artk
১২ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ জুন ২০১৮, ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

বিমান দুর্ঘটনা: শশী-রেজাওয়ানুলের বাড়ি মা‌নিকগ‌ঞ্জে

মা‌নিকগঞ্জ সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০২৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৪৫৭ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮


বিমান দুর্ঘটনা: শশী-রেজাওয়ানুলের বাড়ি মা‌নিকগ‌ঞ্জে - জাতীয়

নেপা‌লের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে বাংলাদেশের যে ৩২ জন যাত্রী ছিল, তার মধ্যে মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটুরিয়া উপ‌জেলার স্বামী-স্ত্রী দুই জন ছিল। বিমানটি বিধ্বস্ত হলে প্রাণ হারায় মা‌নিকগ‌ঞ্জের মে‌য়ে তাহরিনা তানভিন শশী রেজা। আর এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে নেপালের ওএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তার স্বামী মা‌নিকগ‌ঞ্জের সন্তান রেজাওয়ানুল হক।

তারা বিবাহবার্ষিকী পালনের উদ্দেশে নেপাল যাচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়া উপ‌জেলার বরাঈদ ইউনিয়‌নের গোপালপুর গ্রা‌মের ডা. আলী রেজার মেয়ে তাহিয়া শশীর সাথে তার চাচাতো ভাই সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রা‌মের ডা. মোজাম্মেল হকের ছেলে রেজাউনুল হকে বিয়ে হয় ৭ বছর আগে। গোপালপু‌রে বা‌ড়ি হ‌লেও শশীর প‌রিব‌ার মা‌নিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ও রেজাউনুল হ‌কের প‌রিবার ঢাকা‌তে থাক‌তো।

তাহিরা শশী বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে স্বামীর সাথে নেপাল যাচ্ছিল। ‌ফেসবু‌কে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যাত্রা শুরু বলে। কে জানত এ যাত্রা হবে তার শেষ যাত্রা।

আগামী ২৫ মার্চ রেজাউনুল হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী তাহিয়া শশীর ৭ম বিবাহবার্ষিকী ছিল। সে উপলক্ষে তারা যাচ্ছিলেন নেপালের কাঠমান্ডুতে। কিন্তু কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার আগেই তাদের বহনকারী ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হলে প্রাণ হারায় তাহিয়া শশী। আর এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে নেপালের ওএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্বামী রেজাউনুল হক।

রেজাউনুল হক শাওনের মামা আসাদুজ্জামান জানায়, আগামী ২৫ মার্চ তাদের বিয়ের ৭ম বছর পূর্ণ হবে। এই দিনটি একটু আলাদাভাবে পালন করতে সোমবার ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে নেপালের কাঠমান্ডুতে যাচ্ছিল ওই দম্পত্তি। কিন্তু নেপালে বিমান ল্যান্ড করার আগেই বিমান দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তাহিয়া শশী।

বিমান দুর্ঘটনার নিহত শশীর মানিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সুনশান নিরবতা বিরাজ করছে। বাড়িতে দুইজন কাজের মেয়ে ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি। ত‌বে প‌রি‌চিত কেউ কেউ ও প্রতি‌বে‌শীরা আস‌ছে খোঁজ-খবর নি‌তে।

কা‌জের মে‌য়েরা জানায়, সোমবার টে‌লি‌ভিশ‌নের মাধ্যমে বিমান দুর্ঘটনার খবর জানতে পা‌রে শশীর বাবা মা। প‌রে বি‌কে‌লে তারা ঢাকায় চলে যান।

সাটু‌রিয়ার গোপালপুর গ্রা‌মের শশী ও রেজাউনুল হকের প্রতিবে‌শীরা জানায়, গোপালপু‌রে বা‌ড়ি হ‌লেও শশীর প‌রিব‌ার মা‌নিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ও রেজাউনুল হ‌কের প‌রিবার ঢাকা‌তে থাক‌তো। তারা ঈদ ও বি‌ভিন্ন অনুষ্ঠা‌নের সময় গোপালপুর গ্রা‌মের বা‌ড়ি‌তে আস‌তো।

উল্লেখ্য, ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপালের সেনাসূত্রে জানা গেছে, ৫০ জন নিহত হয়েছেন এ দুর্ঘটনায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য