artk
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৬ মে ২০১৮, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

নির্বাচনী প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ সংবিধান পরিপন্থি: বিএনপি

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১১ ঘণ্টা, শুক্রবার ২০ এপ্রিল ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৫১ ঘণ্টা, শনিবার ২১ এপ্রিল ২০১৮


নির্বাচনী প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ সংবিধান পরিপন্থি: বিএনপি - রাজনীতি

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারে যাওয়ার সুযোগ দেয়া স্পষ্টভাবে সংবিধানের লঙ্ঘন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। কুমিল্লার বিএনপি নেতা খোরশেদ আলমের স্মরণে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে মনজুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম, সাবেক সাংসদ আব্দুল গফুর ভূঁইয়া, আতাউর রহমান আঙ্গুর কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার মারুফ হোসেন, প্রয়াত খোরশেদ আলমের ছেলে আতিকুল আলমসহ চান্দিনা ও হোমনার বিএনপির নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

দুর্নীতি মামলার সাজায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, “এই মামলা ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মত প্রহসন করে ভোট ছাড়া জনগণ ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা বলতে চাই, অনেক পানি গড়িয়েছে। এখন ২০১৪ সাল নয়, এখন ২০১৮ সাল। ২০১৪ সালের মত নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না।”

২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর সরকারি সুবিধাভোগীদের নির্বাচনী সফর ও প্রচারে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মন্ত্রী-সাংসদের প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।

এ নিয়ে শুরু থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের দাবির মুখে সম্প্রতি স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের প্রচারে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। আমরা বলতে চাই, এটা স্পষ্টভাবে সংবিধানের লঙ্ঘন হবে, আইনের লঙ্ঘন হবে, নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে আবারো আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনারা স্বাধীন, আপনারা নিরপেক্ষ । আপনাদের যে বিধি, সেই বিধি যাতে লঙ্ঘন না হয়, সেটা আপনারা দেখবেন। অন্যথায় আগামী সংসদ নির্বাচন আপনারা (ইসি) নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে পারবেন না এমন সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।”

সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি আবারও তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা ইসিতে গিয়েছিলাম। তাদের বলেছি, এই দুটি সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আমরা শুনলাম এখন পর্যন্ত তাদের কোনো চিন্তাভাবনা নাই। আমরা আবারও বলতে চাই, আপনারা (ইসি) চিন্তায় আনেন। দুটি সিটি করপোরেশনের ভোটাররা নির্ভয়ে নিজের ভোটটা ইচ্ছামত দিতে পারবে না। এই দুটি সিটি নির্বাচন এই ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা।”

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা সারাদেশে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রকারান্তরে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেও প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ করেন খন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। তাহলে সেটা কী হয়? এই মিডিয়ার সৌজন্যে এটা সারাদেশের মানুষ জানতে পারে যে নৌকায় ভোট চাচ্ছে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনেও আওয়ামী লীগ নৌকায় ভোট চাচ্ছে। প্রকারান্তরে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দরা সিটি করপোরেশনেও ভোট চাচ্ছেন। এটা তারা চাইতে পারেন না।

এটা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত