artk
৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আজাদুর রহমানের কবিতা

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১১১ ঘণ্টা, রোববার ২৭ মে ২০১৮


আজাদুর রহমানের কবিতা - শিল্প-সাহিত্য

 

নীল তিল

আমি কবিতা লেখার জন্য বসে আছি, নানান কিচির মিচির শব্দ, বহুদিন ধরে নীল মাছির মত পিতলাচ্ছে, আমার চারিদিকে হলুদ ফুটকি তোলা, ধুসর, নীল, কাটা কাটা মেরুনের কালো ইত্যাদি নানান রঙের প্রজাপতি উড়ছে, এরা জানে অসহায় পরিস্থিতি কাকে বলে, কাকে বলে চিটচিটে নোনা অভিমান, এরা ভাগ বুঝে আমাকে জ্বালায়, এরা জানে যে আমি মানুষ না, কোন এক জোছনা রাতে আমাকে প্রসব করেছিল সবুজ এক বৃক্ষ, এরা এও জানে যে, আমি বানানের তোয়াক্কা করব না বরং শিকারীর চোখের মত সুগভীর নিশানায় ঢুকে যাবো দৃশ্যের কলিজায়, চলে যাব কেদ্র কুসুমে। তখন আমার আর মানুষের মত লাল রক্ত থাকবে না, হয়ে যাবে তীব্র সবুজ, আমার মাথার ভিতরে অরণ্য, কচি কচি ঘাস, সুদুর মাঠ, সাদা নীল লাল হলুদ খয়েরি ফুল আর ফুলের বাগান, আমার বুকে থাকবে চলকে ওঠা নদী, আমার কোন প্রেমিকা থাকবে না, গ্রামীন চাহনি থেকে চরের মত জেগে উঠবে নীল তিল, আমি সেসবের কিছুই দেখব না, আমার চোখ সবুজ হয়ে যাবে। আমি একটা গাছের পাশে গাছ হয়ে জন্মাব, জোনাকিরা সেলাই করবে আমার ঝাঁকড়া চুল।


জীবন এক আগুন

আমি ভাঙা মন নিয়েই পৃথিবীতে এসেছিলাম,
এখন দেখি এখানেও প্রচুর ভাঙচুর,
মৃত্যু ছাড়া সব কিছুই শিখতে হচ্ছে এখানে,
আগুনের ব্যবহার জানি না
অথচ জীবন এক ভয়াবহ আগুন।


মদ অথবা ঘুম

নদীর কাছে গেলে আমার ঘুম পায়
চোখগুলো ঢুলু ঢুলু করে।
শীতের রাতে আগুনে হাত আচলে যেমন
কুড়েমির লতা শরীর বেয়ে পায়ে নেমে যায়
তেমন করে চোখের পাতা জড়িয়ে জড়িয়ে আসে।
মনে হয় মধ্য দুপুরে গরুর গাড়িতে শুয়ে যাচ্ছি
আকাশ ভরে ভাত ঘুম, শিমুল তলা,
লাল গোলাপি ফুল, তারা খসানো ভাটবন
মনে হয় ঘুম মানে মদ,
মদ মানে মৃত্যু।


মায়া, দ্য পিকুলিয়ার

মায়াকে বাইপাস করতে তুমি কুকুর পুষছো,
চোখে গাঢ় করে কাজল দিচ্ছো,
বাগানে গোলাপ লাগাচ্ছো,
শপিং করছো,
ভ্রমণ, টেলিফোন, ফাস্টফুড, ফর্মা ক্যাশকার্ড
কিছুই বাদ যাচ্ছে না,
কাজের পরে কাজের ভিতর ডুবে যাচ্ছো তুমি।
এত কিছু করেও
মানুষের মায়াকে অতিক্রম করতে পারছ না তুমি।


নিয়ম

পৃথিবীতে কয়েক পশলা বৃষ্টি হলে
সব নিয়মকানুন পালটে যায়।
অন্যরা কবিতা খুঁজলে
ভাটবনে নিকুঞ্জ গড়ে পুরোনো মন
পথে পথে গেরস্থালী, টিমটিমে সন্ধ্যা
আমি হয়ে যাই বেমানান বাউল


উড়ছে, কফিন

জোছনার ঘর, ঢুকে পড়েছে
সাদা কুয়াশা,
সাদার ভিতরে সাদা রাজহাঁস
আমার দোতরা,
চাঁদরে ঢাকা মৃতদেহ
আমার শরীর,
জামার বোতাম-সব স্ফটিক
নীলচে প্রভা
বদরাগী সুইচগুলো উড়ছে
ঘরময় প্রজাপতি,
কাগজের জানালায় হাওয়া
গোলাপি ঘুড়ি,
দরজা গলে গালিচা
কফিন পথ,
ভেসে উঠেছে সাদা পালংক
জানালা, দরজা, দোতরা, কফিন -
উড়ছে
পিছনে বদরাগী সুইচগুলো প্রজাপতি,
উড়ছে।


বাবা

আপনাকে চিরকাল আমি আব্বা ডেকেছি, আপনি লেখাপড়া জানতেন, কাতর কলিজা নিয়ে শাসন করতেন, সংসারে সৎ ও অতীব সহ্যশীল ছিলেন আপনি, আপনি সারারাত এজমায় কাশতেন, ছাই দেয়া মালসা ভরিয়ে ফেলতেন শ্লেষ্মায়, আপনি ভেন্টোলিন সিরাপ কিনে খেতেন, বালিশের নিচে মারনাস্ত্রের সতর্কতায় ইনহেলার রাখতেন, আমাদের ঘুম নষ্ট হত, আমাদের ভ্রুগুলো একদিন আপনার মুখের উপর কুঁচকে যেত, আপনার আমার মত বড় বড় চোখ ছিল, ঘোলা ঘোলা, আপনি দেখতে পেতেন, কানে শুনতেন, আশি বছর বয়সেও টাটি শুপারিরে পান খেতেন, আপনার কপালের মত কপাল, চোখের মত চোখ সেসব অঞ্চলে আর কারো ছিল না, আমাদের লেখাপড়া দেখে আপনি প্রচুর বিচলিত হতেন কিন্তু একদিনও আপনার চোখ থেকে মায়া চলে যেতে পারেনি। এখনও আমি বুঝতে পারি না, কেন আমি আপনাকে বাবা ডাকতে পারি নি, চিরকাল আব্বা ডেকেছি। অথচ মনে মনে আমি আপনাকে শুধু বাবাই বলেছি। বাবা আজ খুব আপনার পাশে ঘুমুতে ইচ্ছে করছে, খুব।
আমি গোরস্তানের দিকে যাচ্ছি, আপনার পায়ের কাছে প্রচুর ঘুম জমে আছে, আমার।


এক সেকেন্ড, আসছি

হে অরণ্য অপেক্ষা কর,
ভাটফুল একটু, এক সেকেন্ড
হে নদী অপেক্ষা কর,
মৃত্যু একটু, এক সেকেন্ড
তোমাদের ছেড়ে
আর কোথাও যাব না আমি
আসছি।
এক সেকেন্ড।


নিজস্ব বেদনা

কিছুই বলা হবে না, চুপ মুখে ভাববো
আমি কতদিন নিজেকে সরিয়ে রেখেছি
কত কত দিন আমি একলা-নিরতিশয়
কার আঙুলে রেখেছি কথা, ভুলে গেছি
কিছু নাম, গত সোমবারের ব্যাথা, ভাত সবজির
মাছ আলু না মাংস, ভুলে গেছি।
উড়ে উড়ে প্রজাপতি কার খবর বিলি করে
প্রেমের মত পত্র নিয়ে পরাগে নাচে
বোঝাপড়ার পড়া নাই,
সর্বাংগে এক সুর, সুরের জীবন,
ভুলবোঝা ভুল পাতায় পাতায় দুলে যায়
পাতাদের নিজস্ব বেদনা,
যার কথা সেই জানে,
জানে ভুলের মধ্যে ভুল-ভারগ্রস্থ জবান

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য