artk
৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে নৌকায় সিল মারা হয়েছে: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২১৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৫ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯২৬ ঘণ্টা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮


পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে নৌকায় সিল মারা হয়েছে: রিজভী - রাজনীতি
রুহুল কবির রিজভী: ফাইল ফটো

খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি) কমিশনারের নির্দেশে ভোট চলার সময়ে সরকারি দলের সমর্থকরা নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন।

আজকের ভোট সন্ত্রাসের ঘটনায় খুলনা সিটির ভোটাররা ব্যথিত, বঞ্চিত, অপমানিত বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, “আমরা বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি, বেলা ২টা ৩০মিনিট থেকে ৪টায় ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে একচেটিয়া সিল মারার জন্য খুলনার পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনোদিনই দুষণমুক্ত নির্বাচন হবে না। কারণ সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা একই নৌকার যাত্রী হওয়ার কারণে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকেই আদর্শ নির্বাচন হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। অবৈধ সরকার জনগণ পরিত্যক্ত হলেই সেই সরকার বেআইনি কাজ করবেই এবং এর জন্য তাদের কোনো লজ্জাবোধ নেই।”

নির্বাচন কমিশন সরকারেরই বিম্বিত কণ্ঠস্বর মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, “আওয়ামী ক্যাডার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গুণ্ডামি এবং ভোটারদের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য গ্রেপ্তার ও বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের আগ্রাসন, ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া, মহিলা এজেন্টদের হুমকি সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত যা ভোট হয়েছে, তা প্রহসন। আওয়ামী লীগের সব কাজই প্রকৃতপক্ষে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।”

শেখ হাসিনার রাজত্বে গণতন্ত্র এখন ছিন্নমূলে পরিণত হয়েছে দাবি করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “সরকার মূলত দেশবাসীর রক্ত পান করতে করতে সারাদেশকে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের নিরবচ্ছিন্ন ভোটাধিকার হরণের ধারায় জনগণের অন্তহীন আর্তি এখন আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে।”

রিজভী বলেন, “খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর থেকেই ‘হাসিনা মার্কা’ নির্বাচনের স্বরূপ আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে। কেসিসি নির্বাচনে ধানের শীষের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়িতে বাড়িতে হুমকি, শারীরিক আক্রমণ, মহিলা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করাসহ আওয়ামী লীগের রক্তাক্ত নির্বাচন বাস্তবায়িত হচ্ছে আজ।”

রিজভী বলেন, সরকার সমর্থিত টিভি চ্যানেলগুলোতেও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট সন্ত্রাস ও ভোট জালিয়াতির চিত্র প্রচারিত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকারি জয়োল্লাসের ধরন থেকে বোঝা যাচ্ছিল নির্বাচনের দিন ভোটের পরিণতি কী হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কেসিসি নির্বাচন নিয়ে সব অভিযোগ স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গোচরে আনা হলেও, তারা এক চোখ বন্ধ করে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা অস্বীকার করে সরকারের কাছে পরাধীন হওয়ার জন্য আত্মসমর্পণ করেছে। নির্বাচন কমিশন সরকারেরই ফটোকপি। সরকারের ‘কম্প্রোমাইজড কপি’। সেই জন্য তাদের কারণে একতরফা নির্বাচনের জয়জয়কার।

রিজভী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততায় আওয়ামী ভোট-সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া, ভোটারদের ভোট কেড়ে নিতে বাধাহীন। এখন পর্যন্ত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভয়, ভীতি আর রক্তচ্ছটায় পরিব্যাপ্ত।”

এ সময় খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, দৌলতপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়ানা উত্তর পাড়া ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা ভোটারদের বের করে দিয়েছে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গনি বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের বের করে দিয়েছে।

রিজভী বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক দখল করে নেওয়া ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টির অধিক।

৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র-২৭৭ ও ২৭৮ লবণচোরা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আসাদুজ্জামান রাসেলের নেতৃত্বে কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০১ ও ২০২ কেন্দ্রে ইকবাল নগর বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা স্কুল কেন্দ্রে নৌকা মার্কায় জাল দেয়া হয়।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০ নম্বর কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ৩০ নম্বর রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭৫ ও ২৭৬ কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর ভোটার ও সমর্থকদের মারধর করে বের করে দিয়েছে।

এ ছাড়া ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২২০ নম্বর নূরানি বহুমুখী মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্র ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়া খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের সব এজেন্টকে বের করে দিয়ে সরকার দলের সমর্থকরা কেন্দ্র দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত