালোবাসে।

ক্লাবের হেড কোচ বলেন, আকি ফিরে এলে আগের মতোই কাজ করবেন। সবকিছু আগের মতোই থাকবে। আমরা তাকে সহায়তা করব।

কাছের একটি আশ্রমের যুবক ভিক্ষু জানান, আমরা সবাই তার জন্য অপেক্ষায় আছি। আমরা দেখতে চাই তিনি আবার তার সাইকেল নিয়ে শহরময় ঘুরে বেড়াবেন এবং শিশু কিশোরদের নিয়ে শহরের বাইরে বেড়াতে যাবেন।

আরেক সাবেক ভিক্ষু জয় বলেন, আকি সবসময় ছেলেদের নিয়ে পাহাড়ে সাইকেল চালাতে যেতেন। তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবক। ভালো মানুষ। আশপাশের সবাইকে তিনি সাহায্য করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য