artk
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৬ মে ২০১৮, ৮:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ লাখ বাড়বে

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯০৩ ঘণ্টা, রোববার ২২ এপ্রিল ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩৪৭ ঘণ্টা, রোববার ২২ এপ্রিল ২০১৮


আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ লাখ বাড়বে - বিশেষ সংবাদ

দেশে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা আরো চার লাখ বাড়ানো হবে। বর্তমানে ৩৫ লাখ ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছে। চার লাখ বাড়ানো হলে তা ৩৯ লাখে উন্নীত হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় বছরে দুই হাজার ১শ কোটি টাকা করে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব আলী নূর বলেন, “বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি দেশের ৬৮ হাজার গ্রামের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এই ভাতা বেশ উপকারে আসে। আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার সংখ্যা আরো কমপক্ষে চার লাখ বাড়নো হতে পারে।”

প্রতিবছরই ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি জানান। প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা হারে এই ভাতা দেয়া হয়ে থাকে।

আলী নূর বলেন, “বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধি করে তাদের মনোবলকে জোরদার করণের লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই জন্য সরকারের জাতীয়, জেলা, মহানগর,উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। এই কমিটি বয়স্কদের মনোনয়ন করে ভাতা প্রদানের সুপারিশ করে থাকে। তারা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই টাকা উত্তোলন করে থাকেন।”

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব সাঈদা নাইম জাহান জানান, ১৯৯৭-৯৮ সালে এই কর্মসূচি যখন চালু করা হয় তখন ছিল মাত্র চার লাখ ৩০ হাজার। আর বর্তমানে তার সংখ্যা হচ্ছে ৩৫ লাখ। সরকারের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রতিবছরই এই সংখ্যা বাড়িয়ে থাকে। গত বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১ লাখ ৫০ হাজার লোক ভাতা পেতেন। বর্তমানে ৩৫ লাখ বয়ষ্ক লোক প্রতিমাসে ৫শ টাকা হারে বছরে ছয় হাজার টাকা করে ভাতা পান । এতে বছরে মোট ব্যয় হয় হাজার ১শ কোটি টাকা।

বেসরকারি সংস্থা প্রবীণ বন্ধুর নির্বাহী পরিচালক ডা. মহসীন কবির লিমন জানান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ প্রবীণ বা সিনিয়র সিটিজেন। ২০২৫ সাল নাগাদ প্রবীণদের সংখ্যা হবে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ, ২০৫০ সালে প্রায় সাড়ে চার কোটি এবং ২০৬১ সালে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, “২০৫০ সালের দিকে এদেশের ২০ শতাংশ নাগরিক প্রবীণ হবেন এবং শিশুসংখ্যা হবে ১৯ শতাংশ। আরও লক্ষণীয় তথ্য হলো, বিশ্বের সর্বত্র অতি প্রবীণ যাদের বয়স ৮০ বছরের ওপরে তাদের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত হারে। বাংলাদেশে বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর ছাড়িয়ে গেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বয়ষ্ক আর শিশু-কিশোরের সংখ্যা প্রায় সমান সমান হয়ে দাঁড়াবে। তাই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিনিয়র সিটিজেনদেরকে সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচির আওতায় আনতে এখনই সরকারের কর্মসূচির আওতার পরিধি সম্প্রসারণ করতে হবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য