artk
১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

খালেদার জামিন বিষয়ে ফের শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩০৯ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৫ মে ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৫৭ ঘণ্টা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮


খালেদার জামিন বিষয়ে ফের শুনানি - রাজনীতি
ফাইল ফটো

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর আরো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বুধবার।

মঙ্গলবার দুপুরে এই শুনানি হয়।

এদিন জামিন বিষয়ে আদেশ দেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আবার যুক্তিতর্ক তুলে ধরার আবেদন জানালে আপিল বিভাগ অনুমতি দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

এর আগে ৯ মে এই আপিলের শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৫ মে দিন ঠিক করেছিলেন আপিল বেঞ্চ।

ওইদিন খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখার আর্জি জানিয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবীরা।

এর আগের দিন ৮ মে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।

পর দিন সকালে তিনি তার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে জামিন বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন খালেদার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

শুনানিতে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন ও সানাউল্লাহ মিয়াও ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

বুধবার শুনানিতে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন খালেদা জিয়ার জামিনের গুরুত্ব তুলে ধরে আদালতকে বলেন, “খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর। জেলখানায় চিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছি। তার হাত ফুলে উঠেছে। ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। কথাও বলতে পারছেন না। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, খালেদা জিয়া বিশ্রামে আছেন। মানুষের জন্য আদালত, আদালত সবকিছুই দেখবেন।”

তিনি আরো বলেন, “খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৩ বছর। আদালতের চোখ আছে, মন আছে, বিবেক আছে। পাবলিক পারসেপশন আছে। এই কোর্ট ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।”

এর আগে মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় দুদকের আইনজীবী বলেন, “আসামিরা বিশ্বাস ভঙ্গ করে টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে টাকা উত্তোলন করেন। এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার মতো যুক্তি রয়েছে। প্রধান আসামিকে (খালেদা জিয়া) নারী ও অসুস্থ, বয়স বিবেচনায় দেয়া হলো পাঁচ বছর, অথচ অন্য আসামিদের দেওয়া হয় ১০ বছর। এটা হতে পারে না। অথচ নিম্ন আদালতে কোনো মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখানো হয়নি।”

খুরশিদ আলম বলেন, “বরং প্রধান আসামি হিসেবে খালেদা জিয়ার সাজা আরো বেশি হওয়ার কথা। নারী ও অসুস্থতা বিবেচনায় উনার শাস্তি কমানোর সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “হাইকোর্ট বলেছে, চার মাসের জামিন দিলাম, এর মধ্যে আপিল তৈরি করতে হবে। আমার প্রশ্ন হলো, আপিল এর মধ্যে প্রায় তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তাই জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং আপিল শুনানি করে একসঙ্গে রায় ঘোষণা করা হোক।”

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। সেদিন থেকেই তিনি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে আছেন। এই মামলায় খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট চার মাসের অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। পরদিন ১৩ মার্চ জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। ওইদিন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

পরদিন ১৪ মার্চ হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন আদেশ ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করার নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ দুটি আপিলই শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত জামিনও স্থগিত করেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী গত ৮ এপ্রিল আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয় দুদক। ওইদিন জামিন স্থগিতের পাশাপাশি আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী মামলাটির শুনানি হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত