artk
৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪২৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯০৪ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮


কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে - অর্থনীতি

আসন্ন বাজেটে কালো টাকা (অপ্রদশিত অর্থ) সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংস্থাটির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দিলে দেশের অর্থ পাচার হবে। একই সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য অন্যবারে মতো এবারেও একই নিয়মে জরিমানার বিধান রেখে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এটা অন্যভাবে দেখবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমে দেখা যায় স্থাপনা তৈরিতে রডের বিপরীতে বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে। এসব অনিয়ম রোধে সবাইকে সজাগ হতে হবে।”

এর আগে বিনা জবাবে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের নিঃশর্ত সুযোগ চায় রিহ্যাব।

রিহ্যাবে প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া দাবি জানিয়ে বলেন, “আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বহাল রেখে বিনিয়োগকৃত অর্থ আয়কর অধ্যাদেশের ১৯৮৪ এর ধারা ১৯বি ধারা সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।”

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া তাদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে আবাসন খাত জড়িত। বর্তমানে আবাসন শিল্প নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। আবার আবাসনে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ধারা ১৯বি অবিলম্বে পুনঃপ্রবর্তন করা হলে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাবে।”

কারণ বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে, এসব দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের অর্থের উৎস বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না। অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ওসব বিনিয়োগকারী ট্যাক্স-নেটের আওতায় চলে আসবে।

আয়কর হ্রাস করার দাবি জানিয়ে লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, “গত দুই বছর ধরে আবাসন শিল্প জটিল সংকট আবর্তিত হচ্ছে। তাই আগামী বাজেটে আবাসিক এলাকায় (গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল) প্রতিবর্গ মিটারে ব্যক্তি আয়কর ৫০০ টাকা ও অনাবাসিক এলাকায় (গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল) ১ হাজার টাকা, আবাসিক এলাকায় (ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, ডিওএইচএস, কাওরান বাজার, খুলশী, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ) আয়কর ৪৫০ টাকা এবং অনাবাসিক এলাকায় ৮০০ টাকা এবং অন্যান্য আবাসিক এলাকায় ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর তিনশ টাকা ও অনাবাসিক এলাকার ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা দাবি রাখেন।”

রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট কর ও ডিউটি হ্রাস করার প্রস্তাব করে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় উচ্চ থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে এ খাত থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই রেজিস্ট্রেশনে গেইন ট্যাক্স ২ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও রেজিস্ট্রেশন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ১ শতাংশ ও মূল্য সংযোজন কর ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার দাবি করা হয়।

একই সঙ্গে রাজউক ও সিডিএ এর আওতাভুক্ত ও বহির্ভূত এলাকার সব জমির ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩এইচ ধারায় প্রযোজ্য ৪ ও ৩ শতাংশ তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়া রিহ্যাব সিঙ্গেল ডিজিটে সুদে দীর্ঘমেয়াদী রিফাইন্যান্সিং চালু এবং ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন, সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ডেভেলপারদের ৫ বছরের অব্যাহতি দেওয়াসহ ১২টি দাবি জানায়।

এনবিআর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, কর্মকর্তা ও নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য