artk
৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মার্ক বাংলাদেশ শেয়ার কেলেঙ্কারি: ২ কোটি টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮২৭ ঘণ্টা, রোববার ২৪ জুন ২০১৮


মার্ক বাংলাদেশ শেয়ার কেলেঙ্কারি: ২ কোটি টাকা জরিমানা - অর্থনীতি

মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিটির শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত কোম্পানিসহ ৪ আসামিকে ৫০ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন শেয়ারবাজার বিষয়ক ট্রাইবুন্যাল। একইসঙ্গে কোম্পানি ব্যাতিত ৩ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার ট্রাইবুন্যালের বিচারক আকবর আলী শেখ এই রায় ঘোষণা দেন।

এই মামলার আসামিরা হলেন- মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম মুলকুতুর রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল হাই ও পরিচালক সালমা আক্তার। এরমধ্যে ইমাম মুলকুতুর রহমান মৃত ও অন্য আসামীরা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারের আদেশ দেন বিচারক আকবর আলী শেখ।

অভিযুক্ত ইমাম মুলকুতুর রহমান মারা গেলেও ট্রাইবুন্যাল তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না। যে কারণে ইমাম মুলকুতুর রহমানকেও জেল এবং জরিমানার রায় দেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তাতার বা তাদের আত্মসমর্পণের দিন থেকে কারাদণ্ডের হিসাব শুরু হবে। এছাড়া আর্থিক জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আসামিদের আরও অতিরিক্ত ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে বলে মামলার রায়ে বলা হয়েছে।

বিচারক জানান, অভিযুক্তরা যোগসাজশে লাভবান হয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ১৭ ধারার (ই) (২) উপ-ধারা লঙ্ঘন করেছেন। যা একই অধ্যাদেশের ২৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য।

রোববার রায় ঘোষণার সময় ট্রাইবুন্যালে বিএসইসি’র আইনজীবী মাসুদ রানা খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিটির শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় ১২ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। বিএসইসি’র আইনজীবী মাসুদ রানা খান এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরও আগে ৬ জুন বুধবার শেয়ারবাজার বিষয়ক ট্রাইবুন্যালের বিচারক আকবর আলী শেখ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য এই সময় নির্ধারণ করেছিলেন। ওই দিন মামলাটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এমএ রশীদ সরকারের সাক্ষ্যগ্রহন করা হয়। আবার ৭ মে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হেলালী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহুরুল হক সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া ১২ এপ্রিল বিএসইসির নির্বাহি পরিচালন এটিএম তারিকুজ্জামান সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যে তিনি নিজে মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি।

গত ৩ এপ্রিল এ মামলায় সাক্ষ্য দেন বিএসইসির আরেক নির্বাহি পরিচালক ফরহাদ আহমেদ। যিনি মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো এমন ঠক ও প্রতারক কোম্পানি জীবনে কোনদিন দেখেননি বলে সাক্ষ্য দেন। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারে ধসের জন্য যে কয়টি কোম্পানি দায়ী, মার্ক বাংলাদেশ তারমধ্যে প্রথম সারির বলে জানান তিনি। ওইদিন ফরহাদ আহমেদ বলেন, মার্ক বাংলাদেশের স্থায়ী সম্পদের বাজার মূল্য বেশি দেখিয়ে সাধারন
বিনিয়োগকারীদেরকে কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়। যার সঙ্গে কোম্পানিটির পর্ষদ জড়িত ছিল। এর আগে বিএসইসির উপ-পরিচালক এএসএম মাহমুদুল হাসান ও সাবেক উপ-পরিচালক শুভ্রকান্তি চৌধুরী সাক্ষ্য দেন।

১৯৯৯ সালে শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে ২০০০ সালে মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিটিসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। বিএসইসির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন উপপরিচালক আহমেদ হোসেন মামলা দায়ের করেন। সিকিউরিটিজ অধ্যাদেশ এর ২৫ ধারা অনুযায়ী এ মামলা করা হয়। সিএমএম আদালতের ১৩৬৪/২০০০ নম্বরের মামলাটি ট্রাইবুন্যালে হয়েছে ৩/১৬ নং। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত থেকে এই ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরিত হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য