artk
৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বিমান দুর্ঘটনা: শাওন জানে না শশী নেই

মো. সো‌হেল রানা খান, মা‌নিকগঞ্জ | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৮৫৯ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ২০ মার্চ ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৪১২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ২০ মার্চ ২০১৮


বিমান দুর্ঘটনা: শাওন জানে না শশী নেই - জাতীয়
তাহিরা তানভিন শশী রেজা ও রেজওয়ানুল হক শাওন

বিবাহ বা‌র্ষিকী পালন করতে স্বামী-স্ত্রী যাচ্ছিলেন নেপালের কাঠমান্ডু। কিন্তু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার আগেই তাদের বহনকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে প্রাণ হারান স্ত্রী তাহিরা তানভিন শশী রেজা। আর ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে প্রথ‌মে নেপালের ওএম হাসপাতালে ও প‌রে সিংগাপু‌রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্বামী ডা. রেজওয়ানুল হক শাওন।

স্বামীর সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে নেপাল থেকে লাশ হয়ে ফিরে এলেন স্ত্রী শশী রেজা।

মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে আনা হবে তার মরদেহ। স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
কিন্তু শেষ বিদায় বেলায় স্ত্রীকে এক নজর দেখা তো দূরে থাক তার মৃত্যুর সংবাদটিও জানেন না স্বামী ডা. রেজওয়ানুল হক শাওন। চিকিৎসকদের নির্দেশেই সিঙ্গাপু‌রে চিকিৎসাধীন স্বামী শাওনকে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়নি। নেপা‌লের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে বাংলাদেশের যে ৩২ জন যাত্রী ছিলে, তার মধ্যে মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটুরিয়া উপ‌জেলার এই দম্প‌তি ছিলেন।

মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়া উপ‌জেলার বরাঈদ ইউনিয়‌নের গোপালপুর গ্রা‌মের ডা. আলী রেজার মেয়ে তাহিরা তানভিন শশী রেজা সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রা‌মের ডা. মোজাম্মেল হকের ছেলে ডা. রেজওয়ানুল হক শাওনের বিয়ে হয় প্রায় সাতবছর আগে। গোপালপু‌রে বা‌ড়ি হ‌লেও শশীর প‌রিব‌ার মা‌নিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ও রেজওয়ানুল হ‌কের প‌রিবার ঢাকা‌য় থাকে।

তাহিরা শশী বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে স্বামীর সাথে নেপাল যাচ্ছিলেন। ফেসবু‌কে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যাত্রা শুরু বলে। কে জানত এ যাত্রা হবে তার শেষ যাত্রা।

‌গি‌য়েছি‌লেন বেসরকারী উড়োজাহাজে ক‌রে, ফি‌রে এলেন বিমানবা‌হিনীর বি‌শেষ উড়োজাহাজে প্রাণহীনভা‌বে।
নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৩ জনে সা‌থে তাহিরা তানভিন শশী রেজার মর‌দেহ দেশে নিয়ে আসার পর ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে তাদের জানাজা হয়েছে। নেপালে অনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে তাদের কফিন ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও শশীর লাশ গ্রামের বাড়ি আনা হয়নি।
শশীর মামা শহিদুল ইসলাম পুলক জানান, রাতে সিএমএইচের হিমঘরে শশীর মরদেহ রাখা হবে। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় আনা হবে। বাদ জোহর সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা। এরপর সেওতা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ডা. আলী রেজার একমাত্র সন্তান তাহিরা তানভিন শশী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজি বিষয়ে মাস্টার্স করছিলেন। তার স্বামী ডা. রেজওয়ানুল হক রংপুর মেডিক্যাল কলেজে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি মা‌নিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে।

ডা. শাওনের মামা আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, শাওনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাকামুক্ত। তবে চিকিৎসকদের নির্দেশে তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়নি। বলা হয়েছে, অন্য একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সোমবার ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য