artk
৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গল্প
গলির মোড়ের ছেলেটি

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২৩৭ ঘণ্টা, শনিবার ০৩ মার্চ ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩০৩ ঘণ্টা, শনিবার ০৩ মার্চ ২০১৮


গলির মোড়ের ছেলেটি - শিল্প-সাহিত্য

কলাবাগানে একটা নুতন টিউশনি পেলাম। দুইবোন একজন এ লেভেল অন্যজন ক্লাস সেভেন এ পড়ে। সন্ধ্যার পর অফিস শেষে খুব ক্লান্ত হয়ে বেরিয়ে বাস ধরে কলাবাগানে নামি। তারপর গলির মোড়ে একটা রেস্টুরেন্টে চা খেয়ে পড়াতে যাই।

একদিন রেস্টুরেন্টে চা খাচ্ছি এমন সময় কোকড়ানো চুল লম্বা আর ফর্সা চেহারার একটা ছেলে এসে আমার উল্টা দিকের চেয়ারটায় বসে বলল, স্যার আপনার ছাত্রীকে এই চিঠিটা পৌঁছে দেবেন। এই বলে একটা খাম টেবিলের উপর রাখলো।

আমি ঘটনার আকস্মিকতায় কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ সন্বিত ফেরে পেয়ে একটু সাহস করে জোর গলায় বললাম, তুমি ভুল জায়গায় নক করেছ। তোমার এই বয়সে ঠিকমতো পড়ালেখা করা উচিত। মাথা থেকে এইসব আজেবাজে চিন্তা মুছে ফেলে পড়ালেখায় মন দাও। এই বলে আমি তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম।

পেছন থেকে ছেলেটার অন্য দুই ফ্রেন্ড বলে উঠলো, স্যার কাজটা ভালো করলেন না, এর খেসারত দিতে হবে।

এই ঘটনার পর একবার ভাবলাম টিউশনিটা ছেড়ে দেই। আবার ভাবলাম কেন এই পুচকে পোলাপানের কাছে পরাজয় মেনে নেব। তাছাড়া আমি টিউশনিটা ছেড়ে দিলে অন্য স্যারের পেছনে ওরা ঠিক এইভাবেই লাগবে।

এইভাবে সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে আর একদিন ওই ছেলেটির দুই বন্ধু আবার পথ আটকে চিঠিটা জোর করে আমার পকেটটে গুজে দেবার জন্য জোরাজুরি করতে লাগলো। ঠিক ওই সময়ে ছেলেটা এসে আমাকে ওর বন্ধুদের হাত থেকে বাঁচালো।

এতে করে আমিও কিছুটা সাহস ফিরে পেলাম। তারপর থেকে ছেলেটাকে গলির মোড়ে খুব একটা দেখতাম না। ক'মাস পরে একরাতে টিউশনি থেকে ফিরছি, কোনো রিকশা পাচ্ছিলাম না। কারণ ওইদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল।

অনেক দূর হেঁটে যখন মেইন রাস্তায় উঠে এসেছি তখন কোথা থেকে একটা কালো রঙের মোটরসাইকেল আমার পাশে এসে থামল। সম্বিত ফিরে পেতেই চালকের আসনে বসা ওই ছেলটা বলল, স্যার উঠে আসেন আপনাকে নামিয়ে দেই। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আর লম্বা পথ হেঁটে যেতে হবে ভেবে ছেলেটার বাইকে উঠে বসলাম। তারপর বেশ কয়েক মাস ছেলাটা বা তার বন্ধুদের সাথে দেখা না হওয়ায় হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। 

বছরখানেক পর একদিন পত্রিকায় পড়লাম কলাবাগান এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে একটি ছেলে মারা গেছে। শিক্ষাবোর্ডের মেধা তালিকায় দশ এর মধ্যে ছিল ছেলেটি। ইনসেটে ওই ছেলেটির কোকড়ানো চুলের ছবি দেখে চমকে উঠলাম। এরপরও অনেকদিন ওই গলি ধরে পড়াতে গেছি আবার ফিরে এসেছি কিন্তু গলির মোড়ের ছেলেটিকে আর দেখতে পাইনি।

লেখক: নাইম আবদুল্লাহ, সিডনি প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য