artk
৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

শুধু হাওয়া খেয়ে বেঁচে আছেন ৭০ বছর!

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮২৩ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১২ জুন ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৮২৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১২ জুন ২০১৮


শুধু হাওয়া খেয়ে বেঁচে আছেন ৭০ বছর! - বিদেশ
প্রহ্লাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে

কোনো খাবার এমনকি পানি না পান করে বেঁচে আছেন দীর্ঘ সত্তুর বছর। সব রকমের খাদ্য বাদ দিয়ে তিনি শুধু হাওয়া খেয়ে বেঁচে আছেন এমনটাই দাবি তার। তবে চিকিৎসা বা জীববিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত একটা বড় অংশই কিন্তু একবাক্যে উড়িয়ে দিচ্ছেন এহেন হাওয়া খেয়ে বেঁচে থাকার দাবি।

শুধুমাত্র নিয়মিত যোগাসন করেন। বায়ুসাধনাই তার মূল মন্ত্র। আর তাতেই নাকি ‘ফিট’ এই যোগী। মা অম্বার কৃপায় তিনি নাকি এ ভাবেই জীবনের ৮৮ বছর পার করে দিয়েছেন।

এই যোগীর আসল নাম প্রহ্লাদ জানী। ভারতের গুজরাতের মেহসানায়, চারোদ বা চারাদা গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

পরনে লাল কাপড়। কপালে লাল টিপ।এক মুখ দাড়িগোঁফ। জুয়েলারিও পরেন দিব্যি। রয়েছে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত। যে কোনও সমস্যায় পড়লে, এই পাওহারি বাবা নাকি তার সমাধান করে দেন। পাওহারির অর্থ পবন-আহারি, অর্থাৎ যিনি পবন বা হাওয়া খেয়েই বেঁচে থাকেন।

তার দাবি, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কিছু না খেয়েই রয়েছেন। ১৮ বছরের বয়সেই নাকি ঠিক করে নিয়েছিলেন, জীবনটা অন্য রকম ভাবেই কাটাবেন। তখনই শুরু হয় যোগাসন ও বায়ুসাধনা।

এর আগেম এপিজে আবদুল কালাম রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে, ২০১০ সালে, দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (ডিআরডিও) ও কেন্দ্রীয় সরকারি গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা টানা ১৫ দিন ধরে নজরদারি চালিয়েছিলেন প্রহ্লাদের ওপর। এমআরআই, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, এক্স-রে অনেক কিছু করা হয়েছে। সূর্যের আলোয় টানা বসিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে তার শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। শরীর থেকে রক্ত নিয়ে মাপা হয়েছে লেপটিনের পরিমাণ। কারণ এই মাস্টার হরমোন লেপটিনই নিয়ন্ত্রণ করে দেহের ওজন। দেখার চেষ্টা হয়েছিল, এই লেপটিনের কোনও রকম এদিকওদিক হচ্ছে কি না প্রহ্লাদের শরীরে। যাকে বলে ‘এক্সট্রিম অ্যাডপটেশন’। তবে হতাশার কথা হলো- সব মিলিয়ে রহস্যভেদ হয়নি।

আমেরিকার হেনরিফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক পারিজাত সেন আনন্দবাজারকে বলেন, ‘‘এটা একেবারে ভাঁওতাবাজি। বাঁচতে গেলে সামান্য কিছু হলেও খেতে হবে। শরীরের সিস্টেম কিছুদিন পরই আর সাপোর্ট করবে না। এই পাওহারি বাবা-টাবা স্রেফ গল্প।’’

অন্য দিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের শারীরতত্ত্ব (অ্যানাটমি) বিভাগের স্পেশালিস্ট মেডিক্যাল অফিসার চিরঞ্জিৎ সামন্তর কথায়, ‘‘এই ধরনের ঘটনার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে ফরেনসিক মেডিসিনে সাসপেনডেড অ্যানিমেশন বলে একটা শব্দ রয়েছে। কোনও মানুষের মৌল বিপাক ক্রিয়া অর্থাৎ বিএমআর-এর হার খুব কমিয়ে রেখে একেবারে আলোবাতাসহীন কোনও জায়গায় থাকলে তিনি বেঁচে থাকতে পারেন কি না, এ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ৭০ বছর ধরে না খেয়ে বেঁচে থাকা? অসম্ভব।’’

প্রহ্লাদ জানীর প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বিয়াস সামন্ত বলেন, ‘‘যোগী বাবা একেবারেই কিছু খান না হতেই পারে না। এ সব একেবারে ভুল। বেঁচে থাকতে গেলে তো এনার্জি সোর্স চাই।’’

তিনি বলেন, ‘‘সাসপেনডেড অ্যানিমেশনেও অসম্ভব এটি। দীর্ঘ দিন না খেয়ে থাকলে ত্বক, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় সর্বত্র প্রভাব পড়বে। ডিহাইড্রেশন হবে। দেহের বিভিন্ন অংশে জল জমে ফুলেও উঠতে পারে। চলাফেরার ক্ষমতা তো থাকবেই না।’’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য