artk
৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৮ জুন ২০১৮, ৯:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অতিমূল্যায়িত দরে ক্রয়বিক্রয় ইন্ট্রাকোর শেয়ার

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০০২ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮


অতিমূল্যায়িত দরে ক্রয়বিক্রয় ইন্ট্রাকোর শেয়ার - অর্থনীতি

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের শেয়ার অতিমূল্যায়িত দরে ক্রয় বিক্রয় হয়েছে। লেনদেনের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির দশ টাকা শেয়ার দিনশেষে দাড়িয়েছে ৪৩.৩০  টাকায়।

প্রথমদিনের লেনদেন শেষে এ কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৩.৩০ টাকা বা ৩৩৩ শতাংশ। শেয়ারটির দর বাড়ার এ ধারাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারের প্রাইমারি মার্কেটে এলেই সেই শেয়ার উচ্চমূল্যে কিনতে হবে, এটা মোটেও ঠিক নয়। কারণ একটি কোম্পানি যখন আইপিওতে আসে তার আগেই সবকিছু বিবেচনা করে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর নির্ধারণ করা হয়। সেই কোম্পানির শেয়ার যখন প্রাইমারি মার্কেটে দর নির্ধারণের অতিরিক্ত দরে ক্রয় হয়, সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। আর শেয়ার দর নির্ধারণের চারগুন বেশি দরে ক্রয় রীতিমত বিনিয়োগ অন্ধকারে ফেলে দেয়ার মতো অবস্থা।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের শেয়ার দর ১০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৩.৩০ টাকায় চলে এসেছে। দর বাড়ার এ কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা বিনিয়োগকারীরা একসময় হতাশায় মধ্যে পরবে। আবার ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনে পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৫৩.১৭ পয়েন্টে। এ হিসেবে কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ ফিরে পেতে ৫৩ বছর লাগবে। এমন পিই রেশিওর কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় এসব উচ্চ পিই সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেয়ারবাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কোনো কোম্পানির পিই ১৫ ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই বেঁধে দিয়েছে।

উচ্চমূল্যে শেয়ার ক্রয় করা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, “আপনারা উচ্চমূল্যে শেয়ার ক্রয় করে বিনিয়োগ অন্ধকারে ফেলবেন আবার সেই বিনিয়োগ নিরাপদ রেখে লাভ প্রত্যাশা করবেন, এটা কেমন কথা। আইপিওর সময় আপনাদের জানানো হয় শেয়ারের দর। সেই শেয়ার কেন উচ্চমূল্যে কিনতে হবে, আমি বুঝি না।”

২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে এককভাবে ১০.৪৯ টাকা এবং সমন্বিতভাবে ১৩.৮৭ টাকা। আর প্রথমদিনের লেনদেন পর কোম্পানির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪৩.৩০ টাকায়। এহিসাবে এনএভিপিএসের এককভাবে ৪.১২ গুণ বেশি দরে আর অভিহিত মূল্যের ৪.৩৩ গুন বেশি দরে এ কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ফলে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিতে আছে।

কোম্পানির বিগত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) গড় হারে হয়েছে সমন্বিতভাবে ১.৪৩ টাকা এবং এককভাবে ০.৬৭ টাকা।

এর আগে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬২৪তম কমিশন সভায় কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করেছিল। কোম্পানিটির পাঁচটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি আছে, যার প্রতিটিতে ৯৫ শতাংশ শেয়ার হোল্ডিং করছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

জানা গেছে, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন আইপিওর মাধ্যমে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করেছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। উত্তোলিত টাকা দিয়ে এলপিজি বোতলজাতকরণ ও ডিস্ট্রিবউশন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং আইপিও প্রস্তাবের খরচ মেটানো হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য