artk
৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

শ্বেতমর্মরে গাঁথা অশ্রুজলের প্রেমকাব্য: তাজমহল

রতন মাহমুদ | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২১৪ ঘণ্টা, বুধবার ০৪ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২১৬ ঘণ্টা, বুধবার ০৪ জুলাই ২০১৮


শ্বেতমর্মরে গাঁথা অশ্রুজলের প্রেমকাব্য: তাজমহল - টুইট-ফেস

মথুরা থেকে বেরিয়ে আগ্রার পথে যাত্রার প্রাক্কালে হাইওয়েতে ঢোকার সন্ধিস্হলে গাড়ি থামিয়ে দুদণ্ড সময় অপেক্ষা করলাম। গাড়ি থেকে নেমে বিস্তীর্ণ আলুক্ষেতের সবুজে দৃষ্টি ভাসিয়ে দিয়ে সবুজাভ উপভোগে মননের দুরন্ত গতি শ্লথ হয়ে এলো। দৃষ্টি যেদিকে ফেরাই সবুজ আর সবুজ; সবুজের মাঝখান দিয়ে দীর্ঘ সাদা-কালো সরীসৃপের মতো হাইওয়ে। এই হাইওয়ে গিয়ে ঠেকেছে মোগলদের নিরাপদ রাজধানী আগ্রায়। ড্রাইভার সানি চোট্টাকে বললাম, আগ্রা পৌঁছাতে কতক্ষণ লাগবে?

সানি মুচকি হাসি দিয়ে বললো, একটানা ফুলস্পিডে গেলে ঘণ্টা দুয়েক। আর পথে পথে যদি এভাবে দাঁড়িয়ে কেবলই সবুজ দেখেন, তাহলে তিন থেকে চার ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। সানির মুচকি হাসির মর্মার্থ বুঝতে আমার মুহূর্তকাল দেরি হলো না। ঝটপট গাড়িতে উঠে বললাম, ছোটাও গাড়ি।

আগ্রায় মোগল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত ‘তাজমহল’ দেখার দুর্বার ইচ্ছা মনন জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমার কন্যা শ্রেষ্ঠাশ্রয়ী ঢাকাতেই এই বায়নাটি করে রেখেছিল। সোমার মনেও তাজমহল ঘুরে যাবার গোপন শখ রয়েছে। আমিই বা কম কীসে! শরীর একটু ভালো লাগলেই আগ্রায় যাবো, তাজমহল ও আগ্রা ফোর্ট ঘুরে দেখবো; এমন বাসনা আমারও ছিল। সেইসব ইচ্ছা আজ পূরণ হতে যাচ্ছে, তাই সবার চোখে-মুখে অজানারে জানার, অচেনারে চেনার এক উন্মুখ উত্তেজনা ভেসে বেড়াচ্ছে।

হাইওয়ের মসৃণতা ও পরিশীলতা আমাদের উত্তেজনাকে নিবিড় করে তুলছে। পথ মোটামুটি দীর্ঘ কিন্তু গাড়ির গতি ক্লান্তির বিষ শুষে নিচ্ছে। অনুভবে নিজেদের বেশ তরতাজা লাগছে। আমরা ছুটে চলছি, গাড়ির চাকার পতপত শব্দে বাতাসের শিসকাটা মধুর আহ্বানে। আর একটু পরপর চোখ রাখছিলাম আগ্রার মাইল ফলকে, আগ্রা আর কতো দূর!

শেষমেশ উত্তপ্ত রোদের তেজের ভেতরেই আমরা আগ্রা শহরে প্রবেশ করলাম। সানি বললো, আঙ্কেল, হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে টিকেট কেটে ভেতরে ঢোকা খুবই কষ্টসাধ্য হবে, আমার পরিচিত লোক আছে, গাইড হিসেবে ওকে ডাকবো? মনে মনে বললাম, ভালোই তো, ডাকো তাকে।

শহরে ঢোকার মুখেই সানি গাড়ি ভিড়ালো। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরই, যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম সে এলো। তাকে গাড়িতে উঠিয়ে রওনা হলাম।

শুরু হলো আমাদের গাইডের সঙ্গে বাতচিত। সে জানালো, টিকেট করার বিষয়ে কোনো দায়িত্ব নেবে না। শুধু আমাদের সাথে ঘোরার বিনিময়ে তাকে একহাজার রুপি দিতে হবে। বুঝলাম এ লোককে সাথে নিয়ে কাজের কাজ হবে না। তাই তাজমহল এলাকায় ঢোকার আগেই তাকে বিদায় করলাম। সানিও গাড়ি রেখে আমাদের সঙ্গী হবে না। কী আর করা! আমরা শহরের ভিড় ভেঙে পদব্রজে এগিয়ে গেলাম।

তাজমহলের বাউন্ডারিতে ঢুকে দেখলাম অজস্র টেম্পু। জনপ্রতি ভাড়া দশ রুপি। আমরা একটি টেম্পু রিজার্ভ করে পৌঁছে গেলাম মূল চত্বরে। পথে অবশ্য টেম্পু চালক তার বাহন থামিয়ে গাইডের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করেছিল। গাছ-গাছালির আড়াল থেকেই দেখালো তাজমহলের চারটি মিনার। এক জঙলা ভূমি দেখিয়ে বললো, এটা ছিল কালো গোলাপের বাগান। আমি দেখলাম, বিভিন্ন জায়গায় মাটি খুঁড়ে অপরিকল্পিত ডোবা-নালা করে রেখেছে। পুরো বাগানটি আগাছায় ভরে রয়েছে, কোথায়ও কালো গোলাপের নাম-নিশানা নেই। দু-একটি লাল গোলাপ ফুটে রয়েছে জঙলা ভূমির আনাচে কানাচে। টেম্পু চালককে বললাম, আগে তাজমহল দেখি, পরে গোলাপ বাগানের খোঁজ নেয়া যাবে।

টেম্পু থেকে নামার পরেই চোখে পড়লো বিপণি বিতান। এ পর্যায়ে সোমা গাইডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। বিপণি বিতান দেখার পরে তাকে নিবৃত করার ক্ষমতা আমার নেই। অগত্যা পিছু নিলাম তার। সে এ-দোকান ও- দোকান ঘুরছে, আর এটা সেটা কিনছে। অনেক দোকানদার সোমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলো বিভিন্ন শাড়ি কেনার জন্য। কিন্তু সোমা একটিও শাড়ি কিনলো না। আমার কোনো কোনো শাড়ি পছন্দ হলেও সে রাজি নয় এখান থেকে শাড়ি কেনার জন্য। আমি হালকা চাপ দিলেও তার সিদ্ধান্ত পাল্টালো না। বললো, এই শাড়িই দিল্লীতে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। মনে পড়লো, ইতোমধ্যে দিল্লীর বিভিন্ন মার্কেট ঘোরা হয়েছে তার। তাই জানা আছে শাড়ির দাম। তারপর আমি আর কিছুই বলিনি। ওর যা ইচ্ছা করুক। আমি বাধ্য ভৃত্যের ন্যায় ওর পেছন পেছন ঘুরেই চলেছি।

একসময় কেনা-কাটা এবং অহেতুক দর্শনে ক্ষান্ত দিলো সে। আমরা বিপণি বিতান থেকে বেরিয়ে এলাম। এবার নজর তাজমহল চত্বরে ঢোকার টিকেট কাউন্টারের দিকে। হাজারো মানুষের ভিড়। কাউন্টারের কাছে যাওয়াই দুরূহ ব্যাপার।
দিনটি পঁচিশ ডিসেম্বর, খ্রিস্টানদের ‘বড়দিন’ উৎসব। যে কারণে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ঢল নেমেছে।

এদিকে দুপুরের তপ্তরোদ মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে। ডিসেম্বরের শীতের আমেজ শরীর অনুভব করছে না। টিকেট সংগ্রহ করে মূল গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার উপায় খুঁজছি। এমন সময় যে টেম্পুতে আমরা এসেছি তার চালক ছেলেটি এগিয়ে এলো। বললো, স্যার একজন গাইড নিন। বললাম, তোমার পরিচিত কেউ আছে? সে জানালো, খুব ভালো একজন ছেলে আছে, আপনি ওর সাথে কথা বলুন। কথা বলতে বলতেই এগিয়ে এলো ছেলেটি। জানালো তার নাম গুলবুদ্দিন। একহাজার রুপি দিতে হবে, টিকেট ক্রয়, ভেতরে ঢোকা এবং ছবি তোলার কাজসহ অন্যান্য কাজ সে করবে। বললাম, একহাজার রুপি না, সাতশ রুপি দেবো। সে গড়িমসি করেও রাজি হলো।

এবার গাইডের পিছু নিলাম। একটি আমগাছের ছায়াতলে সোমা আর কন্যা শ্রেষ্ঠাশ্রয়ীকে দাঁড় করিয়ে আমি ও গুলবুদ্দিন ছুটলাম টিকেট কাটতে। আমি যে অসুস্হ তা আমার নাজুক শরীর দেখে গুলবুদ্দিন বুঝতে পেরেছে। লাইনে দাঁড়ানো যে আমার জন্যে কষ্টের সে কথাও সে আঁচে নিয়ে বললো, স্যার, আপনি আমার সাথে সাথে থাকুন। ভিড় ঠেলে সে আমাকে নিয়ে কাউন্টারের মুখে উপস্হিত হলো। আমি বুঝতে পারলাম পুলিশের সাথে তার জানাশোনা গভীর। এবার বললো, স্যার পকেট সাবধানে রাখুন।

সত্যি বলতে কি, আমার আমিকে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারছি না, সেক্ষেত্রে পকেট সামলে রাখা এই হাজারো মানুষের ভিড়ে কতটুকু সম্ভব! অবস্থা বেগতিক দেখে গুলবুদ্দিন বললো, স্যার মোবাইল এবং পাসপোর্টগুলো আমায় দিন, সাথে তিনটি টিকেটের মূল্য ষোলশ পঞ্চাশ রুপি।

আমি কোনোকিছু না ভেবেই পকেটের মানিব্যাগ ছাড়া সবকিছু দিয়ে দিলাম গুলবুদ্দিনের হাতে। যা দিলাম তার মধ্যে ছিল তিনটি পাসপোর্ট, নতুন কেনা সোমার মোবাইল আর সার্টের পকেটে থাকা দুই হাজার রুপি ও তিনশ ইউএস ডলার। এসব দিয়ে দেয়ার পরে নিজেকে খুব হালকা লাগছিল। ভিড়ের মধ্যে সারাক্ষণ পকেট সামলে রাখা, অতি সতর্ক থাকা কোনো কালেই আমার জন্য নয়; এর পরিণামও ভোগ করতে হয়েছে কয়েকবার নিজদেশে। সিনেমা হলের টিকেট কাউন্টারে, স্টেডিয়ামের গেটে, মানুষ-কুকুরে গাদাগাদি ফুটপাতে আমি কখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি না। তাজমহলের টিকেট কাউন্টারে এমন ভিড় হবে, তা আমার জানা ছিল না। দেশ-বিদেশি মানুষের গায়ের গন্ধে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে পকেট খালি রাখাই আমার জন্যে উটকো ঝামেলামুক্ত থাকা বোধ হলো।

গুলবুদ্দিন সামনে, আমি তার পেছনে লাগোয়া। এতো দ্রুত অনেক মানুষকে টপকে সে টিকেট করে ফেললো, যা আমি দু'ঘণ্টায়ও পেরে উঠতাম না। যুদ্ধে জয়ী হয়ে গুলবুদ্দিন যখন ভুবনজয়ী একটা হাসি নিয়ে আমার মুখোমুখি দাঁড়ালো, দেখলাম ওর সার্টের দুটি বোতাম নেই। আজকে খুব বেশি ভিড়। তবু এগুলো সামলাবার পথ আমার জানা। কথাগুলো দারুণ বিনয়ের সাথে বললো গুলবুদ্দিন। ক্রমেই ভারতীয় যুবকটিকে অন্যমাত্রার ভালো মানুষ মনে হচ্ছিল। অচেনা যুবকটির প্রতি মাত্রাহীন নির্ভর হয়ে পড়ছিলাম। ভিড় ঠেলে সে আমাকে বাইরে নিয়ে এলো। নিকটেই আম্রকাননের ছায়ায় গিয়ে দাঁড়ালাম। অনেকটা সম্মোহনের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে সে আমাকে। আমার যেন বলার কিছু নেই, সব সিদ্ধান্ত সেই নিচ্ছে। তারপর খুব হেলায় বললো, আপনি এখানে এই ছায়ায় দাঁড়ান, আমি ওনাদের নিয়ে আসছি।

ওনাদের মানে আমার স্ত্রী ও কন্যা। ওদের দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম ভিড় থেকে দূরে গাছ-গাছালির ছায়ায়। এখান থেকে তিন চার মিনিটের পথ। কিন্তু মাঝখানে বিদেশি মানুষের কাফেলা। তাই সময় বাড়িয়ে পনের-বিশ মিনিট করে নিলাম। ছায়ার মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না, তাই একটা গাছের গুঁড়িতে বসে পড়লাম। অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয় জানি। তবু বারবার ঘড়ি দেখছি। ইতোমধ্যে তিরিশ মিনিট পেরিয়ে গেছে। এত সময় নেবার অর্থ কী? মনের মধ্যে নানা কথা উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। এক ধরনের দুঃশ্চিন্তায় ছেয়ে যাচ্ছে ভাবনার আকাশ। এ কী করলাম আমি! এমন মুহূর্তে ধূমপান কিছুটা স্বস্তিদায়ক। কিন্তু দিল্লী আসার পরে একটি সিগারেটও ধরাইনি। এখন কেন জানি ফুসফুস ধুকপুক করছে সিগারেটের জন্য।
এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলাম কেউই ধূমপান করছে না। সম্ভবত পুরো এলাকা ধূমপানমুক্ত। ইচ্ছার গলায় রজ্জু পরিয়ে দিলাম। কিন্তু দুঃশ্চিন্তার গলায় দড়ি পরাবে কে? কতো জায়গায়, কেমন করে ঠকেছি সেইসব মনে পড়ছে। ঠকে যাওয়া ঘটনাপুঞ্জ থেকে একটি ঘটনা খুব বেশি বেশি মনে পড়ছে।

তখন আমি ক্লাস থ্রিতে পড়ি। আমার বড় বোনও একই ক্লাসের ছাত্রী। কিন্তু সে আমার চেয়ে বছর দুয়েকের বড় এবং বুদ্ধিশুদ্ধি অনেক বেশি। তখন আমাদের মহকুমা ছোট্ট শহরে মেয়েরা বাজার-ঘাট করতো। আজ থেকে পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বছর আগের কথা।

একদিন বৃষ্টিভেজা সকালে ৫০টাকা নিয়ে আমরা দু-ভাইবোন বাজারে গেছি। প্রথমে চাল, নুন, পেঁয়াজ, তেল, ময়দা আরও কীসব কিনে বড় বড় দুটি ব্যাগভর্তি মালসমেত একটি দোকানের ছাউনির নিচে আমাকে দাঁড় করিয়ে বোনটি গেলো মাছ কিনতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন লোক হাসতে হাসতে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো, আমাকে চিনতে পেরেছো? আমি তোমার নানাবাড়ির লোক। সম্পর্কে মামা হই। কতোদিন তোমাদের দেখি না! আজ যাবো তোমাদের সাথে। কার সাথে এসেছো বাজারে?
বললাম, বোনের সাথে।
ও কোথায় গেছে?
মাছ কিনতে।

তাহলে তো তাড়াতাড়িই আসবে। বলেই পকেট থেকে দুটি টাকা বের করে বললো, অনেকদিন বাদে তোমাদের বাসায় যাব, খালি হাতে কি যেতে পারি? তুমি এক কাজ করো, নিজের পছন্দ মতো এক প্যাকেট চকোলেট কিনে আনো ঐ দোকান থেকে। দোকানটি দেখিয়ে আমার হাতে টাকা দুটি ধরিয়ে দিলো।

আমার লোকটিকে খুব চেনা চেনা লাগছিল। প্রতিবেশী এক মামার আদলের সাথে দারুণ মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। ইতোমধ্যে মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক গড়ে নিয়েছে লোকটি। আর সেকালের দুই টাকা! চাট্টিখানি কথা নয়। নিশ্চয়ই মামাবাড়ির কেউ হবে। এক অভিনব ছলনার ঝড়ের মধ্যে আমি কেবল বর্তমান সময়টুকুকে ভুলে গেলাম না, ভুলে গেলাম আমার পায়ের কাছে রাখা বাজারভর্তি ব্যাগের কথা। নির্দ্বিধায় আমি চকোলেট কেনার জন্য ঈষৎ আড়ালের দোকানটিতে গেলাম। এক প্যাকেট চকোলেট কিনে হাসিমুখে পূর্বের জায়গায় এসে দেখি, মামাও নেই, আমাদের বাজারের ব্যাগও নেই।

আমাদের জীবন ও কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছলনার রঙ উদভাসিত হচ্ছে এবং সর্বত্র ‘ঠক’ খাওয়া ঝড়ের মুখে বাস্তব বিজ্ঞতা উদাসীন হচ্ছে। তারপরও আমি মনে করি, সময়কে পূর্ণ করা, তার মধ্যে অনুতাপের কোনো ফাঁক না রাখাই হলো সুখ।

বৃষ্টিতে ভেজার মতো আমার শরীর ভিজে যাচ্ছে ঘামে। কী ভুল আমি করে বসলাম! মামার পরিচয় দিয়ে ঠকবাজ আমাকে ঠকিয়েছিল ন’বছর বয়সে। আর এখন জীবনের তৃতীয় ধাপে এসেও এভাবে ঠকে যাব! দুঃশ্চিন্তা গ্রাস করে ফেললো আমার অসুস্থ শরীর। টাকা পয়সা মোবাইল গেছে যাক, কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া দেশে ফিরবো কিভাবে?

শ্বেত-মর্মরে গাঁথা অশ্রুজলের প্রেমকাব্য : তাজমহল না দেখেই অশ্রুজলে ভাসিয়ে বিদায় নেবো? (চলবে)

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত