artk
১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮, ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মোবাইল কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১১৯ ঘণ্টা, সোমবার ১৬ এপ্রিল ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১৪২ ঘণ্টা, সোমবার ১৬ এপ্রিল ২০১৮


মোবাইল কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধের তাগিদ - অর্থনীতি

মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে দেশের রাজস্বের হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘসময় পার হলেও ওইসব কোম্পানিগুলো তাদের বকেয়া অর্থ রাজস্ব ভান্ডারে জমা দিচ্ছে না। সেইসব কোম্পানিগুলোর বকেয়া অর্থ পরিশোধের তাগিদ দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় সভাপতিত্বর বক্তব্যে চেয়ারম্যান এ তাগিদ দিয়েছেন। এসময় মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এ্যামটব) নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যামটব নেতারা একগুচ্ছ প্রস্তাব দেন।

এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “আপানাদের মধ্যে অনেক মোবাইল কোম্পানি রয়েছে লোকসান দেখিয়ে কর কম দিচ্ছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেবার অভিযোগও রয়েছে। তাদেরকে বলছি, আপনারা এসব বন্ধ করুন। কর কম বা ফাঁকি দেবার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসুন। পাশাপাশি সঠিক নিয়মে নিয়মিত কর প্রদান করুন।”  

কোম্পানিগুলোর বকেয়া কর দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আপনারা রাজস্ব মামলার জট না বাড়িয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে (এডিআর) আসুন। এখানে আপনাদের সমস্যা বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।“    

এদিকে, আলোচনা সভায় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও অন্যান্য ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে অ্যামটব। এছাড়া মোবাইল শিল্প বিকাশে বেশকিছু দাবি জানান সংগঠনটি। প্রাক-বাজেট সভায় অ্যামটবের পক্ষ বলা হয়, দাবিগুলো মানা হলে মোবাইল অপারেটররা প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেশব্যাপী ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কাজ আরও বেগবান হবে।

অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির বলেন, “বর্তমানে ইন্টারনেটের ওপর ২১.৭৫ শতাংশ হারে ভ্যাট, এসডি ও সারচার্জ প্রযোজ্য রয়েছে। যা গোটা দেশে তথ্য প্রযুক্তির প্রসারে বাধা পাচ্ছে। তাই ইন্টারনেটের আলো সবত্রে পৌঁছে দিতে আসন্ন বাজেটে ভ্যাট, এসডি ও সারচার্জের ওপরে কর সম্পূর্ণ অব্যহতির দাবি করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ইন্টারনেট মোডেমের ওপর আমদানী পর্যায়ে ৪ শতাংশ ও ক্রেতার কাছে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। ফলে অনেকেই এসব সুবিধা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে। তাদের প্রতিভা বিকাশ লক্ষে ইন্টারনেট মোডেমের উপরে আরোপিত ভ্যাট মওকুফ রাখার দাবি করছি।”  

অনুষ্ঠানে অন্য নেতারা বলেন, সব পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ভ্যাটসহ অন্য কর মুওকুফ করা জরুরি। ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ভ্যাট তুলে নিলে জনগণের কাছে তা সহজলভ্য হবে। এতে অপারেটরদের আয় বাড়াসহ তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে।

তারা আরও বলেন, “বতর্মানে সব মোবাইল অপারেটরদের প্রতিটি সিম বিক্রির জন্য ৩৬.৬৫ টাকা ভ্যাট ও ৬৩.৩৫ টাকা সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়, যা সম্মিলিতভাবে সিমট্যাক্স (১০০ টাকা) নামে পরিচিত। বাইরে সিম রিপ্লেসমেন্ট করতে হলে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হয় গ্রহককে। অ্যামটব তা পুরোপুরি তুলে দেয়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া করপোরেট কর কমানো, সর্বনিম্ন কর ৭.৫ থেকে অব্যহতিসহ আপিল ট্রাইব্যুনালের অমীমাংসিত কর হার ১০ শতাংশ করার দাবি করছি।”

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আপনাদের দাবিগুলো গুরুত্ব পাবে। তবে ইন্টানেটে ব্যবহারে মওকুফ বিষয়টি দেশে বিদ্যমান অন্যান্য ইন্টারনেট ব্যবসায়িদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”  

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য