artk
৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৬:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ফিরে দেখা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের শেয়ারবাজার

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৩৪ ঘণ্টা, রোববার ০১ জুলাই ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২১৫ ঘণ্টা, সোমবার ০২ জুলাই ২০১৮


ফিরে দেখা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের শেয়ারবাজার - বিশেষ সংবাদ

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেলো আরো একটি অর্থ বছর। সদ্য বিদায় নেয়া অর্থ বছরের (২০১৭-২০১৮) শেষ ছয় মাসে (জানুয়ানি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা, ব্যাংকের তারল্য সংকট, প্রাক নির্বাচন নানা পরিস্থিতির কারণে বাজার চিত্র কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। ফলে লেনদেনসহ সব ধরনের সূচকে ভাটা পড়েছিল বলে জানান শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেন, আমাদের শেয়ারবাজার একটি অগ্রসরমান ও সম্ভাবনাময় খাত। এই সম্ভাবনাময় খাতকে বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকার শেয়ারবাজারে নীতি সহায়তা দেয়ার উ্যদ্যোগ নেয়।

তারই অংশ হিসেবে বিদায়ী অর্থ বছরের শেষের দিকে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট কাটাতে নগদ জমা সংরক্ষণের হার কমানো হয়েছে। আবার সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখাসহ ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা ঘোষণা দিয়েছে। এরপরই ইতিবাচক প্রভাব পরে শেয়ারবাজারে। এছাড়া ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের শেষ দিকে বিভিন্ন পদক্ষেপে বর্তমানে শেয়ারবাজার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে এমন বলে মন্তব্য করেন তারা।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের অর্জন সম্পর্কে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ কর্মকাণ্ডের পর বিশ্বের অন্যতম স্টক এক্সচেঞ্জ চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় ডিএসই এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কৌশল ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।”

শেয়ারবাজার সম্পর্কে এমডি বলেন, “আগের বছরের তুলনায় লেনদেন ও সূচক সামান্য কমলেও বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ভিত পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হয়েছে।”

সামনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি ও নতুন পণ্য বাজারে যুক্ত করে দেশের শেয়ারবাজারকে বৈচিত্রময় বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করাই ডিএসইর এখন প্রধান লক্ষ্য।”

সমৃদ্ধির পথে শেয়ারবাজার ২০১৭-১৮ অর্থবছর বাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর। এই বছর ১৪ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে।

শেয়ারবাজারে স্বল্প মূলধনের প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থায়ন ও তালিকাভুক্তির জন্য Small Cap Board গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

জনমত যাচাই শেষে শিগগিরই Small Cap Board নামে আলাদা বাজার সৃষ্টি হবে। এতে বাজারে সিকিউরিটিজের বৈচিত্র্য বাড়বে যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে এবং বাজারে তারল্য বাড়বে।

ওটিসি মাকের্টের জন্য নতুন বাজার কাঠামো তৈরি ও আলাদা রেগুলেশন অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ওভার দি কাউন্টার বুলেটিন বোর্ড) রেগুলেশন, ২০১৭ নামে খসড়া তৈরি করে বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছে। বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ওটিসি মার্কেটকে একটি সংয়ক্রিয় অত্যাধুনিক মার্কেটে রূপান্তরিত করে নন-লিস্টেড কোম্পানির শেয়ারের লেনদেনের সুযোগ তৈরি করে ওটিসি মার্কেট নতুনরূপে আবির্ভূত করা হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট) বিধিমালা, ২০১৭ এর অধীনে ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএল এর যৌথ উদ্যোগে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে ‘ন্যাশনাল ক্লিয়ারিং কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কোম্পানি নিবন্ধনের কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। বর্তমানে ন্যাশনাল ক্লিয়ারিং কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রয়োজনীয় সফট্ওয়্যার সিলেকশনের কাজ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়। এনসিসিবিএল চালু হলে পুঁজিবাজার পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যার মাধ্যমে মাল্টি এসেট ট্রেডিংসহ বৈদেশিক বিনিয়োগ যেমন বাড়বে তেমনি বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন ও শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট দূরীকরণে সহায়তা করবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ জাতিসংঘের সাসটেইন্যাবল স্টক এক্সচেঞ্জের উদ্যোগে যুক্ত হতে একটি প্রতিশ্রুতি পত্রে স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগ বিশ্বের ৭৫টি স্টক এক্সচেঞ্জকে একত্রিত করেছে যারা তথ্য আদান প্রদান এবং শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সহযোগিতা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও দক্ষ ইএসজি (এনভাইরনমেন্টাল, সোস্যাল ও করপোরেট গভর্নেন্স) প্রতিবেদন আসার সুযোগ তৈরি করবে যাতে শেয়ারবাজারের স্টেকহোল্ডাররা উপকৃত হবেন।

ডিএসই মোবাইল অ্যাপে বেশকিছু সিকিউরিটি ফিচার সংযোজন করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের মোট পরিমান মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন। এছাড়া বিমিয়োগকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী এই অ্যাপ কে আরও বেশি ইউজারফ্রেন্ডলি করার সিদ্ধান্ত হাতে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পণ্যের বৈচিতত্রতা আনয়নে নতুন প্রোডাক্ট এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড চালুর প্র্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে যা শিগগিরই চালু হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস-২০১৫ এর সংশোধনী অনুযায়ী ইলেকট্রনিক সাবসক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে এলিজিবল ইনভেস্টরদের অংশগ্রহণে ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখ থেকে বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৯টি কোম্পানি এ পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন করা হয়।

নিম্নে বিদায়ী অর্থবছরের বাজার চিত্র তুলে ধরা হলো:

আইপিও: শিল্প উদ্যোক্তারা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার থেকে ২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ১১টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে মোট ৫৪১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৩টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলন করে। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে মোট ৩৯০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছিল।

তালিকাভুক্তি: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ ৬৭৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ ৯০৫ কোটি ০৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়।

রাইট শেয়ার ইস্যু: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩টি কোম্পানি ৩৩ কোটি ০৭ লাখ রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মোট ৩৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে৷ এর মধ্যে ১টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূলধন উওোলন করে। আগের বছর ৪টি কোম্পানি ৮৫ কোটি ৮১ লাখ রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করেছিল ১০৪১ কোটি ৯৭ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ মূলধন উত্তোলনের পরিমান ছিল ১৮৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতের ২১টি, আর্থিক খাতের ১২টি, প্রকৌশল খাতের ২৩টি, খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক খাতের ৬টি, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের ৬টি, জুট খাতের ১টি, টেক্সটাইল খাতের ২৬টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১২টি, সার্ভিস অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট খাতের ২টি, সিমেন্ট খাতের ১টি, আইটি খাতের ৪টি, ট্যানারি খাতের ২টি, সিরামিক খাতের ৩টি, ইন্সুরেন্স খাতের ২৩টি এবং বিবিধ খাতের ৬টি সহ মোট ১৪৮টি কোম্পানি ৪২৭৯ মিলিয়ন বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৪২,৭৭২ মিলিয়ন টাকা মূলধন বৃদ্ধি করে।

অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ১১৭টি কোম্পানি ১ হাজার ৮৮৩ মিলিয়ন বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১৮ হাজার ৯৮১ মিলিয়ন টাকা মূলধন বৃদ্ধি করে।

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজসমূহের কার্যক্রম: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯০টি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৭৫টি কোম্পানি ২ শতাংশ থেকে ৭৯০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৬৯টি কোম্পানি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন করে এবং তাদের মধ্যে ১৮০টি কোম্পানি ২ শতাংশ থেকে ৭৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

লেনদেন: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৮৫২ মিলিয়ন টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৭০ মিলিয়ন টাকা বা ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। তবে অর্থবছর অনুযায়ী পুঁজিবাজারের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৪৬ কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয় ৬,৪৬৬ মিলিয়ন টাকা। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩৯ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমান ছিল ১৮ লাখ ৫ হাজার ২২২ মিলিয়ন টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমান ছিল ৭ হাজার ৫৫৩ মিলিয়ন টাকা।

ডিএসইর মূল্যসূচক সমূহ- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫০ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ দিনে ৫ হাজার ৪০৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ডিএসইএক্স মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৫ হাজার ৪৮৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট।

ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ১২৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ডিএস৩০ মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৪ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১ হাজার ৯৪১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট।

ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস) একই বছর ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সুচক (ডিএসইএস) ৩২ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ২৬৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (ডিএসইএস) মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৩৩ দশমিক ১৭ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১ হাজার ২২৮ দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

বাজার মূলধন সূচক সামান্য কমলেও ডিএসইর বাজার মূলধন অর্থবছর হিসেবে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ডিএসই বাজার মূলধন আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন টাকা বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৮৪৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৮৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকায় উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩ হাজার ৭৬৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন টাকা।

মার্কেট পিই: ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজসমূহের মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৫। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শেষ দিনে মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ১৫ দশমিক ৭৪। খাতওয়ারী মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্কেট পিই ৭ দশমিক ৭০, ব্যাংকিং খাতের মার্কেট পিই ৮ দশমিক ৬১, ইন্সুরেন্স খাতের মার্কেট পিই ১১ ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাতের ১২ দশমিক ৫৫ এবং আর্থিক খাতের মার্কেট পিই ১৪ দশমিক ৬৬। সামগ্রিক বাজার মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ১৪ দশমিক ৯৫।

মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মে মাসে তালিকাভুক্ত ইকুইটি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। যেমন থাইল্যান্ড (এসই) মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত ১১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, ইন্ডিয়া (বিএসই) ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, পাকিস্তান (কেএসই) ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, কলম্বো (এসই) ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ, টোকিও এসই ১২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ ২২৯ দশমিক ২২ শতাংশ, ফিলিপাইন এসই ৭৭ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং মালোয়শিয়া (বুরসা মালোয়শিয়া) ১১৯ দশমিক ৮৬। মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির জন্য ভালো মৌল ভিওি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তি বড়ানো জরুরি।

বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ২৯২ মিলিয়ন টাকা। গত অর্থবছরের চেয়ে ১৭ হাজার ১৯৮ মিলিয়ন টাকা বা ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি লেনদেন করে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। যা মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৫ মিলিয়ন টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৫৮ হাজার ২৮৭ মিলিয়ন টাকা।

অপরদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৪ মিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৩৮৯ মিলিয়ন টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ৭০৫ মিলিয়ন টাকা।

মোবাইল লেনদেন: দেশের পুঁজিবাজার বিকাশের ক্ষেত্রে ৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে সংযোজন হয় ডিএসই-মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপ চালুর পর ক্রমবর্ধমান হারে মোবাইলে লেনদেন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ২৭০ জনে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মোবাইলের মধ্যমে মোট ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৭টি আদেশ প্রেরণ করে। এর মধ্যে ২৭ লাখ ৭৪ হাজার ১২০টি আদেশ কার্যকর হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোত্তম সুবিধা বিনিয়োগকারীর দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বদা সচেষ্ট। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারবাজার লেনদেনকে করেছে সর্বাধুনিক ও সহজসাধ্য। ডিএসইতে মোবাইল এর মাধ্যমে লেনদেন এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ।

ওটিসি মার্কেট: ওটিসি মার্কেটের লেনদেন আগের বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছরে ওটিসি মার্কেটে মোট ১৩ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন শেয়ার লেনদেন হয়। যার মূল্য টাকায় ৭৯৯ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন। ওটিসি মার্কেটে বর্তমানে ৬৫টি কোম্পানি রয়েছে৷ এর মধ্যে ১৩টি কোম্পানি ডিমেট আকারে লেনদেন হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৫টি কোম্পানির মধ্যে ৩০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শেয়ার লেনদেনের পরিমান ছিল ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন। যার মূল্য ছিল টাকায় ১৯০ দশমিক ৬১ মিলিয়ন এবং লেনদেনকৃত কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৬টি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত