artk
৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সিআইপি সুবিধা পাবেন ট্যাক্স কার্ডধারীরা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১৮ ঘণ্টা, রোববার ১৫ এপ্রিল ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯৫৮ ঘণ্টা, রোববার ১৫ এপ্রিল ২০১৮


সিআইপি সুবিধা পাবেন ট্যাক্স কার্ডধারীরা - অর্থনীতি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, “করদাতারা দেশের সন্মানিত নাগরিক। তাদের অর্থ দেশের অবকাঠামোসহ সব উন্নয়ন ব্যয় হয়ে থাকে। তাই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সব ধরনের সুবিধা দিতে চাই। একই সঙ্গে ট্যাক্স কার্ডধারীদের সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) সুবিধাও দেয়া হবে।”  

রোববার সকাল ১০টার দিকে  কর অঞ্চল-৪ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজস্ব হালখাতার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি কর অঞ্চল ৫ ও ৮-এর অফিস ঘুরে রাজস্ব হালখাতার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাজস্ব হালখাতায় এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে সর্বস্তরে রাজস্ব-বান্ধব সংস্কৃতি প্রচলন’।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “জোড় করে নয় বন্ধুত্ব স্থাপনের মধ্যে দিয়ে কর পরিবেশ তৈরি করতে চাই। করদাতারা ভয়ে নয় কর দিবে উৎসব পরিবেশে। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”   

তিনি আরও বলেন, “বাংলার অন্যতম উৎসব হচ্ছে হালখাতা। এ হালখাতায় করদাতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।”

বর্তমানে বকেয়া করের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি উল্লেখ করে তিন বলেন, “সামনে ওই বকেয়া রাজস্ব আদায় করা একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এগুলো চাপ দিয়ে নয় তাদের বুঝিয়ে রাজস্ব আদায় করতে হবে। কারণ তাদের ওই অর্থ দেশের উন্নয়নে কাজে লাগে।”

এদিকে, রোববার এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটসহ (ভ্যাট) ওই এলাকার বিভিন্ন কর অঞ্চল ঘুরে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। হালখাতার উৎসবে গ্রামবাংলার ঐহিত্য মাটির হাঁড়ি, কলা গাছ, কুলো, হাতপাখা, মুখোশ, হাতির গেট আর রঙ-বেরঙের কার্টুনে সাজানো হয় এনবিআরের প্রতিটি কর অফিস। বাংলার আদলে সু-সজ্জিত করা হয়েছে কর অঞ্চলের গেইটগুলো।

সব অঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে এনবিআরের অধীন সব আয়কর ও ভ্যাট অফিসে উৎসবের আমেজে করদাতাগণের কাছ থেকে বকেয়া রাজস্বের চালান ও পে-অর্ডার গ্রহণ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনী সমিতির সৌজন্যে সুধীজনকে বিখ্যাত লেখকদের বই উপহার প্রদান করা হচ্ছে।

বকেয়া কর আদায়ের মধ্যে  বিভিন্ন কর অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে বৃহৎ করদাতা ইউনিট থেকে ৩০ কোটি টাকা, বৃহৎ করদাতা ইউনিট থেকে (ভ্যাট) ৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এসময় করদাতাদের মাটির সানকিতে দেয়া হয় মিষ্টি, বাতাসা, নারিকেলের নাড়ু, সন্দেশ, খৈ, কদমা, মুরালি, নিমকি, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, তিলের খাজা, সুন্দরী পাকন পিঠা, শাহী পাকন পিঠা, নকশি পিঠা, ঝিনুক পিঠা, স্পঞ্জ রসগোল্লা, দই, ডাবের পানি, তরমুজ, পেয়ারা, বরই ইত্যাদি।

২০১৭ সালে প্রথম বছরের মতো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ‘রাজস্ব হালখাতা’  আয়োজন করে এনবিআর। তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবারের আয়োজিত হালখাতায় আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসে সারা দেশে মোট ৫৬৬ কোটি টাকা বকেয়া রাজস্ব আদায় করে সংস্থাটি। এর মধ্যে আয়কর থেকে ৩০৬ কোটি, কাস্টমস থেকে ২০৭ কোটি এবং মূসক বা ভ্যাট থেকে ৫৩ কোটি টাকা আদায় হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য