artk
১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ জুন ২০১৮, ৩:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

এখন জাতির জন্য একটা পরীক্ষার সময়: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২০৭ ঘণ্টা, শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৩৫ ঘণ্টা, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮


এখন জাতির জন্য একটা পরীক্ষার সময়: ফখরুল - রাজনীতি

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপি যে ‘সংগ্রাম’ করছে, তা পুরো জাতির জন্যই ‘একটি বড় পরীক্ষা’ বলে মনে করেছেন দলটির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখন একটা পরীক্ষার সময়। এত বড় পরীক্ষা আগে জাতিকে কখনো দিতে হয়নি।”

শুক্রবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন মন্তব্য আসে।

তিনি বলেন, “আজকে এই যে সংগ্রাম আমরা করছি, এই সংগ্রাম বিএনপির জন্য সংগ্রাম নয়, এই সংগ্রাম বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবার সংগ্রাম নয়। এই সংগ্রাম দেশকে রক্ষা করবার সংগ্রাম, গণতন্ত্রকে রক্ষা করবার সংগ্রাম, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার সংগ্রাম।

ফখরুলের দাবি, কঠিন এই পরীক্ষার সময়েও বিএনপি অতীতের তুলনায় ‘অনেক বেশি’ শক্তিশালী।

“তাদের (সরকার) অনেক আশা ছিল, দেশনেত্রীকে আটক করলেই বোধহয় বিএনপি ভেঙে যাবে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, বিএনপি ভাঙেনি; বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে।”

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ বলেও দাবি করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, তাদের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা দেওয়া হয়েছে, কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তা চলতে পারে না।

“এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। দেশনেত্রী কারাগারে যাবার আগে বলেছিলেন, ‘তোমরা আন্দোলন করবে, সেই আন্দোলন হবে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ। ধৈর্য্য ধরবে, ধৈর্য্যের সাথে মোকাবিলা করে বিজয় অর্জন করতে হবে। ”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার যতই ‘উসকানি’ দিক, যতই ‘ফাঁদ’ পাতুক, তাতে পা দেওয়া চলবে না।

“আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে মুক্ত করব।”

আলোচনা সভা থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, শনিবার বেলা ১১টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করা হবে।

২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ করতে না পেরে বিএনপি গত বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে’ শাস্তি দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল।

কিন্তু জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের সাজার রায় নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর খালেদার ভাবমূর্তি ‘অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে’ বলে মোশাররফের দাবি।

তিনি বলেন, “সরকারের সব খায়েশ সম্পূর্ণ বুমেরাং হয়ে গেছে। আমরা বলতে চাই, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন। এরপর আমাদের বড় আন্দোলন সামনে আছে। দেশে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার কায়েম করে সেই সরকারের অধীনে দেশনেত্রীকে নিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে।”

সেই আন্দোলনের ‘সব ধরনের প্রস্তুতি’ নিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা।

শহীদ দিবস উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির এই আলোচনা সভার পর কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি গান গেয়ে শোনান কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, মনিরুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আনজু, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত