artk
৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জামের জাদুকরি গুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০২৮ ঘণ্টা, রোববার ১০ জুন ২০১৮


জামের জাদুকরি গুণ - লাইফস্টাইল

বাজারে আম কাঁঠালের পাশাপাশি এখন দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জাম। বেগুনি রঙের মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি অনেকেরই পছন্দ। গ্রীষ্মকালের অতি পরিচিত এ ফলটির গুণাগুণ সম্পর্কে জানেন কী?

জানলে অবাক হবেন সাধাসিধে জামের কিন্তু রয়েছে অসাধারণ সব গুণ। যারা জাম খেতে পছন্দ করেন বা করেন না, সবারই জানা উচিত জামের উপকারীতাগুলো-

*ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়

এই ফলটিতে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন এবং ভিটামিন সি। এ উপাদানগুলো একদিকে যেমন “ডি এন এ’র সুরক্ষা দেয়। তেমন ত্বকের ভেতরে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে শুরু করে। আর এমনটা যখন হয়, তখন বলিরেখা তো অদৃশ্য হয়ে যায়ই, সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্যও বাড়ে চোখে পড়ার মতো।

*দেহের প্রদাহের মাত্রা কমে

দেহের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া প্রদাহ নানাবিধ রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু এই প্রদাহ মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তা ক্রনিক ইনফ্লেমেশনের কারণে শরীরে একে একে নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। যেমন ক্যান্সার, হৃদরোগ, হতাশা ইত্যাদি। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেতে পারেন জাম। নিয়মিত জাম খেলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় না।

*অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর হয়

সারা দিন ধরে নানাভাবে নানা ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঠিক ঠিক সময়ে এই সব টক্সিক উপাদানদের যদি শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে একদিকে দেহের অন্দরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা যেমন বাড়ে তেমনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এই কারণেই তো নিয়মিত জাম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ফলটিতে থাকা প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করে দেয়।

*হাড় শক্ত হয়

জামে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন কে। এ উপাদান গুলো হাড়ের ঘনত্ব ডেনসিটি বাড়াতে এবং বিভিন্ন ধরনের হাড়ের রোগকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

*ওজন কমে

ওজন কমাতেও জামের জুরি নেই। এতে রয়েছে প্রায় ৩.৬ গ্রাম ফাইবার, যা অনেকক্ষণ ধরে পেট ভরা রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। আর খাবার কম খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশের আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

*হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

জামে ফাইবার রয়েছে তা তো আগেই বলেছি। এটি কিন্তু হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগের চিকিৎসাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

*মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ে

২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে জামের অন্দরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, টক্সিক উপাদানের হাত থেকে ব্রেনকে রক্ষা করে। ফলে বয়স বাড়লেও তার ছাপ পরে না মস্তিষ্কের উপর। সেই সঙ্গে কগনেটিভ পাওয়ার বেড়ে যাওয়ার কারণে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়তে শুরু করে। এই কারণেই তো জামকে চিকিৎসকেরা “ব্রেন ফুড” নামে ডেকে থাকেন।

*হৃদযন্ত্র ভালো রাখে

জাম একদিকে যেমন ব্লাড প্রেসারকে স্বাভাবিক রাখে, তেমনি রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, সার্বিকভাবে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও জাম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

জাম খেতে পারেন এমনই ফল হিসেবে। অথবা ফলটি জ্বাল দিয়ে জুস করেও খেতে পারেন। জাম স্বাদে ও গুণে অদ্বিতীয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য