artk
৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মাদকাসক্ত সুমনের শিকল বন্দি জীবন

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৪৯ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮


মাদকাসক্ত সুমনের শিকল বন্দি জীবন - জাতীয়

একমাস আগেও কর্মঠ প্রাণবন্ত এক যুবক হিসেবে পরিচিত ছিল সুমন হাসানাত শাওন। যাকে সবাই সুমন নামেই চেনে। ওয়ার্কসপের মিস্ত্রি হিসেবে উপার্জন করতেন তিনি। এখন তার জীবন শিকলে বন্দি আবস্থায়।

বাবা-মাসহ প্রতিবেশিদের ধারণা, মাদকাসক্ত হয়ে আজকে সুমনের এই অবস্থা। মাদকসহ ইয়াবায় তার এমন সর্বনাশা দশা। এখন তার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে সুমনকে নিয়ে গোটা পরিবার শঙ্কায় আছেন।

মা জেসমিন বেগম এবং বাবা শহীদ হোসেন জানান, ২২/২৩ দিন আগে থেকে সুমন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। প্রতিবেশি থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব সকলের সঙ্গে গালিগালাজ থেকে শুরু করে অপ্রকৃতস্থ আচরণ করতে থাকে। অনেকে বেধড়ক মারধর করেছে। শরীরে অসংখ্য ক্ষতের দাগ ফুটে আছে। কোনো উপায় না পেয়ে অসহায় বাবা-মা ঘরের চৌকির ওপরে এক পা শিকলে বেধে ঘরের খুঁটির সঙ্গে তালা দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ঠিকমতো খাওয়া নেই, ঘুম নেই। অশ্রাব্য গালিগালাজ করে যাকে পায় তাকে। আর মুখে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের খত অংশ বলছে।

তারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চায়। নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা দাবি করছে। কাগজ পেলেই বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়ার কথা বলে লিখতে থাকে।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ পুকুরের পূর্বদিকে একটি জীর্ণদশার টিনশেড বাড়িতে বসবাস সুমনের। বাবা শহীদ হোসেন প্রতিবন্ধী। তারপরও মাছ কিনে বিক্রি করে কিছু রোজগারের চেষ্টা করছেন। মা বিভিন্ন বাড়িতে একাজ-ওকাজ করে বেড়ায়। এদম্পতির তিন সন্তানের বড় সুমন এখন অপ্রকৃতস্থ। হঠাৎ করে মাথায় বজ্রাঘাত পড়ার অবস্থা। আড়াই বছর আগে সুমনকে বিয়ে করিয়েছেন। ছেলেবউ এবছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সেও এখন তার বাবার বাড়িতে। জীবন গড়ার শুরুতেই যেন বড় ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির কবলে পড়লেন তিনি।

দরিদ্র পরিবারের সুমনের এখন দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। নইলে সারা জীবনের মতো অপ্রকৃতস্থ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন অসহায় বাবা-মা।

সোমবার দুপুরে বাসায় গেলে সুমনের বাবা-মা অঝোর ধারায় কান্না জুড়ে দেন। সঙ্গদোষে তার ছেলের এমন পরিণতি বলে তাদের ধারণা। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যথাযথ চিকিৎসাসহ পুনর্বাসন করা হলে আবারও তাদের ছেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে মতামত ব্যক্ত করলেন এই দরিদ্র দম্পতি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/জেআর/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত