artk
৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কবি নজরুল ও প্রেম বিরহের কুমিল্লা
কবি তীর্থ দৌলতপুর

হুমায়ুন গালিব | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৫৪৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৩২ ঘণ্টা, শনিবার ২৬ মে ২০১৮


কবি তীর্থ দৌলতপুর - টুইট-ফেস

শুভ জন্মদিন প্রিয় ভালবাসার কবি। জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জীবনে কুমিল্লার ব্যাপ্তি অনেক। কবিতায় প্রেম, ভালবাসা, বিরহ, বিদ্রোহ এই কুমিল্লাকে ঘিরেই। তার প্রথম স্ত্রী নার্গিসের স্মৃতি বিজড়িত স্থান কবি তীর্থ দৌলতপুর। আরেক স্ত্রী কুমিল্লা শহরের প্রমীলা দেবী।

১৯২১ সালে (বাংলা ২৩ চৈত্র ১৩২৭) নজরুল ইসলাম কুমিল্লা হয়ে মুরাদনগরের দৌলতপুরে আসেন এবং ৭১ দিন অবস্থান করেন। নজরুল দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে- ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ প্রভৃতি।

কবির দীপ্ত পদচারণা কুমিল্লাকে করেছে মহিমান্বিত। ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কবি পাঁচ বার কুমিল্লায় আসেন। এ পাঁচ বারে তিনি ১১ মাসের বেশি সময় কাটান কুমিল্লা শহর ও জেলার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুরে।

প্রথমবার ছিলেন ৮ জুলাই পর্যন্ত। দ্বিতীয়বার আসেন ১৯২১ সালের নভেম্বরে, ছিলেন ডিসেম্বর পর্যন্ত। তৃতীয়বার আসেন ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিলেন জুন পর্যন্ত, চতুর্থবার ১৯২২ সালের অক্টোবর থেকে ২৩ নভেম্বর, পঞ্চমবার অর্থাৎ শেষবার কবি এসেছিলেন ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে, তবে চলে যাওয়ার তারিখ অজ্ঞাত। তার এই সফরের সাক্ষ্য হয়ে আছে দোলনচাপা, অগ্নিবীণা, ছায়ানট, ঝিঙ্গেফুল, পুবের হাওয়া প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। কবির বিয়ে থেকে শুরু করে দুদফায় গ্রেপ্তার হন এ জেলায়। প্রমীলা দেবীর বাড়ি, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে কবিতা গানের আসর, ঝাউতলায় গ্রেপ্তার হওয়া, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার, নানুয়া দীঘির পাড়, দারোগা বাড়ি, ইউছুফ স্কুল রোড, মহেশাঙ্গন, কুমিল্লা বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তন ও মাঠ, দক্ষিণ চর্থায় শচীন দেব বর্মনের বাড়ি, নবাব বাড়ি, ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের বাড়ি, নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, রানীর দীঘির পাড়, রেলস্টেশন, কোতোয়ালি থানা, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মুরাদনগরের দৌলতপুরসহ অসংখ্য স্থানে কবির স্মৃতিচিহ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়ি, যেখানে নজরুল ছিলেন। কুমিল্লায় কবির প্রথম আগমন ঘটে মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে, এ গ্রামেরই কবির পূর্ব পরিচিত আলী আকবর খানের আমন্ত্রণে। কবি আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে সৈয়দা নার্গিস আরা খানমকে একই বছরের ১৭ জুন বিয়ে করেন। যা ছিল তার জীবনের প্রথম বিয়ে। ভালবেসে নাম রেখেছিলেন প্রিয় ফুলের নামে ‘নার্গিস’। নজরুল-নার্গিসের বাসর ঘরের খাটটি এখনো স্মৃতি হয়ে আছে। নার্গিসের সেই বিয়েতে গিরিবালা দেবীও তার কন্যা প্রমীলাও উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কবি বাসররাতেই দৌলতপুর ছেড়ে কুমিল্লা শহরে চলে আসেন। শহরে কবি ইন্দকুমার সেনের বাসায় অবস্থানকালে তার ভ্রাতৃজায়া গিরিলা দেবীর একমাত্র কন্যা আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলার সঙ্গে পরিচয় হয় এবং ১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল কলকাতায় তাদের বিয়ে হয়। ১৯২১ সালের নভেম্বর মাসে কুমিল্লায় তিনি ব্রিটিশবিরোধী গান গাইবার কারণে গ্রেপ্তার হন। ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর শহরের ঝাউতলা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হন কবি।
কবি পঞ্চম ও শেষবারের মতো কুমিল্লায় আসেন ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর। কুমিল্লায় সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মনের সঙ্গে ছিল সখ্যতা। ১৭ বছর অপেক্ষার পর নার্গিস কবি আজিজুল হাকিমকে বিয়ে করে দেশান্তরি হন। এর আগে নার্গিসের মামা কলকাতা গিয়ে কবি নজরুলের কাছ থেকে তালাকনামা নিয়ে আসেন। বিয়ের পর কবি নজরুলও তাকে নিয়ে অনেক কবিতা ও চিঠি লিখেছেন। অভিমানী নার্গিস আর দেশে ফেরেননি। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

১৯৬২ কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কান্দিরপাড়-ধর্মপুর রেলস্টেশন সড়কের নামকরণ করেন নজরুল এভিনিউ। ১৯৮৩ সালে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ আমিনুর রহমানের উদ্যোগ ও জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় শ্বেতপাথরের ফলক লাগানো হয়। এসব ফলকে কবির গান, কবিতা, ছড়া ও বাণী তুলে ধরা হয়। (তথ্য সংগৃহিত)

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত