artk
৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৯ জুন ২০১৮, ২:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মানবাধিকার বিষয়ক ৬১টি সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৫৩ ঘণ্টা, রোববার ২০ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৪১৬ ঘণ্টা, সোমবার ২১ মে ২০১৮


মানবাধিকার বিষয়ক ৬১টি সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ - জাতীয়

জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৩০তম অধিবেশনে মানবাধিকার বিষয়ক ৬১টি সুপারিস বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ- এইচআরএফবি।

এইচআরএফবির সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি রোববার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই অধিবেশনে ১০৫টি দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ২৫১টি সুপারিশ করেন। এর মধ্যে সরকার ১৬৭টি সুপারিশ গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় স্পর্শকাতর বা যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নিয়েছে। আর ৬১টি সুপারিশ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে প্রত্যাখান করেছে।”

সময় চাওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে আলোচিত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারাও আছে। অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫৭ ধারা বাতিলের বিষয়টি সরকারের ‘বিবেচনাধীন’।

ফোরামের সদস্য ও নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য সরকার মানুষের কাছে কমিটমেন্ট করেছে, কিন্তু ইউপিআর পর্যালোচনা অধিবেশনে আইনমন্ত্রী উপস্থিত থেকে এ বিষয়ে কেন সময় নিলেন? এটা একটা প্রশ্ন।”

এছাড়া আর কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এইচআরএফবি।

২৩টি সুপারিশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সরকারের সময় নেয়া ও ৬১টি সুপারিশ প্রত্যাখান করার বিষয়টি ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে তামান্না হক বলেন, এ বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে দুর্বল করবে বলেই তিনি মনে করেন।

তামান্না হক আরও বলেন, যেসব সুপারিশ গ্রহণে সরকার সময় নিয়েছে, তার মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবিধানিক বিধানের প্রয়োগ, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ সংক্রান্ত ধারার ক্ষেত্রে; আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে আইনগত ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ের বয়স সংক্রান্ত বিশেষ ধারা বিলোপের মাধ্যমে আইনের সংশোধন; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, গুমের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার কথা রয়েছে।

এছাড়া বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষর; জাতিসংঘের সকল বিশেষ প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের অনুমতি প্রদান; রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া; মৃত্যুদণ্ড রহিত করা; অনলাইন ও অফলাইনে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিসর বাড়ানো এবং এ উদ্দেশ্যে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বিলোপ এবং বৈদেশিক সহায়তা নিয়ন্ত্রণ আইন পর্যালোচনাসহ আরও বেশকিছু সুপারিশ সরকার প্রত্যাখান করেছে বলে জানান তামান্না।

কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা বলেন, ২০১৩ সালের অধিবেশনে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ সরকারকে ১৯৬টি সুপারিশ দিয়েছিল। এর মধ্যে সরকার ১৫১টি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সেগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা এখন বড় প্রশ্ন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত