artk
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৬ মে ২০১৮, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

‘সরকারি চাকরি থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের বরখাস্ত করতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১২৪ ঘণ্টা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৩৬ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮


‘সরকারি চাকরি থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের বরখাস্ত করতে হবে’ - রাজনীতি
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান: ফাইল ফটো

স্বাধীনতা বিরোধীরা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, সরকার বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজাকারের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না পায় তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা এবং ৬-দফা দাবি সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন শাহজাহান। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন এবং মুত্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, “সরকার বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে- তাদের চিহ্নিত করতে হবে।”

কোটা সংস্কার নিয়ে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরোধী নই, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যাপারেও আমাদের কোন দ্বিমত নেই, কিন্তু স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজাকারের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেপেথ্যে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের সক্রিয় কর্মীরা জড়িত রয়েছে।”

তিনি বলেন, “কোটা সংস্কারের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানী দিয়ে যারা নাশকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

শাজাহান খান বলেন, “একাত্তরে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ও রাজাকারারা যেভাবে মুখোশ পড়ে নিরস্ত্র মা-বোনদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঠিক একই কায়দায় সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মুখোশ পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাস ভবনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

এসময় স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করার আহ্বান জানান নৌ-পরিবহনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার চেতনা রক্ষায় সব অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি একের পর এক যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, তারা কিন্তু এখনো বসে নেই, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করতে সর্বশক্তি ব্যয় করবে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

স্বাধীনতা বিরোধীদের লুটপাটের অর্থ বর্তমানে জঙ্গি তৎপরতায় ব্যয় হচ্ছে, তাদের অর্থ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় অনুকূলে ন্যাস্ত করার দাবি জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারী বেগম খালেদা জিয়া, তার পুত্র তারেক রহমানসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের পশ্চাত্যের জেনোসাইড ডিনায়েল আইনের আদলে আইন প্রণয়ন করে দেশদ্রোহী হিসেবে বিচার করতে হবে।”

সভায় শিরিন আক্তার বলেন, আন্দোলনের নামে যারা ২০১৩ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, যাদের নেতৃত্বে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে, সেই খালেদা-তারেক রহমানকে যারা নির্বাচিত করতে চায় তারাই স্বাধীনতা বিরোধী, তাদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম-সচিব রোকেয়া প্রাচীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য শিরীন আক্তার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মানিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবিব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এ আরাফাত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ বক্তব্য দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত