artk
৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২০ এপ্রিল ২০১৮, ৬:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

উপাচার্যের টেবিলে ৯ লাখ টাকা রেখে দৌড়ে পালাল যুবক!

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৩৬ ঘণ্টা, রোববার ১৫ এপ্রিল ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৮০৯ ঘণ্টা, রোববার ১৫ এপ্রিল ২০১৮


উপাচার্যের টেবিলে ৯ লাখ টাকা রেখে দৌড়ে পালাল যুবক! - শিক্ষাঙ্গন

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে নয় লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার অভিযোগে এক চাকরিপ্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলাভবনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই চাকরিপ্রার্থীর নাম ইলিয়াস হোসেন (৩২)। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে।

অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেও তিনি এখনো তার পুরোনো কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে অবস্থিত বাংলা বিভাগে বসেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ বেলা ১১টার দিকে আমি আমার অফিসে ছিলাম। এ সময় ওই ছেলেটি (ইলিয়াস হোসেন) আসে। সে আমার টেবিলে একটি ব্যাগ রেখে বলে যে আপনার জন্য একটি গিফট আছে। ব্যাগে কী আছে জানতে চাইলে সে কিছু বলেনি। আমি ব্যাগ খুলে দেখি টাকা। আমি তাকে ধরে ফেলতে গেলে সে দৌড় দেয়। এ সময় কলাভবনের কয়েকজন ছাত্র তাকে ধরে আমার অফিসে নিয়ে আসে।”

এ ঘটনার পর পুলিশে খবর দেয়া হয় জানিয়ে বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, পুলিশ সদস্যরা গুনে দেখতে পান, ব্যাগটিতে নয় লাখ টাকা রয়েছে।

এরপর আটক ইলিয়াস হোসেনকে নিয়ে ডিন অফিসে যান অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সেখান থেকে ইলিয়াসকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি শুনে ডিন অফিসে যাই আমি। পরে ঘটনার সত্যতা পেলে ওই ব্যক্তিকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।”

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে বিশ্বজিৎ ঘোষ নিয়োগ পান গত বছরের জুনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সার্কুলার দেয়া হয়। ইলিয়াস তিনটি ‘অফিসার পদে’ আবেদন করেন। তার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের কাছে চাকরির জন্য ধরনা দিতে থাকেন।

এর আগেও একবার ইলিয়াস অধ্যাপক বিশ্বজিৎকে ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিতে চান এবং নানা সময়ে চাকরি চেয়ে মোবাইলে নানান ধরনের এসএমএস দেন, যেগুলোর প্রমাণও উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিতের কাছে আছে বলে জানান গোলাম সারোয়ার।

বিশ্বজিৎ ঘোষের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পেয়ে ইলিয়াস সর্বশেষ তার অফিশিয়াল গাড়ির চালকের সঙ্গে আঁতাত করেন। ওই চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি উপাচার্যের গতিবিধি লক্ষ করতেন বলেও জানা গেছে।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেন বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করার সময় একজনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে ডিন অফিস থেকে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসেন তারা। এ ঘটনায় এখনো মামলা করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য