artk
৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৬:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মাদকবিরোধী অভিযান: কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১২

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৮৫০ ঘণ্টা, শনিবার ২৬ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৪২ ঘণ্টা, রোববার ২৭ মে ২০১৮


মাদকবিরোধী অভিযান: কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১২ - জাতীয়
প্রতীকী ফটো

কুমিল্লা, চাঁদপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পাবনা, ফেনী, বরগুনা ও ঠাকুরগাঁও জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানকালে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাগুলো ঘটে।

জেলা সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়:

কুমিল্লা: জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগরা এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৬) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

নিহত বাবুল একই উপজেলার আশাবাড়ি গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মাদকের মামলা রয়েছে। আলমাস উপজেলার দক্ষিণ তেতাভূমি গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আটটি মাদকের মামলা রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহ জাহান কবির জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে ব্রাহ্মণপাড়া-দেবিদ্বার সার্কেলের এএসসি শেখ মোহাম্মদ সেলিম ও ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজান কবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার বাগরা এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত দেড়টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস তাদের সহযোগীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছলে তাদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস গুরুতর আহত হয়।

তাদের উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে উভয়ের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

দিনাজপুর : দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরও একজন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন-বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও নিহত আবদুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

র‌্যাব ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, শুক্রবার ভোর রাতে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য।

এদিকে, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে গেলে আবদুস সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আবদুস সালামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে।

নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার বাড়ি থেকে ১১০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি ও কচুয়া থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু।

বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকি চারজন পালিয়ে যান।

পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ: জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান (৩০) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ফেনী : জেলার রুহিতিয়া এলাকা থেকে কবির হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রুহিতিয়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

কবির পরশুরাম উপজেলার ধনিকুণ্ড গ্রামের আবুল খালেক বেতুর ছেলে।

ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খাঁন চৌধুরী জানান, ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রুহিতিয়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় গোলগুলির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, একটি গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পাবনা : জেলার সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুর রহমান (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুর রহমান সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেন্দ্রপুরের দুর্বার সবুজ গোষ্ঠীর পাশে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ককটেল ছোঁড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পিছু হটলে সেখান থেকে আব্দুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটার গান, তিনটি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, চারটি কার্তুজ এবং ২০০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়।

বরগুনা: জেলার সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছগির খান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান জানান, মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিচয় শনাক্ত করে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এসময় একটি আগ্নোয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়।

নিহত ছগির খান বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ছগির খান মারা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম: জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় পুলিশের মাদকরিরোধী বিশেষ অভিযানে ইব্রাহিম নামে এক জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোররাতে উপজেলার দক্ষিণ বাঁশজানি এলাকায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির বলেন, “ভোরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বাঁশজানী গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গেলে তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিমের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।”

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সুপরিনটেনডেন্ট ডা. আবু তাহের মো. আনোয়ারুল হক প্রামানিক বলেন, “পায়ে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিম হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যবরণ করেন।”

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন।

নিহত মোবারক হোসেন ওরফে কুট্টি (৪০) জেলা শহরের রোড ছিট চিলারং গ্রামের শফির উদ্দিনের ছেলে।

জেলার পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, রাত ৩টার দিকে বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের দানারহাট এলাকায় একদল মাদক বিক্রেতা অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়।

“পথে পশ্চিম বেগুনবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ করে মাদক বিক্রেতারা গুলি করে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষে প্রায় ১০ মিনিট গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে মাদক বিক্রেতা মোবারক হোসেন ওরফে কুট্টি নিহত হন।”

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০০ ইয়াবা, কয়েকটি ধারালো অস্ত্র, পাঁচটি বিস্ফোরিত ককটেলের ধ্বংসাবশেষ, পাঁচটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে জানিয়ে বলেন, নিহত মোবারকের বিরুদ্ধে সদর ও পীরগঞ্জ থানায় ১৫টি মাদক ও চোরাচালান মামলা রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য