artk
৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

আনা ফ্রাঙ্কের প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ডার্টি জোকস

বিবিসি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১১৮ ঘণ্টা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮


আনা ফ্রাঙ্কের প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ডার্টি জোকস - জাতীয়

হলোকাস্টের শিকার আলোচিত ইহুদি কিশোরী আনা ফ্রাঙ্কের দিনলিপির লুকানো দুটি পৃষ্ঠা প্রকাশিত হয়েছে। যাতে পাওয়া গেছে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক ডার্টি জোকস এবং তার যৌনতা নিয়ে ভাবনা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসিদের ভয়ে লুকিয়ে থাকা কিশোরী আনা ফ্রাঙ্কের ডায়রি তার মৃত্যুর পর এবং যুদ্ধ শেষে প্রকাশিত হলে তা বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলে।

সেই ডায়রির দুটো পাতা বাদামি কাগজ দিয়ে আবৃত ছিল। এ কারণে জানা সম্ভব হয়নি, কি এমন লেখা ছিল ওই দুটি পৃষ্ঠায়।

ধারণা করা হয় পরিবার থেকে একান্ত ব্যক্তিগত লেখাগুলো লুকাতেই আনা সেটার ওপর বাদামি কাগজ বসিয়ে আঠা দিয়ে জুড়ে দিয়েছিলেন।

গবেষণা সংস্থা নিউ ইমেজিং টেকনিকস অবশেষে সেই লুকানো দুটি পৃষ্ঠা পড়তে গবেষকদের অনুমোদন দিয়েছেন।

ডায়রির ওই অংশটি লেখা হয়েছিলো ১৯৪২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে। সে সময় অ্যানার বয়স ছিল ১৩ বছর।

নাৎসি বাহিনী নেদারল্যান্ডসে অভিযান চালানোর সময় অ্যানা ও তার পরিবার দুই বছর একটি গোপন স্থানে লুকিয়ে ছিল। এটি তার কিছুদিন আগেই সেটি লেখা হয়।

“আমি এই নষ্ট পাতা ব্যবহার করবো ডার্টি জোকস লিখতে”, এমনটা উল্লেখ করে আনা একটি পৃষ্ঠার উপর কাটাকাটি করে বেশ কয়েকটা বাক্য এবং যে চারটি কৌতুক জানতেন সেটা লিখেছিলেন।

সেখানে যৌন শিক্ষা সম্পর্কে কয়েকটি লাইন ছিল। এছাড়া, অন্য কাউকে তার এ সংক্রান্ত কথা বলার ব্যাপারে তার কল্পনা এবং পতিতাদের নিয়ে তার বাবা যেসব কথা বলেছিলেন, সেগুলোও ডায়রির অন্য একটি স্থানে তিনি লিখে গেছেন।

আমস্টারডামে আনা ফ্রাঙ্ক হাউস জাদুঘরের রোনাল্ড লিওপোল্ড বলেছেন, “আনা ফ্রাঙ্ক খুব নিরীহভাবেই যৌনতা সম্পর্কে লিখেছেন, অন্যসব কিশোর কিশোরীর মত তিনিও এই বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।”

২০১৬ সালে ওই লুকানো পাতার ছবি তোলা হয়েছিলো। সেই ছবি থেকে লেখাগুলো পাঠোদ্ধার করেন নিওড ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফ্রাঙ্ক ভ্যান ভ্রিয়। অ্যানার এই আবেগ তার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়। তিনি বলেন, “সম্প্রতি যে পাতাগুলোর খোঁজ পাওয়া গেছে এর কৌতুকগুলো যারাই পড়বে তাদের কেউ হাসি থামিয়ে রাখতে পারবেন না। এই কৌতুকগুলির প্রচলন উঠতি বয়সীদের মধ্যে বেশি। এতে এটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, সবকিছুর ঊর্ধ্বে আনা একটি সাধারণ মেয়ে ছিলেন।”

এরমধ্যে একটি কৌতুক হল, “আপনি কি জানেন জার্মান ভেরম্যাচ মেয়ে যোদ্ধারা কেন নেদারল্যান্ডসে এসেছে? এর উত্তরে বলা হয়- কারণ ডাচ সেনাদের তোশকের প্রয়োজন ছিল।”

অর্থাৎ জার্মান মেয়েরা এতোটাই স্থূল ছিল যে তাদের গদির সঙ্গে তুলনা দেয়া হয়।

আনা ফ্রাঙ্ক জাদুঘর জানায় কিশোরী বয়সী এই মেয়েটির যৌনতা নিয়ে লেখা এটাই প্রথম নয়। অন্যদের থেকে শোনা কৌতুকগুলো সেখানে উল্লেখ করা হয়। উঠে এসেছে তার মাসিক ও যৌনতা নিয়ে আরও অনেক কথা।

আনা যে পৃষ্ঠা দুটি স্পষ্টভাবে গোপন রাখতে চেয়েছিলেন সেগুলো প্রকাশের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানান, যে তার ডায়েরি-একটি ইউনেস্কো নিবন্ধিত বিশ্ব ঐতিহ্যের নথি- যাকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ রয়েছে।

“তবে এই পৃষ্ঠার লেখাগুলো আনার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোন পরিবর্তন আনবে না” বলে জানায় তারা।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, আনা ফ্রাঙ্ক কয়েক দশক ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় অধ্যায় হোলোকাস্টের অনেক বড় একজন সাক্ষী বা প্রতীক।

এই মেয়েটি ক্রমেই পটভূমি থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলো। তবে এই লেখাগুলো আক্ষরিক অর্থে বিভিন্ন মহলে কৌতূহলের উদ্রেক করায় আনা আবারো আলোচনায় উঠে এসেছেন।

নিজের ১৩তম জন্মদিনে এই ডায়রি উপহার পেয়েছিলেন আনা। তার একমাসের মাথায় অর্থাৎ ১৯৪২ সালের ৫ জুলাই অ্যানা তার পরিবার এবং তাদের বন্ধুদের সঙ্গে ওই গোপন সুড়ঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন।

সেই গোপন স্থানটি খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত দুই বছর ধরে তারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। এতো দীর্ঘ সময় সফলভাবে লুকিয়ে থাকা এই মানুষগুলোকে কিভাবে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো, তা আজও একটি রহস্য।

১৯৪৫ সালে অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হওয়ার বছরে নাৎসি মৃত্যু শিবিরে রোগে ভুগে মারা যান আনা ফ্রাঙ্ক।

আনার বাবা পরিবারের একমাত্র সদস্য যিনি শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন, ১৯৪৭ সালে অ্যানার ডায়েরি প্রকাশ করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত