artk
৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

‘ভারতের পূর্বেও সেই পাকিস্তান’

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১১৪ ঘণ্টা, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩০৬ ঘণ্টা, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮


‘ভারতের পূর্বেও সেই পাকিস্তান’ - রাজনীতি

ভারতের পশ্চিমে যেমন পাকিস্তান, পূর্বেও ছিল পাকিস্তান। একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলে নবীন দেশটি পাকিস্তানের চির শত্রু ভারতের অন্যতম বন্ধু হয়ে ওঠে। যুদ্ধে ভারতের অবদান এদেশের মানুষ এখনো কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে। কিন্তু ভারতের পূর্ব দিকে এখনো ভৌগোলিকভাবে না হলেও রাজনৈতিকভাবে ‘সেই পাকিস্তান’ রয়েছে- এ কথা ভারতকে মনে করিয়ে দিতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সামনে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন, তাই এই ‘সাবধান বাণী’ দিয়ে নির্বাচনে সহযোগিতা পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ২০০১ সালের ভোটে ভারতের সহযোগিতা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

শনিবার ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এসব কথা উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তার বাড়তি পানি মেলেনি। রোহিঙ্গা সমস্যায় সেভাবে পাশে পাওয়া গেল না বলে রয়েছে অভিমানও। বিপুল বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে আক্ষেপেরও অন্ত নেই। কিন্তু ভারতের বন্ধুত্বকে কোনো মূল্যেই হারাতে চায় না বাংলাদেশ।

এতে আরো বলা হয়, শাসক দল আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাই বলেছেন, “জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ভারতকে ছাড়া আমাদের চলবে না। আমাদের স্বাধীনতায় ভারতীয় সেনাদের রক্তঋণ রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সে ঋণ ভুলতে পারেন না!”

প্রতিবেদনে বলা হয়, দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারি স্তরে তৎপরতা তো রয়েছেই। তার পাশাপাশি মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে দুদেশের সাংবাদিকদের মত বিনিময়ের মতো ‘ট্র্যাক টু’ কূটনীতির একটি উদ্যোগ নজর কেড়েছে ঢাকার একটি পরিচিত ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ ইনস্টিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (আইসিএলডিএস)-এর উদ্যোগে। তিনটি ভাগে গত নয় বছরে দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমন্বয় নিয়ে আলোচনায় যেমন উঠে এসেছে ভিন্নমতের বিষয়গুলো, তেমনই সেগুলো কাটিয়ে ওঠার কিছু পন্থা প্রকরণও। ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নিজে উপস্থিত থেকে গোটা একটি বেলা আলোচনা শুনেছেন, নোটও নিয়েছেন। ১৯ থেকে ২১— তিন দিনের অনুষ্ঠানে আগাগোড়া উপস্থিত থেকেছেন হাইকমিশনের পদস্থ কর্মকর্তারা।

ছিলেন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও আমলারা। উপস্থিত ভারতীয় সাংবাদিকদের সাদরে আপ্যায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি বলেছেন, “উন্নয়নের পথে চীন আমাদের নতুন বন্ধু। কিন্তু ভারতের বন্ধুত্বের সঙ্গে তার তুলনাই হয় না। ভারত সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বন্ধু।”

শুধু এক বার, ২০০১-এ ভারতের সহযোগিতা যে তিনি পাননি, তাও উল্লেখ করতে ছাড়েননি শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদেরের কথায়, “মনে রাখা দরকার, আমরা না থাকলে ভারতের পশ্চিমেও থাকবে পাকিস্তান, পুবেও সেই— পাকিস্তানই!”

তার কথায়, ভোটের তাগিদে কখনও কখনও কিছু নমনীয় পথ সরকারকে নিতে হচ্ছে। তবে কাদেরের কথায়, “বঙ্গবন্ধুর কন্যা কখনও মৌলবাদের সঙ্গে আপস করবেন না, এ ব্যাপারে আপনারা চোখ বুজে ভরসা রাখুন।”

আইসিএলডিএস-এর এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুর রশিদের কথায়, যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, তাকে ধরে রাখাই আজ এ দেশের কাছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানুষের বড় ভরসা বন্ধু ভারতের পাশে থাকাটা।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত