artk
৭ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২২ আগস্ট ২০১৮, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের এমডিকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮৫৫ ঘণ্টা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯০১ ঘণ্টা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮


মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের এমডিকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা - জাতীয়

১২০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ঢাকার মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে করা মানিলন্ডারিং মামলা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মিজানুর রহমানকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে পাসপোর্ট ইস্যু না করার জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অনুরোধ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও পরিচালক খন্দকার সুরাত আলীকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।  

এ বিষয়ে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, বুধবার মানিলন্ডারিং মামলায় কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। এতে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুল্ক গোয়েন্দার অনুকূলে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, মঙ্গলবার মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা হয়। এ মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানের দুজনকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম ও পরিচালক খন্দকার সুরাত আলী। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কোম্পানির পরিচালক এম হক বাবুসহ আরো পাঁচজন।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি গোয়েন্দা দল ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-২৮২৩) ঢাকার ইসলামপুরে পণ্য খালাস করার পূর্বমুহূর্তে গাড়ির চালকের কাছে পণ্যের স্বপক্ষে চালান দেখতে চায়। তিনি পণ্যের পক্ষে বিল অব এন্ট্রি, তানিয়া কার্গো সার্ভিসের ডেলিভারি চালান ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির চালান দেখান। কিন্তু দাখিলকৃত বিল অব এন্ট্রি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাস্টমস বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাট্রিজের অনুকূলে পলি সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স পণ্য/কাঁচামাল আমদানি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল কেন ইসলামপুরে আনা হলো- জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে পণ্য বোঝাই করে গাড়িটি কাঁচামাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইসলামপুর আনা হয়েছে। পরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত গাড়ির বিষয়ে তথ্য চাওয়া হলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পণ্যসহ গাড়িটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তানিয়া কার্গো সার্ভিসের মাধ্যমে ফেব্রিক্স ডেলিভারি নেয়া হয়।

আমদানি-রপ্তানিসহ যাবতীয় কার্যক্রম অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে ইনভেন্ট্রি করে। ইনভেন্ট্রিতে প্রোডাকশন ফ্লোরসহ সর্বমোট ৯২০৬.৯০ কেজি নিট ফেব্রিক্স দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আর কোনো কাঁচামাল দেখাতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত বিভিন্ন রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিমাণ বিশ্লেষণপূর্বক অবৈধভাবে অপসারণের কারণে ১২০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি তথ্যাদি উদঘাটন করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজড/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত