artk
শনিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০১৯ ৪:২০   |  ৫,মাঘ ১৪২৫
বৃহস্পতিবার, জুন ৭, ২০১৮ ৫:০০

সপ্তাহে একবার হাজিরার শর্তে ছাত্রলীগ নেতা রনির জামিন

 13
media

চাঁদাবাজির একটি মামলায় আটক চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিকে জামিন দিয়েছেন বিচারক। তবে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিনে তাকে আদালতে হাজিরা দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৭ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুল কেন্দ্রের বাইরে থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও ১৫ রাউন্ড গুলি এবং একটি সিল ও নগদ ২৬ হাজার টাকাসহ রনিকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

হাকিম মোহাম্মদ শফিউদ্দিন বৃহস্পতিবার রনির আবেদন গ্রহণ করে তাকে শর্ত সাপেক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর জিম্মায় জামিন দেন।

কারাবন্দি রনি জামিন চেয়ে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ খানের করা মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করে গত সোমবার রনিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন রনি। তার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন।

বন্দর নগরীর চকবাজার এলাকার মতি টাওয়ার নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় বিজ্ঞান কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বিপণিকেন্দ্র। এবছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপথ সংগ্রহ করতে গেলে পাঁচ হাজার টাকা করে উন্নয়ন ফি দাবি করা হয় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

৩১ মার্চ বিজ্ঞান কলেজে অভিভাবকদের অবস্থানের মধ্যেই সামনে সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে খবর পেয়ে নিজ অনুসারীদের নিয়ে সেখানে যান রনি। ওইদিন ‘উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাহেদ খানকে চেম্বারে প্রবেশ করানোর এক পর্যায়ে তার শরীরে আঘাত’ করার কথা স্বীকার করে পরে এক বিবৃতিতে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন রনি।

৩১ মার্চের ওই ঘটনার পর সে রাতে নগরীর চকবাজার থানায় বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ খানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন রনি।

এরপর ৪ এপ্রিল রাতে চকবাজার থানায় ছাত্রলীগ নেতা রনির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন জাহেদ খান।

এছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে পুলিশ।

ওই দুই মামলা ছাড়াও নগরীর এমএ আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মাণবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা আছে।

এছাড়া নগরীর জিইসি মোড়ের একটি কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াও রনির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন।

রাশেদ মিয়াকে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চান রনি। এরপর ২০ এপ্রিল আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে অব্যাহতির ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সবশেষ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শেয়ার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় মানহানির অভিযোগে গত ১৬ মে রনির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নগর ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য তানজিরুল হক চৌধুরী।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে